📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আলস্য পরিহার

📄 আলস্য পরিহার


৬৭০. সাবিত থেকে বর্ণিত আছে, সিলাহ ইবনু আশইয়াম বৃক্ষহীন প্রান্তরের এক মাসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে খেলাধুলায় মত্ত কিছু যুবকের দেখা পেতেন। তিনি তাদের বলতেন, "আচ্ছা, বলো তো! যারা সফরে বের হয়ে দিনের বেলা ভুল পথে হাঁটে আর রাতে ঘুমিয়ে পড়ে, তারা কী করে গন্তব্যে পৌঁছাবে?” তার এ কথায় খেলাধুলায় মত্ত এক যুবক সম্বিত ফিরে পায়। সে বলে, "তিনি তো তোমাদের উদ্দেশ্য করেই এই কথাগুলো বলছেন! দিনের বেলায় যদি তোমরা খেলাধুলায় মত্ত থাকো আর রাত হলে ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যাও, তাহলে কখন গন্তব্যে পৌঁছাবে?” বর্ণনাকারী বলেন, সেই যুবকটি এরপর সিলাহ ইবনু আশইয়ামের সাথে লেগে থাকে। ইবাদাত-বন্দেগীর মধ্যেই সে বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়।[৪৬২]

৬৭১. মুসাইয়্যাব ইবনু রাফি থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বলেছেন, “কাউকে নির্লিপ্ত বসে থাকতে দেখলে আমার মনে হয়, সে একটা নির্বোধ।”[৪৮০]

৬৭২. মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বলেছেন: “যে ব্যক্তি না দুনিয়ার কোনো কাজে ব্যস্ত, না আখিরাতের কোনো কাজে ব্যস্ত, তাকে দেখে আমার রাগ লাগে!” [৪৬৪]

৬৭৩. আবূ ইয়ালা হামযা ইবনু আবদিল আযীয বলেন, "আমি আবুল আব্বাস আদ দিন্নাওরিকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়া হোক বা আখিরাত—কোনো জগতেই সময় এবং অন্তরের চেয়ে অধিক মূল্যবান এবং কাম্য কিছু নেই। কিন্তু তুমি উভয়টাকেই বিনষ্ট করে চলেছ।”

৬৭৪. মু'তামির ইবনু সুলাইমান থেকে বর্ণিত, ঈসা বলেছেন: "আমার আগেও এ দুনিয়া ছিল আর আমার পরেও তা থাকবে। দুনিয়াতে আমার জন্য রয়েছে কেবল নির্দিষ্ট কিছু দিন। যদি সে দিনগুলোকে আমি সফল না করতে পারি, তাহলে আর কখন সফলতা লাভ করব?"

৬৭৫. আলি ইবনু মুহাম্মাদ আল কুব্বানি বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায আর-রাযিকে বলতে শুনেছি: 'ক্ষতিগ্রস্ত তো ওই ব্যক্তি, যে অলসতা করে নিজের জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছে। নিজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ধ্বংসাত্মক কাজে নিয়োজিত রেখেছে এবং অপরাধের এই জগত থেকে ফিরে আসার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়ে গেছে।”

৬৭৬. উবায়দুল্লাহ যাহিদা বলেন, "আমি আবূ উসমানকে বলতে শুনেছি: 'কাঁদতে আগ্রহী হওয়ার আগেই কাঁদো। কেননা, ওই সময় আর কাঁদতে পারবে না। নিজেদের অঢেল ধনসম্পদ এবং যৌবন নিয়ে কান্না করো। এরপর অবশিষ্ট জীবনকে গনীমাত (সুবর্ণ সুযোগ) মনে করো।' আলি ইবনু আবী তালিব বলেছেন, মানুষের অবশিষ্ট জীবনের কোনো মূল্য নেই।”

৬৭৭. মালিক ইবনু দিনার থেকে বর্ণিত আছে, ঈসা বলতেন: "দিবস ও রজনী—দুটি ভাণ্ডার। এ দুটিতে তোমরা কী রেখে চলেছ, তা খেয়াল রেখো। রাতকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতে সেই আমল করো। আর দিনে সেই আমল করো, যার জন্য দিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে।"

