📄 আনুগত্য ও অবাধ্যতা
৬৫৬. ইউসুফ ইবনু হুসাইন বলেন, “আমি আবুল হাসান ইয়াহইয়া ইবনু হুসাইন আল কাহিরিকে বলতে শুনেছি: ‘মিশর এসে আমি যুননুনের মজলিসে উপস্থিত হই। আমার মধ্যে তখন উপস্থিত লোকদের প্রতি এক ধরনের অহংকার কাজ করছিল। যুননুন আমার এই অবস্থা দেখে বলেন, ‘এমন কোরো না। কেননা আল্লাহ তাআলা তিন ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গোপন রাখেন: কেউ তাঁর বিরুদ্ধাচারণ করলে নিজের রাগ গোপন রাখেন। যারা তাঁর আনুগত্য করে, তাদের প্রতি তিনি নিজ সন্তুষ্টিকে গোপন রাখেন। আর বান্দাদের মধ্যে তিনি নিজ কর্তৃত্বের বহিঃপ্রকাশ গোপন রাখেন। তাই আল্লাহর অবাধ্যতাকে ছোট মনে কোরো না, কেননা এতে তাঁর ক্রোধ হতে পারে। আর আনুগত্যের কোনো কিছুকে তুচ্ছ মনে কোরো না। কেননা, তাতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত থাকতে পারে। তেমনি আল্লাহর সৃষ্টির কাউকে হেয় জ্ঞান কোরো না। কেননা, হতে পারে সে আল্লাহর ওলি।”
৬৫৭. হামীদ আল লাফাফ বলেন, “এক ব্যক্তি হাতিম আল আসামকে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনার কি কোনো কিছুর ইচ্ছা আছে?’ তিনি বলেন, ‘আমি রাত পর্যন্ত পূর্ণ একদিনের সুস্থতা চাই।’ শুনে আমি তাকে বলি, ‘আপনি তো প্রতিদিন সুস্থই আছেন!’ তিনি উত্তর বলেন, ‘কোনো দিন তো তখনই সুস্থ ও নিরাপদ হিসেবে কাটবে, যখন আমি তাতে আল্লাহর কোনো অবাধ্যতা করব না।'”[৪৫৪]
৬৫৮. আবুল হাসান আল মহল্লি বলেন, "আমি জুনাইদ বাগদাদিকে এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনেছি: 'সকল পূণ্যের সমষ্টি রয়েছে তিন বিষয়ে। প্রথমত, দিনকে নিজের উপকারে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলে সেটা নিজের ক্ষতির কাজে ব্যয় কোরো না। দ্বিতীয়ত, ভালো মানুষের সাথে মিশতে না পারলে অন্তত মন্দ মানুষকে বন্ধু বানিয়ো না। তৃতীয়ত, আল্লাহর সন্তুষ্টিতে নিজের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করতে না পারহলে কমপক্ষে তাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে ব্যয় কোরো না।'”
টিকাঃ
[৪৫৪] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৯৬।
📄 মর্যাদার মাপকাঠি বংশ নয়, দ্বীন ও সৎকর্ম
৬৫৯. খালিদ ইবনু খিদাশ বলেন, “ফুযাইল ইবনু ইয়ায একদিন জিজ্ঞেস করেন, 'তুমি কোন গোত্রের?' আমি বললাম, 'মুহাল্লাব।' তিনি তখন বলেন, 'যদি ভালো মানুষ হয়ে থাকো, তাহলে তো তুমি অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত। আর যদি মন্দ হয়ে থাকো, তাহলে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।”
৬৬০. আমর বিন কায়স থেকে বর্ণিত, সালমানকে জিজ্ঞেস করা হয়, “কোন জিনিস আপনার জন্য যথেষ্ট?” তিনি বলেন, “আমার ধর্মই আমার মর্যাদার বিষয়। মাটিই আমার জন্য যথেষ্ট। মাটি থেকে আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং মাটিতেই আমি ফিরে যাব। এরপর একদিন আমাকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। তখন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে আমাকে। যদি আমার পুণ্যের পাল্লা ভারী হয়, তাহলে আমার জন্য যথেষ্ট হওয়া মাটি কতই না মর্যাদাবান! আমার রব তাহলে আমাকে কী মহান সম্মান-ই না দেবেন! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তিনি। আর যদি পাল্লা হালকা হয়ে যায়, তাহলে সেই একই মাটি আমার জন্য কতইনা যন্ত্রণাদায়ক হবে! আমার রবের সামনে তখন আমাকে কতটা লাঞ্ছিত হতে হবে! তিনি তখন আমাকে শাস্তি দেবেন। তবে তিনি চাইলে আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে পারেন এবং আমার অপরাধ ক্ষমা করে দিতে পারেন। "[৪৫৫]
