📄 পরকালীন হিসাবের কাঠিন্য
৭৩৪. মানসূর ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, “আবুল আব্বাস ইবনু আতাকে বলতে শুনেছি : ‘আল্লাহ তাআলা অণু এবং সরষে দানা (পরিমাণ গুনাহের হিসাব গ্রহণের) বিষয়টি উল্লেখের কারণেই মুত্তাকীদের আল্লাহভীরুতা তৈরি হয়েছে। যেই সত্তা মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত এবং ছিদ্রান্বেষীদের হিসাব গ্রহণ করবেন, তিনি তো অবশ্যই কঠিনভাবে হিসাব-নিকাশ গ্রহণ করবেন। এবং নিশ্চয়ই তাঁর অণু এবং সরষে দানা পরিমাণ বিষয়ের হিসাবও হবে আরও কঠিন। যে সত্তার হিসাব এতটা কঠিন, তাঁকে তো অবশ্যই ভয় করা উচিত।”
📄 তাকওয়ার মাধ্যমে মারিফাত লাভ
৭৩৫. আবুল হাসান আলাবি বলেন, “আমি ইবরাহীম আল খাওয়াসকে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহভীরুতা হলো আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার দলিল। আর আল্লাহকে ভয় করা মারিফাতের দলিল। আর মারিফাত হলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের দলিল।”
📄 তাকওয়া আমলে সহজ
৭৩৬. মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত আছে, ইউনুস ইবনু উবাইদ বলেছেন : “তিনটি কথা আমার কাছে খুব আশ্চর্যজনক মনে হয়েছে। একটি বলেছিলেন মুঅররক আল ইজলি। তিনি বলেছেন, 'আমি রাগের মাথায় কখনো এমন কোনো কথা বলিনি, যার কারণে পরে সন্তুষ্ট অবস্থায় আমাকে লজ্জিত হতে হয়েছে।' আরেকটি কথা বলেছিলেন মুহাম্মাদ ইবনু সিরিন। তিনি বলেছেন, 'কোনো জান্নাতি ব্যক্তির প্রতি যদি পার্থিব বিষয়েই হিংসা না রাখি, তাহলে যা তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে, এমন বিষয়ে হিংসা পোষণ কি আর সম্ভব? আর যদি সে জাহান্নামি হয়ে থাকে, তাহলে তো তার সাথে দুনিয়াবি বিষয়ে হিংসা রাখার প্রশ্নই ওঠে না।' তৃতীয় আশ্চর্যজনক কথাটি বলেছেন হাসসান ইবনু আবী সিনান। তিনি বলেছেন, 'আল্লাহভীরুতার চেয়ে সহজ কোনো বিষয় আমার নিকট নেই। আর কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলেই তা বাদ দিয়ে দিই আমি।”
📄 সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করাই তাকওয়া
৭৩৭. আবদুল আযীয আল কুরাশি বলেন, “সুফিয়ান সাওরিকে বলতে শুনেছি : ‘দুনিয়াবিমুখতা অবলম্বন করো, তাহলে আল্লাহ তোমাকে দুনিয়ার সব রহস্য দেখিয়ে দেবেন। আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করো, তাহলে তোমার হিসাব সহজ হবে। তারপরও কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তা বাদ দিয়ে এমন বিষয় গ্রহণ করবে, যাতে সন্দেহ নেই। সন্দেহকে সুনিশ্চিত বিষয়ের মাধ্যমে প্রতিহত করো, তাহলে তোমার দ্বীন নিরাপদ থাকবে।”
৭৩৮. সাবিত থেকে বর্ণিত, মুতাররিফ বলেছেন : “কিয়ামাতের দিন আল্লাহর কাছে ‘এটা কেন করেছ?' এর বদলে ‘এটা কেন করলে না?' প্রশ্নের জবাব দেওয়াই আমার কাছে বেশি আকাঙ্ক্ষিত।”
৭৩৯. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ বলেন, “আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহভীরুতা হলো সকল সন্দেহ-সংশয় পরিত্যাগ করা এবং আল্লাহর বিধিবিধানের প্রতি ব্যাখ্যাহীন আনুগত্য প্রকাশ করা।”
