📄 যথেষ্ট ভেবে আমল ছেড়ে দেওয়া নয়
৬৬৩. জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, “সিররি সাকতি আমাকে বলেছেন: 'কবরকে তোমার ধনভাণ্ডার বানাও, সকল কল্যাণ দিয়ে তা পরিপূর্ণ করে তুলো, যেন তাতে প্রবেশ করে পূর্বে পাঠানো উত্তম আমলগুলো দেখে আনন্দিত হতে পারো।”
৬৬৪. আল্লাহ তাআলার বাণী: تَمَامًا عَلَى الَّذِي أَحْسَنَ
"(অতঃপর আমি মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছি) সৎকর্মশীলদের নিয়ামাত পূর্ণ করার জন্য।”[৪৫৭]
কাতাদা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করে, পরকালে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকৃত মর্যাদা লাভ করে." [৪৫৮]
৬৬৫. হাসান ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, বিশর ইবনুল হারিস বলেছেন : “সৎকর্মশীলগণ দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ অর্জন করে ফেলেছে।”
৬৬৬. আবূ আবদিল্লাহ হাফিয বলেন, “আমি ফারিস ইবনু ঈসাকে বলতে শুনেছি : 'আবুল কাসিম জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ অনেক বেশি সালাত আদায় করতেন। আমি দেখেছি মুমূর্ষ অবস্থায় সিজদাহ করার জন্য তার সামনে বালিশ রাখা হয়েছিল। তাকে তখন কেউ একজন বলে, নিজেকে একটু শান্তি দিন না! তিনি বলেন, আমি যে পথের মাধ্যমে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছেছি, তা তো ছেড়ে দিতে পারি না।"
৬৬৭. আবু আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, "আমি এক শাইখের সূত্রে আবুল হুসাইন ফারিসিকে বলতে শুনেছি: জুনাইদ বাগদাদির হাতে একদিন তাসবীহের মালা দেখে তাকে বলা হলো, 'আবুল কাসিম, আপনি এত উঁচু মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এত তাসবীহ জপেন?' তিনি উত্তরে বলেন, 'হ্যাঁ, এর মাধ্যমেই তো এ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি। কস্মিনকালেও আমরা এটা ছেড়ে দিতে পারি না।” [৪৫৯]
৬৬৮. আবুল হুসাইন মালিকি বলেন, "আমি জুনাইদ বাগদাদিকে বলতে শুনেছি : 'চেষ্টাসাধনার মাধ্যমেই সকল সম্মানিত জগতের দুয়ার খুলে যেতে পারে।” [৪৬০]
৬৬৯. ইবনু শাওযাব থেকে বর্ণিত, হারম ইবনু হাইয়্যান বলেছেন: “যদি আমাকে বলা হয়, 'তুমি তো জাহান্নামি,' তবুও আমি আমল করা ছেড়ে দেব না। কেননা, আমার নফস তখন আমাকে তিরস্কার করতে থাকবে।”[৪৬১]
টিকাঃ
[৪৫৭] সূরা আনআম, ৬: ১৫৪。
[৪৫৮] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/৩৪০。
[৪৫৯] ইবনুল মুলাক্কিন, তাবাকাতুল আউলিয়া, ১২৮。
[৪৬০] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২৬১。
[৪৬১] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/১২২。
📄 আলস্য পরিহার
৬৭০. সাবিত থেকে বর্ণিত আছে, সিলাহ ইবনু আশইয়াম বৃক্ষহীন প্রান্তরের এক মাসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে খেলাধুলায় মত্ত কিছু যুবকের দেখা পেতেন। তিনি তাদের বলতেন, "আচ্ছা, বলো তো! যারা সফরে বের হয়ে দিনের বেলা ভুল পথে হাঁটে আর রাতে ঘুমিয়ে পড়ে, তারা কী করে গন্তব্যে পৌঁছাবে?” তার এ কথায় খেলাধুলায় মত্ত এক যুবক সম্বিত ফিরে পায়। সে বলে, "তিনি তো তোমাদের উদ্দেশ্য করেই এই কথাগুলো বলছেন! দিনের বেলায় যদি তোমরা খেলাধুলায় মত্ত থাকো আর রাত হলে ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যাও, তাহলে কখন গন্তব্যে পৌঁছাবে?” বর্ণনাকারী বলেন, সেই যুবকটি এরপর সিলাহ ইবনু আশইয়ামের সাথে লেগে থাকে। ইবাদাত-বন্দেগীর মধ্যেই সে বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়।[৪৬২]
