📄 শ্রেষ্ঠর আনুগত্য করার মাধ্যমে সৃষ্টির আনুগত্য অর্জন
৬২৫. আলি আর-রাযি থেকে বর্ণিত, ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর খিদমাত করতে আনন্দবোধ করে, পৃথিবীর সবকিছুই তার খিদমাত করতে আনন্দ পায়। আল্লাহর মাধ্যমে যার চোখ শীতল হয়, তাকে দেখেও প্রতিটি জিনিসের চোখ শীতল হয়ে যায়." [৪৩৪]
৬২৬. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, "আমি আবূ সুলাইমানকে বলতে শুনেছি: 'দিনের বেলা যে ভালো ভালো কাজ করে, আল্লাহ তাআলা রাতে তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে রাতে ভালো কাজ করে, আল্লাহ তাআলা তার রাতের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যে প্রকৃত অর্থেই প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তর থেকে সেই চাহিদা বিদূরীত করে দেন। যে অন্তর আল্লাহর জন্য প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করেছে, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না।” [৪৩৫]
৬২৭. তিনি আরও বলেন, "আমি আবু সুলাইমানকে বলতে শুনেছি : 'যে ব্যক্তি সত্য কথা বলে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে উত্তম আচরণ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।” [৪৩৬]
টিকাঃ
[৪৩৪] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ১১৩。
[৪৩৫] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৭৭。
📄 আল্লাহর দয়া ব্যতীত মানুষের চেষ্টা যথেষ্ট নয়
৬২৮. মুহাম্মাদ ইবনু আলি আল কাত্তানি বলেন, "আমি আবূ সাঈদ আল খাররাযকে বলতে শুনেছি : 'যে মনে করে যে, চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেই এ (জগতের) গন্তব্যে পৌঁছে যাবে, গন্তব্যে পৌঁছেও তাকে পরিশ্রমই করে যেতে হয়। আর যে মনে করে যে, চেষ্টা ছাড়াই সে পৌঁছে যাবে, গন্তব্যে পৌঁছেও সে আরও উঁচু স্তরে উঠার আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে।”
৬২৯. আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ আল রাযি বলেন, “আমি আবূ উসমান আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি মনে করে, এই পথের (আধ্যাত্মিকতার) কোনো কিছু নিতান্ত অধ্যবসায়ের কারণেই তার জন্য খুলে দেওয়া হবে, সে ভুলের ওপর রয়েছে।”
৬৩০. হাম্মাম ইবনু হারিস বলেন, “জুনাইদকে বলতে শুনেছি: 'সকল গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রেই চেষ্টা-সাধনা করতে হয়। কিন্তু চেষ্টা-সাধনা করে যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে খুঁজতে চায়, সে ওই ব্যক্তির মতো নয়, যে বদান্যতার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে খোঁজে।” [৪৩৭]
৬৩১. মুহাম্মাদ বিন খফিফ বলেন, “রুআইম ইবনু আহমাদকে বলেছিলাম, 'আমাকে উপদেশ দিন।' তিনি বলেছিলেন, 'এই বিষয়ে চেষ্টা-সাধনার পরিমাণ কমিয়ে দাও। তুমি চেষ্টা-সাধনা ছাড়াই এতে প্রবেশ করতে পারো, তাহলে তো ভালো। অন্যথায় সুফিদের বাজে বিষয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ো না।'” [৪৩৮]
টিকাঃ
[৪৩৬] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৭৭。
[৪৩৭] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, ১৫৭。
[৪৩৮] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ১৮৩。
📄 নফস ও দ্বীনের বৈপরীত্য
৬৩২. আবূ আবদির রহমান বলেন, “আমি আমার দাদা আবূ আমরকে বলতে শুনেছি : 'নফস যার কাছে সম্মানিত হয়ে উঠে, দ্বীন-ধর্ম তার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়।” [৪৩৯]
টিকাঃ
[৪৩৯] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৪৫৫。
📄 শক্তিকে ভালো কাজে লাগানো
৬৪৮. আসমায়ি থেকে বর্ণিত, এক বেদুইন কিছু লোককে নসীহত করে বলছিল: "আল্লাহ তাআলা ওই শক্তিশালী ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করুন, যে তার শক্তিকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করেছে। কিন্তু গুনাহের ক্ষেত্রে দুর্বল থেকেছে বলে আল্লাহর অবাধ্যতা করেনি।"
৬৩৩. ইবনু তাউস থেকে বর্ণিত আছে, সুফিয়ান সাওরি তার সঙ্গীদের চারটি বিষয়ের কথা লিখে পাঠাতেন : “আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে নিজেকে বশীভূত করে ফেলো। আর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে নিজেকে অবাধ্য করে তোলো (অর্থাৎ, আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ো না)। মানুষের তাকওয়া অনুযায়ী তাদের সাথে মেশো। যুহদ তথা দুনিয়াবিমুখতার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করো।”[৪৪০]
টিকাঃ
[৪৪০] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/২১。