৬৬১. আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
مَن نفَّسَ عن أخيه كربة من كُرَبِ الدُّنيا نفَّسَ اللهُ عنهُ كُربةً من كُرَبِ يوم القيامة، ومن ستر مسلما ستره الله في الدُّنيا والآخرة، ومن يسر على مُعسر يسر الله عليه في الدُّنيا والآخرة، والله في عون العبد ما كان العبد في عون أخيه، ومن سلك طريقا يلتمس فيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللهُ لَهُ طريقا إلى الجنَّة، وما قعد قوم في مسجد يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم، إلا نزلت عليهِمُ السَّكينة، وغشيتهم الرحمة، وحفتهم الملائكة، ومن أبطاً بِهِ عملُهُ لم يُسْرِعْ بِهِ نَسبُهُ
“যে ব্যক্তি নিজ ভাইয়ের পার্থিব কোনো বিপদ দূর করে দেবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাত দিবসে তার বিপদ দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলিমের দুস্থতা দূর করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুস্থতা দূর করবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতা করে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন। যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের জন্য কোনো রাস্তা দিয়ে চলে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোনো সম্প্রদায় মাসজিদে একত্র হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে মিলে (কুরআন) অধ্যয়ন করে, তখন তাদের ওপর শান্তিধারা অবতীর্ণ হয়। রহমত তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং ফেরেশতাগণ তাদের পরিবেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তীদের (ফেরেশতাগণের) মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন। আর যে লোককে তার আমল পেছনে ফেলে দিবে, তার বংশ (মর্যাদা) তাকে অগ্রসর করতে পারবে না। [৪৫৬]
৬৬২. আতা থেকে বর্ণিত, আবূ হুরায়রা বলেছেন, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন:
إِنِّي جَعَلْتُ نَسَبًا وَجَعَلْتُمْ نَسَبًا فَجَعَلْتُ أَكْرَمَكُمْ أَتْقَاكُمْ وَأَنْتُمْ تَقُولُونَ أَنَا فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ وَأَنَا أَكْرَمُ مِنْكَ ، وَأَنَا الْيَوْمَ أَرْفَعُ نَسَبِي وَأَضَعُ نَسَبَكُمْ ، أَيْنَ الْمُتَّقُونَ؟
“হে লোকসকল, আমি মর্যাদার এক ধরনের মাপকাঠি নির্ধারণ করেছি। আর তোমরা নিজেরা আরেক ধরনের মাপকাঠি বানিয়ে নিয়েছ। যারা সবচেয়ে আল্লাহভীরু, আমি তাদের সবচেয়ে সম্মানিত করেছি। কিন্তু তোমরা বলো যে, অমুকের পুত্র অমুক অমুকের চেয়ে অধিক সম্মানিত। আজ আমি আমার মাপকাঠিকে উঁচু করব আর তোমাদের মাপকাঠিকে নিচু করে দেব! মুত্তাকীরা কোথায়?”
