📄 মানুষের ভালোবাসা লাভও আল্লাহর ভালোবাসা লাভের লক্ষণ
৬৯২, তিনি আরও বলেন, “আমি যুননুনকে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দাকে সম্মানিত করতে চান, তখন তার অন্তরে নিজের স্মরণ ঢেলে দেন। নিজের দরজায় টেনে আনেন তাকে। নিজের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। তাকে কল্যাণকর কাজ করার এবং উপকারিতা অর্জনের সুযোগ দেন। নিজে সাহায্য সহযোগিতা করেন তাকে। তার দুনিয়ার ব্যস্ততা এবং বিপদাপদ দূর করে দেন। ফলে সে হয়ে ওঠে আল্লাহ তাআলার একনিষ্ঠ বান্দা ও বন্ধু। জীবিত থাকা বা মৃত্যুবরণ করা—উভয়টাই তার জন্য কল্যাণকর। দুনিয়ার মাধ্যমে প্রতারিত মানুষেরা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যে অংশ, যিকরকারীদের যে স্বাদ এবং প্রেমিকদের যে আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে; সেটা বুঝতে পারলে বিষন্নতায় ভুগেই মারা যেত।”
৬৯৩. আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা থেকে বর্ণিত, আবুদ দারদা একবার মাসলামা ইবনু মুখাল্লাদকে চিঠি লিখে বলেন : “আপনার ওপর সালাম। পর সমাচার, মানুষ যখন আল্লাহর আনুগত্য করে, আল্লাহ তখন তাকে ভালোবাসেন। আর আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, নিজ বান্দাদের কাছে প্রিয় করে তোলেন তাকে। পক্ষান্তরে মানুষ যখন আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যান। আর আল্লাহ যার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যান, বান্দাদের কাছেও তাকে অসন্তোষের পাত্র করে তোলেন।”
৬৯৪. লাইস ইবনু সুলাইম থেকে বর্ণিত আছে, মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি বলেন: “কেউ যখন অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট হয়ে উঠে, আল্লাহ তাআলা তখন সকল মুমিনের অন্তর তার প্রতি নিবিষ্ট করে দেন।”
৬৯৫. কাতাদা থেকে বর্ণিত, হারাম বিন হাইয়্যান বলেছেন: “কেউ যখন আল্লাহর প্রতি নিবিষ্টচিত্ত হয়ে উঠে, আল্লাহ তাআলা তখন মুমিনদের অন্তর তার প্রতি নিবিষ্ট করে দেন। তার প্রতি ভালোবাসা এবং অনুগ্রহ সৃষ্টি করে দেন মানুষের মনে।”
৬৯৬. আল্লাহ তাআলার বাণী :
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا
“যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, দয়াময় অবশ্যই তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন।”[৪৬৯] কাতাদা বলেন, “অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্তরে তার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন।"
৬৯৭. সুহাইল ইবনু আবী সালিহ বলেন, “আরাফার দিন সকালে বাবার সাথে ছিলাম। উমার ইবনু আবদিল আযীয-কে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম আমরা তখন। সে বছর তিনি ছিলেন হাজ্জের আমির। আমি বললাম, 'আব্বা! আমি তো দেখছি আল্লাহ তাআলা উমার ইবনু আবদিল আযীযকে ভালোবাসেন!' তিনি বলেন, 'কীভাবে বুঝলে?' বললাম, 'কারণ, সকল মানুষই তাঁকে ভালোবাসে। আর আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবি বলেছেন:
إِنَّ اللهَ عزَّ وجلَّ إذا أَحَبَّ عَبدًا؛ دعا جبريل، فقال: يا جبريل؛ إنِّي أُحِبُّ فلانًا؛ فأَحِبَّه. قال: فيُحِبُّه جبريل، قال: ثم يُنادي في أَهْلِ السَّمَاءِ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلانًا. قال: فيُحِبُّه أهلُ السَّماءِ ، ثم يوضع له القبول في الأرض، وإنَّ الله عزَّ وجلَّ إذا أبغَضَ عَبدًا دعا جبريل، فقال: يا جبريل، إنّي أُبْغِضُ فلانًا فَأَبْغِضُه، قال: فيُبغِضُه جِبريلُ، قال: ثم يُنادي في أهلِ السَّمَاءِ: إِنَّ اللهَ يُبْغِضُ فُلانًا؛ فأَبْغِضوه. قال: فيُبغِضُه أهلُ السَّماء، ثم توضع له البغضاء في الأرض.
আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দাকে পছন্দ করেন, তখন জিবরীল -কে ডেকে বলেন, 'আমি অমুক লোককে ভালোবাসি। তুমিও তাকে ভালোবাসো।' তখন জিবরীল তাকে ভালোবাসতে থাকেন। এরপর তিনি আসমানের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা দেন, 'আল্লাহ অমুক লোককে ভালোবাসেন, সুতরাং আপনারাও তাকে ভালোবাসুন।' আকাশবাসীরা তখন তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। এরপর দুনিয়াতে তাকে নন্দিত, সমাদৃত করা হয়। আর আল্লাহ যখন কাউকে অপছন্দ করেন তখন জিবরীল-কে ডেকে বলেন, 'আমি অমুককে অপছন্দ করি, তুমিও তাকে অপছন্দ করো।' তখন জিবরীল তাকে অপছন্দ করতে থাকেন। তারপর তিনি আকাশবাসীদের ডাক দিয়ে বলেন, 'আল্লাহ তাআলা অমুককে অপছন্দ করেন, তাই আপনারাও তাকে অপছন্দ করুন।' তখন তারা তাকে অপছন্দ করতে থাকে। তারপর তাকে পৃথিবীতে ঘৃণার পাত্র বানিয়ে দেয়া হয়।”[৪৭০]
৬৯৮. আনুশেরওয়া যখন বাযারজামহারকে হত্যা করতে চান, তখন তিনি একটি স্মরণীয় কথা বলেন। তিনি বলেছেন: "হে বাদশাহ, দুনিয়ার ভালো-মন্দ উভয় দিকই রয়েছে। যদি সকলের প্রশংসার পাত্র হয়ে উঠার সক্ষমতা আপনার থাকে, তাহলে তেমন হয়ে যান।” ইবনু আয়িশা বলেন, আল্লাহ তাআলা সত্য বলেছেন:
وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ
“এবং পরবর্তীদের মধ্যে আমার পক্ষে এমন আলোচনা সৃষ্টি করুন, যা আমার সততার সাক্ষ্য দেবে।”[৪৭১]
৬৯৯. খাল্লাদ ইবনু আবদির রহমান তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নবি বলেছেন:
ألا أُخبركم بأحبكم إلى الله قالوا بلى يا رسول الله وظننا أنَّه يُسمّي رجلًا قال إن أحبكم إلى الله أحبكم إلى الناس ألا أُخبركم بأبغضكم إلى اللهِ قُلْنا بلى يا رسول الله وظننا أنَّه يُسمّي أحدًا فقال إنَّ أبغضكم إلى اللهأبغضكم إلى الناس
“আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় কে, জানতে চাও?” সাহাবিগণ বললেন, “অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ।” (সাহাবিগণ বলেন, আমরা ধারণা করেছিলাম) হয়তো তিনি কারও নাম বলবেন। নবি বলেন, “যে ব্যক্তি মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয়, সে-ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।” এরপর তিনি বলেন, “আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত কে, শুনবে?” আমরা বললাম, “অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ।” আমরা ধারণা করলাম হয়তো তিনি কারও নাম বলবেন। নবি তখন বলেন, “যে ব্যক্তি মানুষের কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত, সে-ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত।”[৪৭২]
৭০০. আবূ বকর ইবনু যুহাইর আস সাকাফি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “আমি নবি-কে তায়িফের নাবাওয়াত (কিংবা নুবাতে) এক খুতবায় বলতে শুনেছি :
يُوشِكُ أَنْ تَعْرِفُوا أَهْلَ الْجَنَّةِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَوْ قَالَ خِيَارَكُمْ مِنْ شِرَارِكُمْ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ بِمَ؟ قَالَ بِالثَّنَاءِ الْحَسَنِ أَوْ بِالقُنَاءِ السَّيِّئِ أَنْتُم شُهَدَاءُ اللَّهِ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ
‘লোকসকল, তোমরা হয়তো বুঝতে পারবে, কারা জান্নাতি আর কারা জাহান্নামি!’ কিংবা তিনি বলেছেন, ‘কারা উত্তম এবং কারা অনুত্তম।’ তখন এক ব্যক্তি বলল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, কীভাবে?’ তিনি বলেন, ‘উত্তম প্রশংসা ও মন্দ মন্তব্যের মাধ্যমে। তোমরা একে অপরের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাক্ষী।”[৪৭৩]
৭০১. আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, নবি মুয়ায ইবনু জাবাল এবং আবূ মূসা আশআরি-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বলেন,
تَسَانَدا وَ تَطَاوَعا وَيَسِّرًا وَلَا تُنَفِّرًا
"মিলেমিশে কাজ কোরো। একে অপরের কথা মেনে চলবে। মানুষের জন্য সহজ করবে। কঠিন করবে না।”