টিকাঃ
[৪৬২] আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আয যুহد, ৩৩৯。
[৪৬৩] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ১৫৯。
[৪৬৪] তাবারানি, আল মুজামুল কাবীর, ৯/১০৬。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 পুণ্যকর্মের মাধ্যমে পাপমোচন

📄 পুণ্যকর্মের মাধ্যমে পাপমোচন


৬৭৮. আসিম থেকে বর্ণিত, ফুযাইল আর রাক্কাশি বলেছেন: "ভাই রে! মানুষের সমাগম যেন তোমাকে নিজের ব্যাপারে উদাসীন করে না দেয়। কেননা, মানুষজন ছাড়াও তুমি এই বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে অর্জন করতে পারবে। কখনো বলবে না যে, এই দিনটি কাটিয়ে দেওয়ার জন্য আমি এখানে যাব, ওখানে যাব। কেননা এই দিন তো বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার নয়, বরং তোমার সকল কর্মকাণ্ডসহ তা সংরক্ষিত থাকবে। মানুষ খুঁজলেই পেয়ে যাবে, এমন সবচেয়ে সহজ জিনিস হলো আগের গুনাহ মোচনকারী নেক আমল।” জুনাহের বর্ণনায় এসেছে, এরপর তিনি তিলাওয়াত করেছেন :
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
"নিশ্চয়ই পুণ্যরাজি পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়, যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটা তাদের জন্য এক উপদেশ।”[৪৬৫]

৬৭৯. আবুল জাওযা থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন, “মানুষ খুঁজলেই পেয়ে যাবে, এমন সবচেয়ে সহজ জিনিস হলো আগের গুনাহ মোচনকারী নেক আমল।” এরপর আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস তিলাওয়াত করেন:
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
"নিশ্চয়ই পুণ্যরাজি পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়, যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটা তাদের জন্য এক উপদেশ।”[৪৬৬]

৬৮০. উকবা বিন আমর বলেন, "আমি নবি -কে বলতে শুনেছি:
إن مثل الَّذِي يَعْمَلُ السَّيِّئَاتِ ، ثُمَّ يَعْمَلُ الْحَسَنَاتِ كَمَثَلِ رَجُلٍ عَلَيْهِ دِرْعُ سَابِغَةُ قَدْ خَنَقَتْهُ كُلَّمَا عَمِلَ حَسَنَةٌ فُكَ عَنْهُ حَلْقَةً
'যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে ফেলার পর ভালো কাজ করে নেয়, সে যেন গলায় প্রশস্ত বর্ম আটকে যাওয়া ব্যক্তির মতো। সে যখন পূণ্যময় কাজ করে, তখন ওই বর্মের একটি করে আংটা খুলে যেতে থাকে।”[৪৬৭]

টিকাঃ
[৪৬৫] সূরা হুদ, ১৪: ১১৪。
[৪৬৬] সূরা হুদ, ১১: ১১৪。
[৪৬৭] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৪/১৪৫; হাদীসের মান সহীহ。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 সীমিত সময়ের সদ্ব্যবহার

📄 সীমিত সময়ের সদ্ব্যবহার


৬৮১. জাফর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু নুসাইর বলেন, "আমি আবুল কাসিম জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি: 'জীবন তো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। সময় অনেক স্বল্প। দিনগুলো ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাবে আর আমাদের হাতে অতিরিক্ত কোনো সময়ও নেই।”

৬৮২. আবদুর রহমান ইবনু মাহাদি বলেন, "আমরা একবার মক্কায় সুফিয়ান সাওরির সাথে বসে ছিলাম। হঠাৎ তিনি বলে উঠেন, 'দিবস তার আপন গতিতে কাজ করে যাচ্ছে।”

৬৮৩. সুফিয়ান বলেন, “আমি ইবনু আবজারকে বলতে শুনেছি: 'আমাদের জীবনের একটি অংশ গোসলখানাতেই শেষ হয়ে গেল।' আরও বলেন, 'দিবসের ওপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই।”

৬৮৪. আবূ ইয়াজিদ তাইফুর থেকে বর্ণিত, ঈসা আল বিস্তামি বলেছেন: "দিন আর রাত হলো মুমিনের মূলধন। এর মুনাফা জান্নাত এবং লোকসান জাহান্নাম।”

৬৮৫. জাফর বলেন, "আমি মাতর আল ওয়াররাককে বলতে শুনেছি : 'মুমিন তাওবা করে সকাল শুরু করে আর সন্ধ্যাও শুরু করে নিজেকে তিরস্কার করে ও তাওবা করে। সে এরচেয়ে বেশি আর কী করতে পারে?”

