📄 মানুষের নিজের বেছে নেওয়া গুরুত্বার
৬১২. আল্লাহ তাআলার বাণী:
إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا
"আমি আসমান, জমিন ও পর্বতমালার প্রতি এই আমানত পেশ করেছিলাম, এরা একে বহন করতে অস্বীকার করল এবং ভীত হলো।”[৪২২]
আতিয়্যা থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, "আসমান, জমিন এবং পাহাড়কে আল্লাহর আনুগত্য করার এবং তাঁর অবাধ্যতার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তারা এই দায়িত্ব নিতে রাজি তো হয়ইনি, উলটো ভয় পেয়ে গেছে। পরে তা আদম আলাইহিস সালাম -এর সামনে পেশ করে বলা হয়েছে, 'আপনি কি এই বিষয়টি নেবেন?' তিনি বলেন, 'কী এটা?'
তাঁকে বলা হলো, 'যদি ভালো কাজ করেন, তাহলে প্রতিদান পাবেন আর মন্দ কাজ করলে শাস্তি দেওয়া হবে।' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, নিব।”
টিকাঃ
[৪২২] সূরা আহযাব, ৩৩: ৭২।
📄 প্রাপ্যের চেয়ে বেশি প্রতিদান লাভ
৬১৩. আবু হুরায়রা বলেন, “নবি আমাদের বলেছেন :
إِنَّهُ مَنْ عَمِلَ حَسَنَةٌ كُتِبَ لَهُ أَلْفُ أَلْفُ حَسَنَة 'যে ব্যক্তি পূণ্যের একটি কাজ করে, তার আমলনামায় এক লক্ষ সাওয়াব লিখে দেওয়া হয়।' তারপর তিনি তিলাওয়াত করেন,
وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا 'এবং নিজের পক্ষ থেকে তাকে মহাপ্রতিদান দান করেন।[৪২৩] এই মহাপ্রতিদান হলো জান্নাত।”[৪২৪]
৬১৪. উসমান আন নাহদি বলেন, “জানতে পেরেছি যে, আবূ হুরায়রা বলেছেন, 'আমি নবি-কে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তাআলা মুমিনের পূণ্যময় কাজ দ্বিগুণ করে দেন।' একদিন পথ চলতে চলতে আবূ হুরায়রা -এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়ে যায়। তাঁকে জিজ্ঞেস করি, 'আপনি নাকি নবি-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ তাআলা মুমিনের পুণ্যময় কাজকে এক লক্ষ গুণ বৃদ্ধি করে দেন?' আবূ হুরায়রা বলেন, 'না। বরং আমি তাকে বলতে শুনেছি, একটি পুণ্য কাজকে তিনি দুই লক্ষ গুণ বৃদ্ধি করে দেন।' এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন: إِنَّ الله لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِن تَكُ حَسَنَةٌ يُضَاعِفُهَا وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا 'নিশ্চয়ই আল্লাহ কারও প্রতি অণু-পরিমাণ যুলুম করেন না। আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিরাট সাওয়াব দান করেন।[৪২৫]
আবূ হুরায়রা এরপর বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যে বিষয়কে বিরাট বলেছেন, তার পরিমাণ তো তুমি জানো না।’”[৪২৬]
টিকাঃ
[৪২৩] সূরা নিসা, ৪:৪০।
[৪২৪] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৩/ ৩৪৯, ৩৫০।
[৪২৫] সূরা নিসা, ৪:801
[৪২৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২/৫২১, ৫২২; এর সনদ জাইয়িদ।
📄 আখিরাতের কাজে তাড়াহুড়া করা
৬১৫. মুসআব ইবনু সাদ তার বাবার থেকে বর্ণনা করেন, আমাশ বলেছেন, “আমার জানামতে বিষয়টা নবি থেকেই বর্ণিত হয়েছে যে,
التَّوَّدَةُ فِي كُلِّ شَيْءٍ إِلَّا فِي عَمَلِ الآخِرَةِ 'সর্বক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা উচিত হলেও আখিরাতের বিষয়ে তা নয়।”[৪২৭]
টিকাঃ
[৪২৭] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ১/৬৩, ৬৪; হাদীসটির সনদ সহীহ।
📄 মৃত মাত্রই আফসোসকারী
৬১৬. আবূ হুরায়রা বলেন, "আমি নবি-কে বলতে শুনেছি:
مَا مِنْ أَحَدٍ يَمُوتُ إِلا نَدِمَ, وَقَالُوا : وَمَا نَدَامَتُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ : إِنْ كَانَ مُحْسِنًا نَدِمَ أَنْ لا يَكُونَ ازْدَادَ ، وَإِنْ كَانَ مُسِيئًا نَدِمَ أَنْ لَا يَكُونَ نَزَعَ 'যে-ই মারা যায়, সে-ই আফসোস করে।' সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, 'কেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ?' তিনি বলেন, 'লোকটি সৎকর্মশীল হলে আফসোস করে যে, কেন আরও বেশি সৎকর্ম করল না! আর পাপাচারী হলে আফসোস করে যে, কেন নিজেকে পাপাচার থেকে নিবৃত্ত করল না।”[৪২৮]
টিকাঃ
[৪২৮] আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আয যুহদ, ১১; হাদীসটির সনদ গরীব।