টিকাঃ
[৪৫৫] ইবনু আসাকির, তাহযিবু তারিখি দিমাশক, ৬/ ২০০-এ এর মর্মার্থ রয়েছে。
[৪৫৬] মুসলিম, আস সহীহ, ২৬৯৯。
📄 যথেষ্ট ভেবে আমল ছেড়ে দেওয়া নয়
৬৬৩. জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, “সিররি সাকতি আমাকে বলেছেন: 'কবরকে তোমার ধনভাণ্ডার বানাও, সকল কল্যাণ দিয়ে তা পরিপূর্ণ করে তুলো, যেন তাতে প্রবেশ করে পূর্বে পাঠানো উত্তম আমলগুলো দেখে আনন্দিত হতে পারো।”
৬৬৪. আল্লাহ তাআলার বাণী: تَمَامًا عَلَى الَّذِي أَحْسَنَ
"(অতঃপর আমি মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছি) সৎকর্মশীলদের নিয়ামাত পূর্ণ করার জন্য।”[৪৫৭]
কাতাদা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করে, পরকালে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকৃত মর্যাদা লাভ করে." [৪৫৮]
৬৬৫. হাসান ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, বিশর ইবনুল হারিস বলেছেন : “সৎকর্মশীলগণ দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ অর্জন করে ফেলেছে।”
৬৬৬. আবূ আবদিল্লাহ হাফিয বলেন, “আমি ফারিস ইবনু ঈসাকে বলতে শুনেছি : 'আবুল কাসিম জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ অনেক বেশি সালাত আদায় করতেন। আমি দেখেছি মুমূর্ষ অবস্থায় সিজদাহ করার জন্য তার সামনে বালিশ রাখা হয়েছিল। তাকে তখন কেউ একজন বলে, নিজেকে একটু শান্তি দিন না! তিনি বলেন, আমি যে পথের মাধ্যমে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছেছি, তা তো ছেড়ে দিতে পারি না।"
৬৬৭. আবু আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, "আমি এক শাইখের সূত্রে আবুল হুসাইন ফারিসিকে বলতে শুনেছি: জুনাইদ বাগদাদির হাতে একদিন তাসবীহের মালা দেখে তাকে বলা হলো, 'আবুল কাসিম, আপনি এত উঁচু মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এত তাসবীহ জপেন?' তিনি উত্তরে বলেন, 'হ্যাঁ, এর মাধ্যমেই তো এ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি। কস্মিনকালেও আমরা এটা ছেড়ে দিতে পারি না।” [৪৫৯]
৬৬৮. আবুল হুসাইন মালিকি বলেন, "আমি জুনাইদ বাগদাদিকে বলতে শুনেছি : 'চেষ্টাসাধনার মাধ্যমেই সকল সম্মানিত জগতের দুয়ার খুলে যেতে পারে।” [৪৬০]
৬৬৯. ইবনু শাওযাব থেকে বর্ণিত, হারম ইবনু হাইয়্যান বলেছেন: “যদি আমাকে বলা হয়, 'তুমি তো জাহান্নামি,' তবুও আমি আমল করা ছেড়ে দেব না। কেননা, আমার নফস তখন আমাকে তিরস্কার করতে থাকবে।”[৪৬১]
টিকাঃ
[৪৫৭] সূরা আনআম, ৬: ১৫৪。
[৪৫৮] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/৩৪০。
[৪৫৯] ইবনুল মুলাক্কিন, তাবাকাতুল আউলিয়া, ১২৮。
[৪৬০] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২৬১。
[৪৬১] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/১২২。
📄 আলস্য পরিহার