৬৭১. মুসাইয়্যাব ইবনু রাফি থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বলেছেন, “কাউকে নির্লিপ্ত বসে থাকতে দেখলে আমার মনে হয়, সে একটা নির্বোধ।”[৪৮০]
৬৭২. মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বলেছেন: “যে ব্যক্তি না দুনিয়ার কোনো কাজে ব্যস্ত, না আখিরাতের কোনো কাজে ব্যস্ত, তাকে দেখে আমার রাগ লাগে!” [৪৬৪]
৬৭৩. আবূ ইয়ালা হামযা ইবনু আবদিল আযীয বলেন, "আমি আবুল আব্বাস আদ দিন্নাওরিকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়া হোক বা আখিরাত—কোনো জগতেই সময় এবং অন্তরের চেয়ে অধিক মূল্যবান এবং কাম্য কিছু নেই। কিন্তু তুমি উভয়টাকেই বিনষ্ট করে চলেছ।”
৬৭৪. মু'তামির ইবনু সুলাইমান থেকে বর্ণিত, ঈসা বলেছেন: "আমার আগেও এ দুনিয়া ছিল আর আমার পরেও তা থাকবে। দুনিয়াতে আমার জন্য রয়েছে কেবল নির্দিষ্ট কিছু দিন। যদি সে দিনগুলোকে আমি সফল না করতে পারি, তাহলে আর কখন সফলতা লাভ করব?"
৬৭৫. আলি ইবনু মুহাম্মাদ আল কুব্বানি বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায আর-রাযিকে বলতে শুনেছি: 'ক্ষতিগ্রস্ত তো ওই ব্যক্তি, যে অলসতা করে নিজের জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছে। নিজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ধ্বংসাত্মক কাজে নিয়োজিত রেখেছে এবং অপরাধের এই জগত থেকে ফিরে আসার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়ে গেছে।”
৬৭৬. উবায়দুল্লাহ যাহিদা বলেন, "আমি আবূ উসমানকে বলতে শুনেছি: 'কাঁদতে আগ্রহী হওয়ার আগেই কাঁদো। কেননা, ওই সময় আর কাঁদতে পারবে না। নিজেদের অঢেল ধনসম্পদ এবং যৌবন নিয়ে কান্না করো। এরপর অবশিষ্ট জীবনকে গনীমাত (সুবর্ণ সুযোগ) মনে করো।' আলি ইবনু আবী তালিব বলেছেন, মানুষের অবশিষ্ট জীবনের কোনো মূল্য নেই।”
৬৭৭. মালিক ইবনু দিনার থেকে বর্ণিত আছে, ঈসা বলতেন: "দিবস ও রজনী—দুটি ভাণ্ডার। এ দুটিতে তোমরা কী রেখে চলেছ, তা খেয়াল রেখো। রাতকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতে সেই আমল করো। আর দিনে সেই আমল করো, যার জন্য দিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে।"
টিকাঃ
[৪৬২] আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আয যুহد, ৩৩৯。
[৪৬৩] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ১৫৯。
[৪৬৪] তাবারানি, আল মুজামুল কাবীর, ৯/১০৬。
📄 পুণ্যকর্মের মাধ্যমে পাপমোচন
৬৭৮. আসিম থেকে বর্ণিত, ফুযাইল আর রাক্কাশি বলেছেন: "ভাই রে! মানুষের সমাগম যেন তোমাকে নিজের ব্যাপারে উদাসীন করে না দেয়। কেননা, মানুষজন ছাড়াও তুমি এই বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে অর্জন করতে পারবে। কখনো বলবে না যে, এই দিনটি কাটিয়ে দেওয়ার জন্য আমি এখানে যাব, ওখানে যাব। কেননা এই দিন তো বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার নয়, বরং তোমার সকল কর্মকাণ্ডসহ তা সংরক্ষিত থাকবে। মানুষ খুঁজলেই পেয়ে যাবে, এমন সবচেয়ে সহজ জিনিস হলো আগের গুনাহ মোচনকারী নেক আমল।” জুনাহের বর্ণনায় এসেছে, এরপর তিনি তিলাওয়াত করেছেন :
