📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়াতে সত্যিকারের কল্যাণ

📄 দুনিয়াতে সত্যিকারের কল্যাণ


৬০৯. সাদ বিন তুরাইফ থেকে বর্ণিত, আলি বলেছেন: “অর্থ-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াটা কল্যাণকর নয়; বরং কল্যাণ হলো আমলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, সহনশীলতা অধিক হওয়া, অতি দ্রুত নিজ প্রতিপালকের ইবাদাতে মগ্ন হওয়া। দুনিয়াতে কেবল দুই ব্যক্তির জন্যই কল্যাণ রয়েছে: এক ব্যক্তি হলো, যে বহু গুনাহ ও পাপাচার করেছে, এরপর তাওবা করে গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত করে নিয়েছে। আরেক ব্যক্তি হলো, তাওবা করার পরপরই যার মৃত্যু হয়ে গেছে।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আমলের ফল দুনিয়াতেও মেলে

📄 আমলের ফল দুনিয়াতেও মেলে


৬১০. বিলাল ইবনু আবীদ দারদা থেকে বর্ণিত, আবৃদ দারদা বলেছেন: “যা কিছু দেখে আশ্চর্যান্বিত হও, তা তোমাদেরই আমলের ফল। যদি তোমাদের আমল ভালো হয়, তাহলে তো বেশ, বেশ! আর যদি আমল মন্দ হয়, তাহলে আফসোস আর আফসোস। আমি নবি ﷺ থেকে এমনটিই শুনেছি।”[৪২০]

৬১১. আবূ কিলাবা থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেছেন :
البر لا يبلى، والإثم لا يُنسى ، والدَّيَانُ لا ينام، فكن كما شِئْتَ، كما تَدِينُ تدان
"পূণ্যময় কাজ কখনো পুরাতন হয় না। পাপাচারের কথা কখনো ভুলা হয় না। মহান বিচারক আল্লাহ তাআলা ঘুমান না। অতএব, তোমার যেমন ইচ্ছা তেমন হতে পারো। যেমন করবে, তেমন ফল পাবে।”[৪২১]

টিকাঃ
[৪২০] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০/ ২৩১; এটা কেবল এই সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। এর মতন গরিব। কেবল উকাইলি এটা বর্ণনা করেছেন।
[৪২১] আবদুর রাযযাক সানআনি, আল মুসান্নাফ, ১১/ ১৭৮, ১৭৯; এর সনদ মুরসাল ও মুনকাতি।

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মানুষের নিজের বেছে নেওয়া গুরুত্বার

📄 মানুষের নিজের বেছে নেওয়া গুরুত্বার


৬১২. আল্লাহ তাআলার বাণী:
إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا
"আমি আসমান, জমিন ও পর্বতমালার প্রতি এই আমানত পেশ করেছিলাম, এরা একে বহন করতে অস্বীকার করল এবং ভীত হলো।”[৪২২]
আতিয়্যা থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, "আসমান, জমিন এবং পাহাড়কে আল্লাহর আনুগত্য করার এবং তাঁর অবাধ্যতার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তারা এই দায়িত্ব নিতে রাজি তো হয়ইনি, উলটো ভয় পেয়ে গেছে। পরে তা আদম আলাইহিস সালাম -এর সামনে পেশ করে বলা হয়েছে, 'আপনি কি এই বিষয়টি নেবেন?' তিনি বলেন, 'কী এটা?'
তাঁকে বলা হলো, 'যদি ভালো কাজ করেন, তাহলে প্রতিদান পাবেন আর মন্দ কাজ করলে শাস্তি দেওয়া হবে।' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, নিব।”

টিকাঃ
[৪২২] সূরা আহযাব, ৩৩: ৭২।

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 প্রাপ্যের চেয়ে বেশি প্রতিদান লাভ

📄 প্রাপ্যের চেয়ে বেশি প্রতিদান লাভ


৬১৩. আবু হুরায়রা বলেন, “নবি আমাদের বলেছেন :
إِنَّهُ مَنْ عَمِلَ حَسَنَةٌ كُتِبَ لَهُ أَلْفُ أَلْفُ حَسَنَة 'যে ব্যক্তি পূণ্যের একটি কাজ করে, তার আমলনামায় এক লক্ষ সাওয়াব লিখে দেওয়া হয়।' তারপর তিনি তিলাওয়াত করেন,
وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا 'এবং নিজের পক্ষ থেকে তাকে মহাপ্রতিদান দান করেন।[৪২৩] এই মহাপ্রতিদান হলো জান্নাত।”[৪২৪]

৬১৪. উসমান আন নাহদি বলেন, “জানতে পেরেছি যে, আবূ হুরায়রা বলেছেন, 'আমি নবি-কে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তাআলা মুমিনের পূণ্যময় কাজ দ্বিগুণ করে দেন।' একদিন পথ চলতে চলতে আবূ হুরায়রা -এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়ে যায়। তাঁকে জিজ্ঞেস করি, 'আপনি নাকি নবি-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ তাআলা মুমিনের পুণ্যময় কাজকে এক লক্ষ গুণ বৃদ্ধি করে দেন?' আবূ হুরায়রা বলেন, 'না। বরং আমি তাকে বলতে শুনেছি, একটি পুণ্য কাজকে তিনি দুই লক্ষ গুণ বৃদ্ধি করে দেন।' এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন: إِنَّ الله لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِن تَكُ حَسَنَةٌ يُضَاعِفُهَا وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا 'নিশ্চয়ই আল্লাহ কারও প্রতি অণু-পরিমাণ যুলুম করেন না। আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিরাট সাওয়াব দান করেন।[৪২৫]
আবূ হুরায়রা এরপর বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যে বিষয়কে বিরাট বলেছেন, তার পরিমাণ তো তুমি জানো না।’”[৪২৬]

টিকাঃ
[৪২৩] সূরা নিসা, ৪:৪০।
[৪২৪] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৩/ ৩৪৯, ৩৫০।
[৪২৫] সূরা নিসা, ৪:801
[৪২৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২/৫২১, ৫২২; এর সনদ জাইয়িদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00