৬৭০. সাবিত থেকে বর্ণিত আছে, সিলাহ ইবনু আশইয়াম বৃক্ষহীন প্রান্তরের এক মাসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে খেলাধুলায় মত্ত কিছু যুবকের দেখা পেতেন। তিনি তাদের বলতেন, "আচ্ছা, বলো তো! যারা সফরে বের হয়ে দিনের বেলা ভুল পথে হাঁটে আর রাতে ঘুমিয়ে পড়ে, তারা কী করে গন্তব্যে পৌঁছাবে?” তার এ কথায় খেলাধুলায় মত্ত এক যুবক সম্বিত ফিরে পায়। সে বলে, "তিনি তো তোমাদের উদ্দেশ্য করেই এই কথাগুলো বলছেন! দিনের বেলায় যদি তোমরা খেলাধুলায় মত্ত থাকো আর রাত হলে ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যাও, তাহলে কখন গন্তব্যে পৌঁছাবে?” বর্ণনাকারী বলেন, সেই যুবকটি এরপর সিলাহ ইবনু আশইয়ামের সাথে লেগে থাকে। ইবাদাত-বন্দেগীর মধ্যেই সে বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়।[৪৬২]
৬৭১. মুসাইয়্যাব ইবনু রাফি থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বলেছেন, “কাউকে নির্লিপ্ত বসে থাকতে দেখলে আমার মনে হয়, সে একটা নির্বোধ।”[৪৮০]
৬৭২. মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বলেছেন: “যে ব্যক্তি না দুনিয়ার কোনো কাজে ব্যস্ত, না আখিরাতের কোনো কাজে ব্যস্ত, তাকে দেখে আমার রাগ লাগে!” [৪৬৪]
৬৭৩. আবূ ইয়ালা হামযা ইবনু আবদিল আযীয বলেন, "আমি আবুল আব্বাস আদ দিন্নাওরিকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়া হোক বা আখিরাত—কোনো জগতেই সময় এবং অন্তরের চেয়ে অধিক মূল্যবান এবং কাম্য কিছু নেই। কিন্তু তুমি উভয়টাকেই বিনষ্ট করে চলেছ।”
৬৭৪. মু'তামির ইবনু সুলাইমান থেকে বর্ণিত, ঈসা বলেছেন: "আমার আগেও এ দুনিয়া ছিল আর আমার পরেও তা থাকবে। দুনিয়াতে আমার জন্য রয়েছে কেবল নির্দিষ্ট কিছু দিন। যদি সে দিনগুলোকে আমি সফল না করতে পারি, তাহলে আর কখন সফলতা লাভ করব?"
৬৭৫. আলি ইবনু মুহাম্মাদ আল কুব্বানি বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায আর-রাযিকে বলতে শুনেছি: 'ক্ষতিগ্রস্ত তো ওই ব্যক্তি, যে অলসতা করে নিজের জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছে। নিজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ধ্বংসাত্মক কাজে নিয়োজিত রেখেছে এবং অপরাধের এই জগত থেকে ফিরে আসার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়ে গেছে।”
৬৭৬. উবায়দুল্লাহ যাহিদা বলেন, "আমি আবূ উসমানকে বলতে শুনেছি: 'কাঁদতে আগ্রহী হওয়ার আগেই কাঁদো। কেননা, ওই সময় আর কাঁদতে পারবে না। নিজেদের অঢেল ধনসম্পদ এবং যৌবন নিয়ে কান্না করো। এরপর অবশিষ্ট জীবনকে গনীমাত (সুবর্ণ সুযোগ) মনে করো।' আলি ইবনু আবী তালিব বলেছেন, মানুষের অবশিষ্ট জীবনের কোনো মূল্য নেই।”
৬৭৭. মালিক ইবনু দিনার থেকে বর্ণিত আছে, ঈসা বলতেন: "দিবস ও রজনী—দুটি ভাণ্ডার। এ দুটিতে তোমরা কী রেখে চলেছ, তা খেয়াল রেখো। রাতকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতে সেই আমল করো। আর দিনে সেই আমল করো, যার জন্য দিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে।"
টিকাঃ
[৪৬২] আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আয যুহد, ৩৩৯。
[৪৬৩] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ১৫৯。
[৪৬৪] তাবারানি, আল মুজামুল কাবীর, ৯/১০৬。