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
"নিশ্চয়ই পুণ্যরাজি পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়, যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটা তাদের জন্য এক উপদেশ।”[৪৬৫]
৬৭৯. আবুল জাওযা থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন, “মানুষ খুঁজলেই পেয়ে যাবে, এমন সবচেয়ে সহজ জিনিস হলো আগের গুনাহ মোচনকারী নেক আমল।” এরপর আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস তিলাওয়াত করেন:
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
"নিশ্চয়ই পুণ্যরাজি পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়, যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটা তাদের জন্য এক উপদেশ।”[৪৬৬]
৬৮০. উকবা বিন আমর বলেন, "আমি নবি -কে বলতে শুনেছি:
إن مثل الَّذِي يَعْمَلُ السَّيِّئَاتِ ، ثُمَّ يَعْمَلُ الْحَسَنَاتِ كَمَثَلِ رَجُلٍ عَلَيْهِ دِرْعُ سَابِغَةُ قَدْ خَنَقَتْهُ كُلَّمَا عَمِلَ حَسَنَةٌ فُكَ عَنْهُ حَلْقَةً
'যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে ফেলার পর ভালো কাজ করে নেয়, সে যেন গলায় প্রশস্ত বর্ম আটকে যাওয়া ব্যক্তির মতো। সে যখন পূণ্যময় কাজ করে, তখন ওই বর্মের একটি করে আংটা খুলে যেতে থাকে।”[৪৬৭]
টিকাঃ
[৪৬৫] সূরা হুদ, ১৪: ১১৪。
[৪৬৬] সূরা হুদ, ১১: ১১৪。
[৪৬৭] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৪/১৪৫; হাদীসের মান সহীহ。
📄 সীমিত সময়ের সদ্ব্যবহার
৬৮১. জাফর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু নুসাইর বলেন, "আমি আবুল কাসিম জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি: 'জীবন তো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। সময় অনেক স্বল্প। দিনগুলো ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাবে আর আমাদের হাতে অতিরিক্ত কোনো সময়ও নেই।”
৬৮২. আবদুর রহমান ইবনু মাহাদি বলেন, "আমরা একবার মক্কায় সুফিয়ান সাওরির সাথে বসে ছিলাম। হঠাৎ তিনি বলে উঠেন, 'দিবস তার আপন গতিতে কাজ করে যাচ্ছে।”
৬৮৩. সুফিয়ান বলেন, “আমি ইবনু আবজারকে বলতে শুনেছি: 'আমাদের জীবনের একটি অংশ গোসলখানাতেই শেষ হয়ে গেল।' আরও বলেন, 'দিবসের ওপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই।”
৬৮৪. আবূ ইয়াজিদ তাইফুর থেকে বর্ণিত, ঈসা আল বিস্তামি বলেছেন: "দিন আর রাত হলো মুমিনের মূলধন। এর মুনাফা জান্নাত এবং লোকসান জাহান্নাম।”
৬৮৫. জাফর বলেন, "আমি মাতর আল ওয়াররাককে বলতে শুনেছি : 'মুমিন তাওবা করে সকাল শুরু করে আর সন্ধ্যাও শুরু করে নিজেকে তিরস্কার করে ও তাওবা করে। সে এরচেয়ে বেশি আর কী করতে পারে?”
৬৮৭. তিনি আরও বলেন, "মাতর আল ওয়াররাককে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করো। কারণ, তিনি ঘোষণা করেছেন, সৎকর্মশীলদের জন্য তাঁর রহমত অতি নিকটবর্তী।”