📄 তাকওয়ার বিভিন্ন উপমা
৭৮০. ইবনু ইসাম বলেন, “আমি সাহলকে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ ছাড়া কেউ সাহায্যকারী হতে পারে না। নবি ছাড়া কেউ পথপ্রদর্শনকারী হতে পারে না। তাকওয়া ছাড়া অন্য কিছু পাথেয় হতে পারে না। অধ্যবসায় ছাড়া কোনো আমল হতে পারে না।”[৫৯]
৭৮১. আসমায়ি বলেন, "আমার পিতা এক গ্রাম্য লোককে বলতে শুনেছেন: 'যে ব্যক্তি দীর্ঘ সুস্বাস্থ্য কামনা করে, সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।'
৭৮২. আবূ বকর রাযি বলেন, “আমি আবূল হুসাইন যানজানিকে বলতে শুনেছি: 'যার মূলধন হবে তাকওয়া, তার লাভের পরিমাণ বর্ণনা দেওয়া মানুষের মুখের পক্ষে সম্ভব নয়।”
৭৮৩. ইবরাহীম ইবনু ফাতিক বলেন, "আমি নাহারজুরিকে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়া হলো সমুদ্র, পরকাল হলো তার তীর। এর জাহাজ হলো তাকওয়া আর মানুষ হলো সফর।” [৫০০]
৭৮৪. সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণিত, লুকমান হাকিম তার ছেলেকে বলেছেন : “বাপজান! এই দুনিয়া আসলে এক গভীর সমুদ্র, বহু মানুষ ডুবে গেছে তাতে। তাই তাকওয়াকে এ সমুদ্রের জাহাজ বানাও। আল্লাহর ওপর ঈমানকে বানাও এর পাথেয়। আর তাওয়াক্কুলকে বানাও পানি পানের ঘাট। তাহলে হয়তো রক্ষা পাবে।”
৭৮৫. আবূ বকর রাযি বলেন, “মুহাম্মাদ ইবনু আলি আল কাত্তানিকে বলতে শুনেছি : 'বিপদাপদ দিয়ে দুনিয়াকে ভাগ করা হয়েছে। আর জান্নাতকে ভাগ করা হয়েছে তাকওয়ার মাধ্যমে।"
৭৮৬. মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত আছে, দাউদ আত তায়ি বলেছেন : “আল্লাহ তাআলা যে ব্যক্তিকে পাপাচারের লাঞ্ছনা থেকে তাকওয়ার সম্মান দান করেন, তাকে তিনি অর্থ-সম্পদ ছাড়াই ধনী করে তোলেন, আত্মীয়-স্বজনের সহায়তা ছাড়াই সমবেদনা জানান, বন্ধু-বান্ধব ছাড়াই তার নিঃসঙ্গতা দূর করেন." [৫০১]
টিকাঃ
[৫২৯] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২১১。
[৫৩০] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৩৮০。
[৫০১] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/৩৫৬。
📄 তাকওয়ার মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি অর্জন
৭৮৭. আবূ আবদির রহমান বলেন, “আমি আবুল কাসিম নসর আবাযিকে বলতে শুনেছি: তাকওয়া হলো হকের লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ
'কখনোই এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”[৫৩২]
৭৮৮. আবূ বকর রাযি বলেন, “আমি আবূ মুহাম্মাদ জারিরিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি মুরাকাবা এবং তাকওয়াকে নিজের এবং আল্লাহ তাআলার মাঝে বিচারক বানায় না, সে কাশফ এবং মুশাহাদার স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।"
৭৮৯. আল্লাহ তাআলার বাণী : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانَا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করো, তবে আল্লাহ তোমাদের ন্যায়-অন্যায় ফায়সালা করার শক্তি দেবেন। "[৫৩৩]
জাফর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু নুসাইর খলাদি বলেন, "আমি আবুল কাসিম জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি, 'যখন কেউ আল্লাহকে ভয় করে তখন আল্লাহ তাআলা তাকে হক ও বাতিলের পার্থক্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান দান করেন।' তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'তাকওয়া কি হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য নিরূপণকারী নয়?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই। প্রথমটা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত আর দ্বিতীয়টা মানুষের অর্জন। তাই কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে অনেক জটিল বিষয় সহজে বুঝতে সক্ষম হয়। এমনকি এর ফলে ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্যও অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে উঠে তার কাছে।”
টিকাঃ
[৫৩২] সূরা হাজ্জ, ২২: ৩৭。
[৫৩৩] সূরা আনফাল, ৮: ২৯。
📄 যিকর ও আমলের ভিত্তি
৭৯০. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, “আমি আবূ উসমান আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি তাকওয়া এবং জ্ঞানের ওপর আপন প্রাসাদ নির্মাণ করে, তার যিকর-আযকার এবং আমলগুলো নির্মল এবং স্বচ্ছ হয়ে উঠে। আল্লাহভীতি তার মধ্যে এমনভাবে প্রবেশ করে যে, সে বুঝতেও পারে না।”
📄 তাকওয়া লজ্জার নিজের প্রতিই যথেষ্ট
৭৯১. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, "আবু উসমান আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি: 'তাকওয়া হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা অনুসরণ করে চলা, এতে কোনোরূপ ত্রুটি না করা এবং সীমালঙ্ঘন না করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ
যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে, সে নিজের ওপরই যুলুম করে।”[৫৩৪][৫৩৫]
টিকাঃ
[৫৩৪] সূরা তালাক, ৬৫: ১。
[৫৩৫] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৪৮১。