📄 দুষ্ট গোলামের উপমা
৬৩৫. হাসান থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
أَرَأَيْتُمْ لَوْ كَانَ لأَحَدِكُمْ عَبْدَانِ فَكَانَ أَحَدُهُمَا يُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَهُ وَيُؤَدِّي إِلَيْهِ إِذَا اثْتَمَنَهُ وَيَنْصَحُ لَهُ إِذَا غَابَ عَنْهُ ، وَكَانَ الْآخَرُ يَغْضَبُ إِذَا أَمَرَهُ, وَيَخُونُهُ إِذَا اشْتَمَنَهُ, وَيَغُشُهُ إِذَا غَابَ عَنْهُ كَانَا عِنْدَهُ سَوَاءٌ ؟ قَالُوا : لَا ، قَالَ : فَكَذَلِكَ أَنْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
"আচ্ছা ধরো, কারো দুটি গোলাম আছে। একজন মনিবের নির্দেশ পালন করে, তার কাছে আমানত রাখলে তা আদায় করে, মনিবের অনুপস্থিতিতে তার বিষয়াদি দেখাশোনা করে। আর অপরজনকে কোনো আদেশ দিলে রেগে যায়, আমানত রাখলে খিয়ানত করে, মনিব কোথাও চলে গেলে তাকে ধোঁকা দেয়। মনিবের কাছে কি তারা উভয়ে সমান হতে পারে?” সাহাবায়ে কেরাম বললেন, “জ্বি না।” নবি তখন বলেন, “তেমনিভাবে আল্লাহর কাছে তোমাদের অবস্থাও এমন।”[৪৪১]
টিকাঃ
[৪৪১] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৪/১৩৬; হাদীসটির আরও শাহিদ রয়েছে। সনদ সহীহ。
📄 প্রতি মুহূর্তে নতুন নিয়ামত অথবা আযাব
৬৩৬. হাইসাম ইবনু ইমরান বলেন, “আমি কুলসুম ইবনু ইয়ায আল কুশাইরিকে দামিশকের মিম্বারে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর বিষয়াদিকে প্রাধান্য দেয়, আল্লাহ তাআলা তার বিষয়াদিকে প্রাধান্য দেন। যে আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া নিয়ামাতকে তাঁর আনুগত্যে লাগায়, সেগুলোকে তাঁর অবাধ্যতায় ব্যয় করে না, আল্লাহ তাআলা তাকে রহম করুন। পূণ্যময় কাজ সম্পাদনকারীকে প্রতি মুহূর্তেই নতুন কোনো নিয়ামাত প্রদান করা হয়, এর পরিচয়ও জানে সে। তেমনি আল্লাহর শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিও প্রতি মুহূর্তে অভিনব শাস্তি পেতে থাকে, যার সাথে তার পূর্ব পরিচিতি ছিল না।”
📄 নেককাজে সর্বশক্তি নিয়োগ
৬৩৭. আবদুল্লাহ ইবনু জারাদ থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
اطْلُبُوا الْخَيْرَ دَهْرَكُمْ ، وَاهْرَبُوا مِنَ النَّارِ جُهْدَكُمْ ، فَإِنَّ الْجَنَّةَ لَا يَنَامُ طَالِبُهَا وَإِنَّ النَّارِ لا يَنَامُ هَارِبُهَا ، وَإِنَّ الآخِرَةَ مُحَفَّفَةٌ بِالْمَكَارِهِ ، وَحَصَرَ مَوَارِدَهَا النَّوْمُ ، وَإِنَّ الدُّنْيَا مُحَفَّفَةٌ بِاللَّذَاتِ وَالشَّهَوَاتِ, فَلَا تُلْهِيَنَّكُمْ شَهَوَاتُ الدُّنْيَا وَلَذَّاتُهَا عَنِ الآخِرَةِ ، إِنَّهُ لَا دُنْيَا لِمَنْ لا آخِرَةَ لَهُ ، وَلَا آخِرَةَ لِمَنْ لَا دُنْيَا لَهُ ، إِنَّ اللَّهَ قَدِ أَبْلَغَ فِي الْمَعْذِرَةِ وَبَلَغَ الْمَوْعِظَةَ ، إِنَّ اللَّهَ قَدِ أَحَلَّ كَثِيرًا طَيِّبًا لَكُمْ فِيهِ سَعَةٌ ، وَحَرَّمَ خَبِيثًا فَاجْتَنِبُوا مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ ، وَأَطِيعُوا اللَّهَ ، فَإِنَّهُ لَنْ يَحِلَّ اللهُ شَيْئًا حَرَّمَهُ وَلَنْ يُحَرِّمَ شَيْئًا أَحَلَّهُ ، وَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الْحَرَامَ ، وَأَكَلَ الحَلالَ أَطَاعَ الرَّحْمَنَ ، وَاسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا ، وَاجْتَمَعَتْ لَهُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ هَذَا لِمَنْ أَطَاعَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ "
“যুগভরে কল্যাণ তালাশ করো। সর্বশক্তি দিয়ে জাহান্নাম থেকে পালাও। জান্নাতের সন্ধানকারী ঘুমাতে পারে না আর জাহান্নাম থেকে পলায়নকারীও ঘুমাতে পারে না। আখিরাত তো কষ্টকর সব বিষয় দিয়ে পরিপূর্ণ। সেখানে পৌঁছানোর রাস্তাগুলো সংকীর্ণ করে দিয়েছে ঘুম। আর দুনিয়া ভোগ-বিলাসিতা দিয়ে পরিপূর্ণ। তাই দুনিয়ার প্রবৃত্তি এবং বিলাস- উপকরণ যেন তোমাদের আখিরাতের কথা ভুলিয়ে না দেয়। জেনে রাখো, যার আখিরাত নেই তার দুনিয়া নেই। আর যার দুনিয়া নেই তার আখিরাত নেই। আল্লাহ তাআলা (সবগুলো এতো সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি) আমাদের জন্য অজুহাত রখেননি। উপদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে গেছেন। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য অনেক উত্তম বিষয় হালাল করেছেন আর নিকৃষ্ট জিনিসগ্যলো করেছেন হারাম। তাই তিনি যা হারাম করেছেন, তা থেকে বেঁচে থাকো এবং আল্লাহর আনুগত্য করো। আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন, তা হালাল মনে করা যাবে না। আর যা তিনি হালাল রেখেছেন, তা অবৈধ মনে করা যাবে না। যে ব্যক্তি হারাম ত্যাগ করে হালাল আহার গ্রহণ করল, সে রহমানের আনুগত্য করল এবং এমন শক্ত রজ্জু আঁকড়ে ধরল, যা কখনো বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়। দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়টাই পেয়ে গেছে সে। যে আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করে, এগুলো তারই জন্য।”[৪৪২]
টিকাঃ
[৪৪২] আলি মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ৫/৯৩২。
📄 তিন ধরনের জিহাদ
৬৩৮. হামিদ আল লাফাফ বলেন, "আমি হাতিম আল আসামকে বলতে শুনেছি: 'জিহাদ তিন ধরনের। একটা হলো গোপনে শয়তানের সঙ্গে জিহাদ। তাকে পরাজিত করে দেওয়া পর্যন্ত এ জিহাদ অব্যাহত থাকবে। আরেকটা হলো আল্লাহর বিধি-বিধান আদায়ের জন্য প্রকাশ্যে জিহাদ। আল্লাহ তাআলা যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবে আদায় পর্যন্ত তা চলতে থাকবে। তৃতীয়টা হলোইসলামকেশক্তিশালীকরার জন্যআল্লাহরশত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ।'” [৪৪৩]
টিকাঃ
[৪৪৩] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, ১/৯৬。