📄 তাকওয়া অবলম্বনের প্রতিদান
৭৫৩. আবু কাতাদা এবং আবূ দাহমা বর্ণনা করেন, “আমরা একবার এক গ্রাম্য ব্যক্তির কাছে আসি। লোকটি বলে, 'নবি একবার আমার হাত ধরে সেসব বিষয় শিক্ষা দিতে লাগলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁকে যা শিক্ষা দিয়েছেন। এ সময় আমি তাঁর থেকে যেসব বিষয় শিখেছি তার মধ্যে রয়েছে:
إِنَّكَ لَا تَدَعُ شَيْئًا إِتَّقَاءُ لِلَّهِ إِلَّا أَعْطَاكَ اللَّه خَيْرًا مِنْهُ
'তুমি আল্লাহর ভয়ে কোনো বিষয় পরিত্যাগ করলে আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে তারচেয়েও উত্তম বিষয় প্রদান করবেন। [৫০১]
টিকাঃ
[৫০১] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৫/৭৮, ৭৯; সনদ সহীহ。
📄 সন্দেহজনক বিষয়ে করণীয়
৭৫৪. আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
الحلال بَيِّن والحرامُ بَيِّنٌ، فدع ما يريبك إلى ما لا يريبك
“হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। তাই যে বিষয় তোমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়, তা ছেড়ে সন্দেহমুক্ত বিষয়টা গ্রহণ করো।”[502]
টিকাঃ
[৫০২] তাবারানি, আল মুজামুস সগির, ১/৫১; এই হাদীসে সনদ হাসান。
📄 তাকওয়া বোঝার মানদণ্ড
৭৫৫. আবূ কিলাবা থেকে বর্ণিত, উমার ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "কারও সালাত বা সাওম দেখে লাভ নেই। বরং মানুষের কথাবার্তা, আমানতদারি, এবং দুনিয়াবি বিষয়ে আল্লাহভীরুতার প্রতি লক্ষ করবে।”
📄 তুচ্ছ বিষয়েও আল্লাহকে ভয় করা
৭৫৬. হাসান থেকে বর্ণিত আছে, ফারাজদাকের চাচা সাসআ বলেন: "আমি নবি -এর কাছে এসে তাঁকে তিলাওয়াত করতে শুনি :
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
'কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। [৫০৩] তখন আমি বলি, 'যথেষ্ট, যথেষ্ট; আমার আর অন্য কিছু শোনার প্রয়োজন নেই।'”[৫০৪]
৭৫৭. আ'মাশ থেকে বর্ণিত আছে, ইবরাহীম তাইমি বলেছেন: "এ মাসজিদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের ষাট জন ছাত্রের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হলেন হারিস ইবনু সুআইদ। আমি তাঁকে সূরা যিলযাল তিলাওয়াত করতে শুনেছি।
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
'কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। [৫০৫] এই আয়াতে পৌঁছে তিনি কেঁদে ফেলেন। এরপর বলেন, 'সে বিচার অত্যন্ত কঠিন হবে।”[৫০৬]
৭৫৮. আব্বাস ইবনু খুলাইদ আল হাজারি বলেন, “আবূদ দারদা বলেছেন: 'যদি তিনটি বিষয় না থাকত, তাহলে আমি এই দুনিয়ায় আর থাকতেই চাইতাম না।' আমি তখন বললাম, 'কী সেই তিনটি বিষয়?' তিনি বলেন, 'দিবারাত্রির বিভিন্ন সময় সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে সিজদায় মাথা ঠেকানো; দ্বিপ্রহরের সময় তৃষ্ণা নিবারণ করা; এবং এমন লোকদের সাথে মেলামেশা করা, যারা ফল বাছাই করার মতো বেছেবেছে কথা বলে। বান্দা আল্লাহকে সর্বক্ষেত্রে ভয় করাটাই পূর্ণাঙ্গ তাকওয়া। এমনকি অণু পরিমাণ বিষয়েও। এমনকি হারাম হওয়ার আশঙ্কায় হালাল বিষয় ত্যাগ করবে। এটা হবে হালাল এবং হারামের মধ্যকার দেয়াল। মানুষের পরিণাম সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন :
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।[৫০৭] তাই তুচ্ছ মনে করে কোনো মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়া যাবে না। তেমনি কোনো কল্যাণকর কাজও ছেড়ে দেওয়া যাবে না।'”[৫০৮]
৭৫৯. ইবনু সিরিন বলেন, "এক ব্যক্তিকে লক্ষ করে শুরাইহকে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহর বান্দা, তোমার কাছে যা সন্দেহজনক মনে হয়, তা বাদ দিয়ে সন্দেহমুক্ত জিনিস গ্রহণ করো। আল্লাহর কসম! এ ধরনের কোনো বিষয় পরিত্যাগ করলে তা হারানোর বেদনা তোমার অনুভূত হবে না।”[৫০৯]
৭৬০. শু'বা থেকে বর্ণিত, আবূ ইসহাক বলেছেন: “আল্লাহকে ভয় করবে এবং কল্যাণকর কাজ করবে। কারণ, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাকিলকে বলতে শুনেছি, আদি ইবনু হাতিম বলেছেন, 'আমি নবি -কে বলতে শুনেছি :
إِتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمَرَةٍ
খেজুরের সামান্য অংশ (সাদাকাহ) দিয়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচো।”[৫১০]
টিকাঃ
[৫০৩] সূরা যিলযাল, ৯৯: ৭-৮。
[৫০৪] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৫/৫৯; এর সনদ সহীহ。
[৫০৫] সূরা যিলযাল, ৯৯: ৭-৮。
[৫০৬] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৪/১১。
[৫০৭] সূরা যিলযাল, ৯৯: - ৭-৮。
[৫০৮] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/২১২。
[৫০৯] আবদুর রাযযাক সানআনি, আল মুসান্নাফ, ১১ ৩০৮。
[৫১০] বুখারি, আস সহীহ, অধ্যায়: যাকাত, পরিচ্ছেদ: খেজুরের সামান্য অংশ দিয়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচো。