📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আল্লাহর বদলে মানুষকে ভয় করার অসারতা

📄 আল্লাহর বদলে মানুষকে ভয় করার অসারতা


৭১১. হিশাম ইবনু উরওয়া তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আয়িশা মুয়াবিয়ার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, "আমি আপনাকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের ওসিয়ত করছি। যদি আল্লাহকে ভয় করেন, তাহলে এটাই সকল মানুষের বিপরীতে আপনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে যদি মানুষকে ভয় করেন, তাহলে তারা আপনার কোনো উপকারই করতে পারবে না। তাই, আল্লাহকে ভয় করুন।[৫২২]

৭১২. শাবি থেকে বর্ণিত, মুয়াবিয়া ইবনু আবী সুফিয়ান আয়িশা -এর কাছে চিঠি লিখে বলেন, "আমাকে এমন একটি বিষয় লিখে দিন, যা আপনি নবি -এর কাছ থেকে শুনেছেন।" আয়িশা -কে বলতে শুনেছি : তার উত্তরে লিখেন, “নবি
مَنْ يَعْمَلْ بِغَيْرِ طَاعَةِ اللَّهِ يَعُوْدُ حَامِدُهُ مِنَ النَّاسِ ذَامًا 'যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করবে, তার প্রশংসাকারীরাই তার নিন্দুক বনে যাবে।”[৫২৩]

৭১৩. আয়িশা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন :
مَنْ أَرادَ سَخَطَ الله وَ رِضَا النَّاسِ عَادَ حَامِدُهُ مِنَ النَّاسِ ذَامًا “যে আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি এবং মানুষের সন্তুষ্টি চায়, তার প্রশংসাকারীরাই তার নিন্দুক হয়ে যায়।”[৫২৪]

৭১৪. আয়িশা বলেন, "আমি নবি-কে বলতে শুনেছি :
مَنْ آثَارَ مَحَامِدَ اللَّهِ عَلَى مَحَامِدِ النَّاسِ كَفَاهُ مَؤُنَةَ النَّاسِ “যে ব্যক্তি মানুষের প্রশংসার চেয়ে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা পাওয়াকে প্রাধান্য দেয়, মানুষের (প্রশংসা আদায় করে দেওয়ার) ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। "[৫২৫]

৭৭৫. আয়িশা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
مَنْ أَرْضَى اللَّهَ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللهُ النَّاسَ وَمَنْ اسْخَطَ اللَّهَ بِرِضَاءِ النَّاسِ وَكَلَهُ اللهُ إِلَيْهِم
“যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, মানুষের ব্যাপারে তার জন্য আল্লাহ তাআলা যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের হাতে ছেড়ে দেন।”[৫২৬]

৭৭৬. তাওবা আল আম্বারি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালিহ ইবনু আবদির রহমান একদিন আমাকে সুলাইমান ইবনু আবদিল মালিকের নিকট নিয়ে যান। সুলাইমানের সাথে দেখা করে আমি উমার ইবনু আবদিল আযীযের নিকট যাই। তাকে জিজ্ঞেস করি, সালিহের নিকট কি আপনার কোনো প্রয়োজন আছে? তিনি বলেন, তুমি গিয়ে তাকে বলবে, আল্লাহর নিকট আপনার জন্য যা অবশিষ্ট রয়েছে, আপনি সেটা আঁকড়ে থাকুন। কেননা, আল্লাহর নিকট যা অবশিষ্ট রয়েছে সেটা মানুষের নিকটও অবশিষ্ট থাকবে। আর আল্লাহর নিকট যা অবশিষ্ট নেই মানুষের নিকটও সেটা অবশিষ্ট থাকবে না। [৫২৭]

৭৭৭. সাঈদ ইবনু আশওয়া থেকে বর্ণিত, ইয়াজিদ ইবনু সালামা আল জুফি বলেছেন: "ইয়া রাসূল্লাল্লাহ! আমি আপনার থেকে অনেক হাদীস শুনেছি। কিন্তু তার প্রথম অংশ মনে রাখতে গিয়ে শেষ অংশ ভুলে যাই। তাই আপনি আমাকে একটি সমৃদ্ধ বাক্য বলে দিন।” তিনি তখন বলেন:
إِتَّقِ اللَّهَ فِيْمَا تَعْلَمُ
"তোমার জানা বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো।”[৫২৮]

৭৭৮. ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামান থেকে বর্ণিত আছে, ইবনুল ইফরিকি একবার সুফিয়ান সাওরিকে চিঠি লিখে বলেন: "আল্লাহ তাআলার তাকওয়া অবলম্বন করুন এবং তুচ্ছ দুনিয়ার পরিবর্তে মহান পরকালের প্রতি মনোযোগী হোন। ওয়াস সালাম।"

৭৭৯. মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস থেকে বর্ণিত, আলি ইবনুল মাদিনি বলেন, “আহমাদ ইবনু হাম্বল একদিন আমাকে বলেন, 'আমি আপনার সাথে মক্কা যেতে চাই। কিন্তু সমস্যা একটাই। আশঙ্কা হয়, হয়তো আমি আপনাকে বিরক্ত করে ফেলব কিংবা আপনি আমাকে বিরক্ত করে ফেলবেন।” আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেন, আমি তাকে বিদায় জানানোর সময় বলি, হে আবদুল্লাহ! আপনি আমাকে কিছু ওসিয়ত করে যান। তিনি বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আপনি অন্তর দিয়ে আল্লাহর তাকওয়া আঁকড়ে ধরুন আর আখিরাতকে আপন লক্ষ্য- উদ্দেশ্য বানিয়ে নিন。

টিকাঃ
[৫২২] আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আয যুহদ, ৬৩。
[৫২৩] হুমাইদি, আল মুসনাদ, ১/১২৯。
[৫২৪] সাখাবি, আল মাকাসিদুল হাসানা, ৬৩৩。
[৫২৫] মুত্তাকী আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ১৫/৭৯০; নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০/২২৫; এর সনদ যঈফ。
[৫২৬] সাখাবি, আল মাকাসিদুল হাসানা, ৬৩৩。
[৫২৭] ইবনুল জাওযী, সীরাতু উমার ইবনু আবদিল আযীয, পৃ. ২৩৬。
[৫২৮] তাবারানি, আল মুজামুল কাবির, ২২/২৪২; এর সনদ মুরসাল。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 তাকওয়ার বিভিন্ন উপমা

📄 তাকওয়ার বিভিন্ন উপমা


৭৮০. ইবনু ইসাম বলেন, “আমি সাহলকে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ ছাড়া কেউ সাহায্যকারী হতে পারে না। নবি ছাড়া কেউ পথপ্রদর্শনকারী হতে পারে না। তাকওয়া ছাড়া অন্য কিছু পাথেয় হতে পারে না। অধ্যবসায় ছাড়া কোনো আমল হতে পারে না।”[৫৯]

৭৮১. আসমায়ি বলেন, "আমার পিতা এক গ্রাম্য লোককে বলতে শুনেছেন: 'যে ব্যক্তি দীর্ঘ সুস্বাস্থ্য কামনা করে, সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।'

৭৮২. আবূ বকর রাযি বলেন, “আমি আবূল হুসাইন যানজানিকে বলতে শুনেছি: 'যার মূলধন হবে তাকওয়া, তার লাভের পরিমাণ বর্ণনা দেওয়া মানুষের মুখের পক্ষে সম্ভব নয়।”

৭৮৩. ইবরাহীম ইবনু ফাতিক বলেন, "আমি নাহারজুরিকে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়া হলো সমুদ্র, পরকাল হলো তার তীর। এর জাহাজ হলো তাকওয়া আর মানুষ হলো সফর।” [৫০০]

৭৮৪. সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণিত, লুকমান হাকিম তার ছেলেকে বলেছেন : “বাপজান! এই দুনিয়া আসলে এক গভীর সমুদ্র, বহু মানুষ ডুবে গেছে তাতে। তাই তাকওয়াকে এ সমুদ্রের জাহাজ বানাও। আল্লাহর ওপর ঈমানকে বানাও এর পাথেয়। আর তাওয়াক্কুলকে বানাও পানি পানের ঘাট। তাহলে হয়তো রক্ষা পাবে।”

৭৮৫. আবূ বকর রাযি বলেন, “মুহাম্মাদ ইবনু আলি আল কাত্তানিকে বলতে শুনেছি : 'বিপদাপদ দিয়ে দুনিয়াকে ভাগ করা হয়েছে। আর জান্নাতকে ভাগ করা হয়েছে তাকওয়ার মাধ্যমে।"

৭৮৬. মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত আছে, দাউদ আত তায়ি বলেছেন : “আল্লাহ তাআলা যে ব্যক্তিকে পাপাচারের লাঞ্ছনা থেকে তাকওয়ার সম্মান দান করেন, তাকে তিনি অর্থ-সম্পদ ছাড়াই ধনী করে তোলেন, আত্মীয়-স্বজনের সহায়তা ছাড়াই সমবেদনা জানান, বন্ধু-বান্ধব ছাড়াই তার নিঃসঙ্গতা দূর করেন." [৫০১]

টিকাঃ
[৫২৯] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২১১。
[৫৩০] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৩৮০。
[৫০১] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/৩৫৬。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 তাকওয়ার মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি অর্জন

📄 তাকওয়ার মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি অর্জন


৭৮৭. আবূ আবদির রহমান বলেন, “আমি আবুল কাসিম নসর আবাযিকে বলতে শুনেছি: তাকওয়া হলো হকের লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ
'কখনোই এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”[৫৩২]

৭৮৮. আবূ বকর রাযি বলেন, “আমি আবূ মুহাম্মাদ জারিরিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি মুরাকাবা এবং তাকওয়াকে নিজের এবং আল্লাহ তাআলার মাঝে বিচারক বানায় না, সে কাশফ এবং মুশাহাদার স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।"

৭৮৯. আল্লাহ তাআলার বাণী : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانَا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করো, তবে আল্লাহ তোমাদের ন্যায়-অন্যায় ফায়সালা করার শক্তি দেবেন। "[৫৩৩]
জাফর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু নুসাইর খলাদি বলেন, "আমি আবুল কাসিম জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি, 'যখন কেউ আল্লাহকে ভয় করে তখন আল্লাহ তাআলা তাকে হক ও বাতিলের পার্থক্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান দান করেন।' তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'তাকওয়া কি হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য নিরূপণকারী নয়?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই। প্রথমটা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত আর দ্বিতীয়টা মানুষের অর্জন। তাই কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে অনেক জটিল বিষয় সহজে বুঝতে সক্ষম হয়। এমনকি এর ফলে ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্যও অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে উঠে তার কাছে।”

টিকাঃ
[৫৩২] সূরা হাজ্জ, ২২: ৩৭。
[৫৩৩] সূরা আনফাল, ৮: ২৯。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যিকর ও আমলের ভিত্তি

📄 যিকর ও আমলের ভিত্তি


৭৯০. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, “আমি আবূ উসমান আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি তাকওয়া এবং জ্ঞানের ওপর আপন প্রাসাদ নির্মাণ করে, তার যিকর-আযকার এবং আমলগুলো নির্মল এবং স্বচ্ছ হয়ে উঠে। আল্লাহভীতি তার মধ্যে এমনভাবে প্রবেশ করে যে, সে বুঝতেও পারে না।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00