৬৮৭. তিনি আরও বলেন, "মাতর আল ওয়াররাককে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করো। কারণ, তিনি ঘোষণা করেছেন, সৎকর্মশীলদের জন্য তাঁর রহমত অতি নিকটবর্তী।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নেক আমলের সব সুযোগ লুফে নেওয়া

📄 নেক আমলের সব সুযোগ লুফে নেওয়া


৬৮৮. আবূস সলত আল হারবি থেকে বর্ণিত, ইবনুল মুবারক বলেছেন: “হুশাইমকে একদিন জিজ্ঞেস করি, 'মানসূর ইবনু যাজান কে?' তিনি উত্তরে বলেন, 'মানসূর ফজর সালাত পড়ে সূর্য ওঠা পর্যন্ত কারও সাথে কোনো কথা বলতেন না। সূর্যোদয় থেকে তা পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন তিনি। এরপর ঘরে যেতেন। যুহরের সময় হলে সালাতের জন্য বের হতেন ঘর থেকে। এরপর আসর পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন। আসরের সালাত শেষে সালাম দিয়ে আমাদের জিজ্ঞেস করতেন, 'অসুস্থ কেউ কি আছে? কেউ কি মারা গেছে, যার জানাযা অনুষ্ঠিত হবে?' কেউ অসুস্থ থাকলে তিনি তাকে দেখতে যেতেন। কোনো জানাযা থাকলে তাতে শরিক হতেন। মাগরিব হলে মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। এরপর তিনি সালাত পড়তেন মাগরিব থেকে ঈশা পর্যন্ত। ঈশার সালাত আদায় করে তিনি ঘরে যেতেন।' আমি তখন জিজ্ঞেস করি, 'কতদিন পর্যন্ত তিনি এ রুটিন অনুযায়ী চলেছেন?' হুশাইম বলেন, 'চল্লিশ বছর।' বললাম, 'তাহলে জীবিকা নির্বাহ করতেন কোত্থেকে?' হুশাইম বলেন, 'আল্লাহ তাআলাই তার ব্যবস্থা করতেন।”

৬৮৯. রবাহ ইবনুল জাররাহ বলেন, “আবু উসমানের স্ত্রী ফাতিমা বিনতু বাযিকে আমি দেখেছিলাম। ইবাদাতগুজার এক নারী। রাতের যতটুকু জেগে থাকতাম, তার অধিকাংশ সময়ই তাকে দেখতাম সালাত পড়তে। একসময় আমি ঘুমিয়ে যেতাম। তখন আর তার তিলাওয়াত এবং সালাতের আওয়াজ আমার কানে আসত না। তিনি এভাবে সালাত পড়ে যেতে থাকতেন। এমনকি ফজরের সালাত আদায় করতেন ঈশার সালাতের ওযু দিয়ে।”

৬৯০. আবূ ইয়াজিদ আল মারওয়াযি বলেন, "আমি ইবরাহীম ইবনু শাইবান যাহিদকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কাজের মাধ্যমে নিজের সময়ের যত্ন নেয়, আল্লাহ তাআলা নিজেই তার দ্বীন-ধর্মকে রক্ষা করেন।"

৬৯১. আব্বাস ইবনু হামযা বলেন, “যুননুনকে বলতে শুনেছি: 'আরিফ এক অবস্থাতেই পড়ে থাকে না। বরং আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্ক গড়ার সকল পদ্ধতিই অবলম্বন করে সে।'” [৪৬৮]

টিকাঃ
[৪৬৮] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২৬。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00