তারা উভয়ে ইয়ামানে আসেন। মুয়ায ইবনু জাবাল মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ইসলামের ওপর থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন তাদের। দ্বীনের গভীর জ্ঞান এবং কুরআন কারীমের শিক্ষা অর্জনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এসব জ্ঞান অর্জনের পর আমাকে জিজ্ঞেস করবেন, আপনাদের কারা জান্নাতি এবং কারা জাহান্নামি।” এরপর বেশ কিছুদিন কেটে যায়, আল্লাহ তাআলাই যার সঠিক পরিমাণ জানেন। এরপর একদিন তারা বলে, “আবূ আবদির রহমান, আপনি বলেছিলেন আমরা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন এবং কুরআন কারীম শিক্ষা লাভের পর যেন আপনাকে জিজ্ঞেস করি, আমাদের মধ্যে কারা জান্নাতি এবং কারা জাহান্নামি।” তিনি বলেন, “হ্যাঁ। যদি ব্যাপকভাবে কারও প্রশংসা হতে থাকে, তাহলে সে জান্নাতি। আর যদি কারও দোষত্রুটির ব্যাপক চর্চা হতে থাকে, তাহলে সে জাহান্নামি." [৪৭৪]
৭০২. আল্লাহ তাআলার বাণী:
وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ
"এবং পরবর্তীদের মধ্যে আমার পক্ষে এমন আলোচনা সৃষ্টি করুন, যা আমার সততার সাক্ষ্য দেবে।”[৪৭৫]
মুজাহিদ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “এতে উত্তম প্রশংসার কথা বলা হয়েছে, যা সকল জাতিই কামনা করে থাকে।"
৭০৩. সুহাইল বিন মালিক তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, কাব আল আহবার বলেছেন: “যদি তোমরা কারো আখিরাতের পরিণতি জানতে চাও, তাহলে লক্ষ করো মানুষের কাছে সে কেমন?” [৪৭৬]
৭০৪. আল্লাহ তাআলার বাণী:
سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا
"দয়াময় তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন।”[৪৭৭]
সাঈদ ইবনু জুবাইর থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, "আল্লাহ তাআলা তাদের ভালোবাসবেন এবং মানুষের কাছে তাদেরকে ভালোবাসার পাত্র বানিয়ে তুলবেন।” [৪৭৮]
৭০৫. আবু দারদা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
تفرغوا من هموم الدنيا ما استطعتُم فإنَّه مَن كانت الدنيا أكبر همه أفشى الله ضيعته وجعل فقره بين عينيه ومن كانت الآخِرَةُ أَكبَرَ هَمه جمع الله له أمره وجعل غناه في قلبه وما أقبل عبد بقلبه إلى اللهِ إِلَّا جعل الله قلوب المؤمنين تَفِدُ إليه بالود والرحمة وكان الله بكل خير إليه أسرع
“দুনিয়া নিয়ে চিন্তাভাবনা থেকে যথাসাধ্য দূরে থেকো। কেননা, দুনিয়া যার চিন্তা ভাবনার সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠে, আল্লাহ তাআলা তার জীবিকার খরচ বাড়িয়ে দেন। দারিদ্রকে তার দুই চোখের মধ্যে এনে দেন। পক্ষান্তরে যার সর্বাধিক চিন্তাভাবনার বিষয় হয় পরকাল, আল্লাহ তাআলা তার বিষয়াদি সহজ করে দেন। তার অন্তরে ধনাঢ্যতা তৈরি করে দেন। কেউ যখন আল্লাহর প্রতি নিবিষ্টচিত্ত হয়ে উঠে, তিনি মুমিনদের অন্তর তার দিকে ফিরিয়ে দেন। তারা তাকে ভালোবাসতে থাকে এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করতে থাকে। আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সকল কল্যাণ নিয়ে ধাবিত হন।”[৪৭৯]
৭০৬. ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
أهل الجنةِ مَنْ مَلَا أُذُنَيْهِ مِن ثَناء الناس خيرًا، وهو يسمَعُ، أهلُ النَّارِ مَنْ مَلَا أُذُنَيْهِ شَرًّا، وهو يسمَعُ
"মানুষের মুখে নিজের প্রশংসা বাণী শুনতে শুনতে যার কান ভরে গিয়েছে, সে জান্নাতি। আর নিজের ব্যাপারে মানুষের সমালোচনা শুনতে শুনতে যে নিজের কান ভরে ফেলেছে, সে জাহান্নামি।”[৪৮০]
৭০৭. আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত: قيل: يا رسول الله مَن أَهلُ الجنَّةِ قال من لا يموتُ حتى تُملأ مسامعُهُ مِمَّا يحب قيل : فمَن أَهلُ النَّارِ؟ قال من لا يموتُ حتى تُملاً مسامعُهُ مِمَّا يَكْرَهُ
জিজ্ঞেস করা হলো, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, জান্নাতের অধিবাসী কে?” তিনি বলেন, "যার মৃত্যুর আগেই তার কান তার পছন্দনীয় বিষয়ে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে (অর্থাৎ, সকলেই তার প্রশংসা করতে থাকে)।" সাহাবায়ে কেরাম তখন বললেন, "আর জাহান্নামের অধিবাসী?” তিনি বলেন, "যার মৃত্যুর আগেই তার কান তার অপছন্দনীয় বিষয়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (অর্থাৎ, সকলেই তার নিন্দা করতে থাকে)।”[৪৮১]
৭০৮. আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
إِذَا أَحَبَّ الله العبد أثنى عليه من الخير سبعة أضعاف لم يعملها، وإذا أبْغَضَ الله العبد، أثنى عليه من الشَّرِّ سَبعة أضعاف لم يعملها.
“আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তার আমলকে সাতগুণ বৃদ্ধি করে দেন, যা সে করেনি। আর যখন কারও প্রতি অসন্তুষ্ট হন, তখন তার মন্দ কাজকে সাতগুণ বৃদ্ধি করে দেন, যা সে করেনি।”[৪৮২]
৭০৯. আনাস বলেন, নবি বলেছেন,
إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ ، قَالُوا كَيْفَ يَسْتَعْمِلُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ : يُوَفِّقُهُ لِلْعَمَلِ الصَّالِحِ قَبْلَ المَوتَ
“আল্লাহ তাআলা যখন কারও কল্যাণ চান, তখন তার মাধ্যমে আমল করিয়ে নেন।” সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, কীভাবে?” তিনি বলেন, “মৃত্যুর আগে তাকে উত্তম আমলের সামর্থ্য দেন।”[৪৮৩]
৭১০. আমর ইবনুল হামিক থেকে বর্ণিত, তিনি নবি -কে বলতে শুনেছেন: “আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন মানুষের মাঝে তার প্রশংসাবাণী ছড়িয়ে দেন।” সাহাবায়ে কেরام জিজ্ঞাসা করলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ, সেটা কীভাবে?” তিনি বলেন, "তার মৃত্যুর আগে আল্লাহ তাকে কল্যাণকর কাজের তাওফিক দেন, যার ফলে আশপাশের মানুষ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে উঠে।”[৪৮৪]
৭১২. আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
مَا مِنْ عَبْدٍ إِلَّا وَلَهُ صِيْتُ فِي السَّمَاءِ فَإِذَا كَانَ صِيْتُهُ فِي السَّمَاءِ حَسَنًا وُضِعَ في الأَرْضِ حَسَنًا وَإِذَا كَانَ صِيْتُهُ فِي السَّمَاءِ سَيِّئًا وُضِعَ فِي الْأَرْضِ سَيِّئًا
"আসমানে প্রত্যেক ব্যক্তিরই এক ধরনের খ্যাতি রয়েছে। যদি আকাশের সেই খ্যাতি উত্তম হয়, তাহলে দুনিয়াতে সে সুখ্যাতি পায়। আর আসমানের খ্যাতি মন্দ হলে দুনিয়াতে সে কুখ্যাতি পায়।”[৪৮৫]
টিকাঃ
[৪৬৯] সূরা মারিয়াম, ১৯: ৯৬。
[৪৭০] মুসলিম, আস সহীহ, ২৬৩৭。
[৪৭১] সূরা শুআরা, ২৬: ৮৪。
[৪৭২] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০/২৭২; এই হাদীসের সনদে আবদুর রহমান ইবনু জুনদাহ নামক রাবী রিজাল শাস্ত্রে অপরিচিত。
[৪৭৩] ইবনু মাজাহ, আস সুনান, ৩৪১৯; এর সনদ সহীহ。
[৪৭৪] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১/৬৬; হাদীসটির বিভিন্ন সহীহ শাহিদ থাকায় এটি হাসান পর্যায়ের。
[৪৭৫] সূরা শুআরা, ২৬: ৮৪。
[৪৭৬] মালিক ইবনু আনাস, আল মুয়াত্তা, বাবুল মাজাআ ফি হুসনিল খুলুক。
[৪৭৭] সূরা মারইয়াম, ১৯: ৯৬。
[৪৭৮] সুয়ুতি, আদ দুররুল মানসুর, ৫/৫৪৫。
[৪৭৯] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০/২৪৮; হাদীসটির সনদ সহীহ নয়。
[৪৮০] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ২/৩৪৪; এর সনদ হাসান。
[৪৮১] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ১/৩৭৮; এর সনদ সহীহ, তবে মুরসাল。
[৪৮২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৩/৩৮; এই হাদীসের সনদ হাসান。
[৪৮৩] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৩/১০৬; সনদ সহীহ。
[৪৮৪] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৫/২২৪; এই হাদীসের সনদ সহীহ。
[৪৮৫] বাযযার কৃত কাশফুল আসতার, ৪/২৩২; এর সনদ সহীহ। তবে ইমাম সুয়ুতি এর সনদকে যঈফ বলেছেন。