৭৪০. আহমাদ ইবনু ফাযলান বলেন, "আমি শাহ আল কিরমানিকে বলতে শুনেছি: 'তাকওয়ার নিদর্শন হলো আল্লাহভীরুতা। আর আল্লাহভীরুতার নিদর্শন হলো সন্দেহ-সংশয় থেকে বেঁচে থাকা।”[৪৯৭]
৭৪১. হুসাইন ইবনু হারবাওয়াইহ বলেন, "সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি : 'সন্দেহজনক বিষয় পরিত্যাগের মাধ্যমে কেবল তখনই তাকওয়া অর্জিত হতে পারে, যখন প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করা হবে।”[৪৯৮]
৭৪২. আশআছ তামিমি থেকে বর্ণিত আছে, যহহাক ইবনু মুযাহিমের কাছে তার ভাই চিঠি লিখে বলেছিলেন: “বান্দার জন্য যে সকল বিষয় মেনে চলা আবশ্যক, সেগুলো এবং অন্য সকল বিষয় একটি চিঠিতে লিখে আমাকে জানান।" যাহহাক উত্তরে বলেন, "একক ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা সর্বোত্তম আমলই কবুল করে থাকেন। তা হচ্ছে সেসব ফরয আমল, যা তিনি বান্দার ওপর আবশ্যক করেছেন। সেগুলো পূর্ণরূপে আদায় করা হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে তিনি বান্দাকে জিজ্ঞেস করবেন। তা ছাড়া কেউ যদি অতিরিক্ত কোনো আমল করে, তাহলে তো আল্লাহ তার ব্যাপারে অবগত থাকবেন এবং তিনি সবচেয়ে কৃতজ্ঞ। জেনে রেখো, আল্লাহ কিছু বিষয় হালাল করেছেন, যা সুস্পষ্ট। আর কিছু বিষয় হারাম করেছেন, যা সুস্পষ্ট। এর মধ্যে রয়েছে অনেক সন্দেহজনক বিষয়, যা অন্তরে সন্দেহ তৈরি করে। তাই যদি তোমার অন্তরে কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে তা ছেড়ে দিয়ো। আল্লাহর হালাল করা বিষয় গ্রহণ করো। তাঁর ঘোষিত হারাম বিষয় থেকে বেঁচে থাকো। আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং তোমাকে মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”
৭৪৩. আবু উসমান আল খাইয়াত বলেন, "আমি যুননুনকে বলতে শুনেছি: 'তিনটি বিষয় আল্লাহভীরুতার নিদর্শন। প্রথমত, অর্থ-সম্পদ ও শরীরের ক্ষতির আশঙ্কায় সন্দেহজনক বিষয় বাদ দেওয়া। দ্বিতীয়ত ফরয বিষয়ে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আল্লাহর রাস্তায় অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় করা। তৃতীয়ত, অন্তর বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনর্থক বিষয় থেকে বিরত থাকা।”
৭৪৪. আবূ আবদিল্লাহ বলেন, "আমি আবূ উমার আল মারওয়াযিকে বলতে শুনেছি: 'কারো অন্তরে বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি সন্দেহ যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার সতর্কতার মাত্রা তত শক্তিশালী হয়। আর যার সতর্কতার মাত্রা শক্তিশালী, তার পক্ষে সন্দেহজনক বিষয় পরিত্যাগ করা এবং সুস্পষ্ট বিষয় গ্রহণ করা সহজ হয়ে যায়।"
৭৪৫. আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আল আনসারি থেকে বর্ণিত, ইসমাইল ইবনু মুয়ায আর রাযি বলেছেন: "অন্তরে গুনাহের বাসনা জাগ্রত হওয়া মাত্রই যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করে, তার কোনো প্রয়োজন দেখা দেওয়া মাত্রই আল্লাহ তা পূরণ করে দেন।"
টিকাঃ
[৪৯৭] তাবাকাতুস সুফিয়া, ১৯৩。
[৪৯৮] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২১৬。