📄 সন্দেহজনক বিষয়ে করণীয়
৭৫৪. আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
الحلال بَيِّن والحرامُ بَيِّنٌ، فدع ما يريبك إلى ما لا يريبك
“হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। তাই যে বিষয় তোমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়, তা ছেড়ে সন্দেহমুক্ত বিষয়টা গ্রহণ করো।”[502]
টিকাঃ
[৫০২] তাবারানি, আল মুজামুস সগির, ১/৫১; এই হাদীসে সনদ হাসান。
📄 তাকওয়া বোঝার মানদণ্ড
৭৫৫. আবূ কিলাবা থেকে বর্ণিত, উমার ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "কারও সালাত বা সাওম দেখে লাভ নেই। বরং মানুষের কথাবার্তা, আমানতদারি, এবং দুনিয়াবি বিষয়ে আল্লাহভীরুতার প্রতি লক্ষ করবে।”
📄 তুচ্ছ বিষয়েও আল্লাহকে ভয় করা
৭৫৬. হাসান থেকে বর্ণিত আছে, ফারাজদাকের চাচা সাসআ বলেন: "আমি নবি -এর কাছে এসে তাঁকে তিলাওয়াত করতে শুনি :
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
'কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। [৫০৩] তখন আমি বলি, 'যথেষ্ট, যথেষ্ট; আমার আর অন্য কিছু শোনার প্রয়োজন নেই।'”[৫০৪]
৭৫৭. আ'মাশ থেকে বর্ণিত আছে, ইবরাহীম তাইমি বলেছেন: "এ মাসজিদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের ষাট জন ছাত্রের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হলেন হারিস ইবনু সুআইদ। আমি তাঁকে সূরা যিলযাল তিলাওয়াত করতে শুনেছি।
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
'কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। [৫০৫] এই আয়াতে পৌঁছে তিনি কেঁদে ফেলেন। এরপর বলেন, 'সে বিচার অত্যন্ত কঠিন হবে।”[৫০৬]
৭৫৮. আব্বাস ইবনু খুলাইদ আল হাজারি বলেন, “আবূদ দারদা বলেছেন: 'যদি তিনটি বিষয় না থাকত, তাহলে আমি এই দুনিয়ায় আর থাকতেই চাইতাম না।' আমি তখন বললাম, 'কী সেই তিনটি বিষয়?' তিনি বলেন, 'দিবারাত্রির বিভিন্ন সময় সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে সিজদায় মাথা ঠেকানো; দ্বিপ্রহরের সময় তৃষ্ণা নিবারণ করা; এবং এমন লোকদের সাথে মেলামেশা করা, যারা ফল বাছাই করার মতো বেছেবেছে কথা বলে। বান্দা আল্লাহকে সর্বক্ষেত্রে ভয় করাটাই পূর্ণাঙ্গ তাকওয়া। এমনকি অণু পরিমাণ বিষয়েও। এমনকি হারাম হওয়ার আশঙ্কায় হালাল বিষয় ত্যাগ করবে। এটা হবে হালাল এবং হারামের মধ্যকার দেয়াল। মানুষের পরিণাম সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন :
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।[৫০৭] তাই তুচ্ছ মনে করে কোনো মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়া যাবে না। তেমনি কোনো কল্যাণকর কাজও ছেড়ে দেওয়া যাবে না।'”[৫০৮]
৭৫৯. ইবনু সিরিন বলেন, "এক ব্যক্তিকে লক্ষ করে শুরাইহকে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহর বান্দা, তোমার কাছে যা সন্দেহজনক মনে হয়, তা বাদ দিয়ে সন্দেহমুক্ত জিনিস গ্রহণ করো। আল্লাহর কসম! এ ধরনের কোনো বিষয় পরিত্যাগ করলে তা হারানোর বেদনা তোমার অনুভূত হবে না।”[৫০৯]
৭৬০. শু'বা থেকে বর্ণিত, আবূ ইসহাক বলেছেন: “আল্লাহকে ভয় করবে এবং কল্যাণকর কাজ করবে। কারণ, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাকিলকে বলতে শুনেছি, আদি ইবনু হাতিম বলেছেন, 'আমি নবি -কে বলতে শুনেছি :
إِتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمَرَةٍ
খেজুরের সামান্য অংশ (সাদাকাহ) দিয়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচো।”[৫১০]
টিকাঃ
[৫০৩] সূরা যিলযাল, ৯৯: ৭-৮。
[৫০৪] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৫/৫৯; এর সনদ সহীহ。
[৫০৫] সূরা যিলযাল, ৯৯: ৭-৮。
[৫০৬] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৪/১১。
[৫০৭] সূরা যিলযাল, ৯৯: - ৭-৮。
[৫০৮] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/২১২。
[৫০৯] আবদুর রাযযাক সানআনি, আল মুসান্নাফ, ১১ ৩০৮。
[৫১০] বুখারি, আস সহীহ, অধ্যায়: যাকাত, পরিচ্ছেদ: খেজুরের সামান্য অংশ দিয়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচো。
📄 সাধারণযায়ী আল্লাহর ভয়
৭৬১. আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন :
اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الحَسَنَةَ تُمْحِهَا
'যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহকে ভয় করবে। মন্দ কাজের পর ভালো কাজ করবে, যা সেই মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেবে।”[৫১১]
৭৬২. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি এসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করে, "কোন ব্যক্তি সবচেয়ে সম্মানিত?” তিনি বলেন,
أَتْقَاهُم
“যে সবচেয়ে আল্লাহভীরু।”[৫১২]
৭৬৩. দুররার স্বামী থেকে বর্ণিত, আবু লাহাবের মেয়ে দুররা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি একদিন জিজ্ঞেস করি, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! সর্বোত্তম মানুষ কে?' তিনি উত্তরে বলেন:
أتقاهم لِلرَّبِّ وَ أَوْصَلُهُم لِلرَّحِمِ وَآمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَأَنْهَاهُم عَنِ الْمُنْكَرِ
'যে তার রবকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে, সবচেয়ে বেশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে, অধিক পরিমাণে সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে।”[৫১৩]
৭৬৪. আল্লাহ তাআলার বাণী:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُوا الله حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না।”[৫১৪]
যাহহাক থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?' নবি তখন বলেন, 'আল্লাহর কথা সদা স্মরণ রাখতে হবে, কখনো তা ভুলে যাওয়া যাবে না। সবসময় তাঁর আনুগত্য করতে হবে, কখনো অবাধ্যতা করা যাবে না।' সাহাবায়ে কেরাম তখন বলেন, 'আমাদের কারো কি সাধ্য আছে এমনটা করার?' তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন:
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
'তাহলে আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো।”[৫১৫]
টিকাঃ
[৫১১] আহমদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৫/ ১৫৩; এর সনদ জাইয়িদ。
[৫১২] বুখারি, আস সহীহ, ৬৩৭৪。
[৫১৩] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৬/ ৪৩১, ৪৩২; এই হাদীসের সনদ হাসান。
[৫১৪] সূরা আলি ইমরান, ৩: ১০২。
[৫১৫] সূরা তাগাবুন, ৬৪: ১৬。