📄 বাইরে বের হলে ফেরেশতা অথবা শয়তান সাথে থাকে
৬০৬. আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
مَا مِنْ خَارِجِ يَخْرُجُ إِلَّا بِبَابِهِ رَايَتَانِ رَايَةٌ بِيَدِ مَلَكِ وَرَايَةٌ بِيَدِ شَيْطَانٍ فَإِنْ خَرَجَ فِيمَا يُحِبُّ اللهُ تَبِعَهُ الْمَلَكُ بِرَايَتِهِ فَلَمْ يَزَلْ تَحْتَ رَايَةِ الْمَلَكِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ وَإِنْ خَرَجَ فِيمَا يُسْخِطُ اللهَ تَبِعَهُ الشَّيْطَانُ بِرَايَتِهِ فَلَمْ يَزَلْ تَحْتَ رَايَةِ الشَّيْطَانِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ “প্রত্যেক প্রস্থানকারীর দরজায় দুটি পতাকা থাকে। একটি পতাকা থাকে ফেরেশতার হাতে, অন্যটি শয়তানের হাতে। মানুষ যদি আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় কাজে ঘর থেকে বের হয়, তাহলে ফেরেশতা পতাকা নিয়ে তার পেছনে পেছনে যেতে থাকে। ঘরে ফেরা পর্যন্ত ফেরেশতার পতাকার নিচেই থাকে সে। আর যদি আল্লাহ তাআলার অপছন্দনীয় কাজে বের হয়, তাহলে শয়তান তার অনুগামী হয়ে যায়। ঘরে ফেরা পর্যন্ত সে শয়তানের পতাকার নিচেই থাকে।”[৪১৭]
টিকাঃ
[৪১৭] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২/৩২৩; হাদীসটির সনদ হাসান।
📄 যা কিছু সর্বোচ্চ
৬০৭. আমর ইবনু আবাসা আস সুলামি বলেন, “আমি নবি -কে জিজ্ঞেস করি,
مَنْ بَايَعَكَ عَلَى هَذَا الْأَمْرِ؟ قَالَ : حُرٌّ وَعَبْدُ قَالَ : فَأَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ وَحُسْنُ الْخُلُقِ ، قُلْتُ : فَأَيُّ الإِسْلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : الْفِقْهُ فِي دِينِ اللهِ وَالْعَمَلُ فِي طَاعَةِ اللهِ وَحُسْنُ الظَّنِّ بِاللَّهِ، قُلْتُ : فَأَيُّ الْمُسْلِمِينَ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ ، قُلْتُ : فَأَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ ؟ قَالَ : إِطْعَامُ الطَّعَامِ ، وَإِفْشَاءُ السَّلَامِ ، وَطَيِّبُ الْكَلامِ ، قُلْتُ : فَأَيُّ الصَّلاةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : الصَّلَاةُ لِوَقْتِهَا ، وَطُولُ الْقُنُوتِ وَحُسْنُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ قُلْتُ : فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : أَنْ تَهْجُرَ مَا كَرِهَ اللهُ, قُلْتُ فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللهِ, وَهَجَرَ مَا حَرَّمَ اللهُ, قُلْتُ : فَأَيُّ سَاعَاتِ اللَّيْلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرِ ، فَإِنَّ اللَّهَ يَفْتَحُ فِيهِ أَبُوابَ السَّمَاءِ ، وَيَطَّلِعُ فِيهِ إِلَى خَلْقِهِ وَيَسْتَجِيبُ فِيهِ الدُّعَاءَ
'এই বিষয়ে আপনার হাতে কারা বাইয়াত দিয়েছে?' তিনি বলেন, 'স্বাধীন এবং দাস শ্রেণির লোকেরা।' জিজ্ঞেস করলাম, 'কোন আমল সর্বোত্তম?'
উত্তরে নবি বলেন, 'ধৈর্য, ক্ষমা এবং উত্তম চরিত্র।'
'কোন ইসলাম সর্বোত্তম?'
'আল্লাহর দ্বীনের গভীর জ্ঞান, আল্লাহর আনুগত্য এবং আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা রাখা।'
'কোন মুসলিম সর্বোত্তম?'
'যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।'
'কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়?'
'খাবার খাওয়ানো, সালামের প্রচলন ঘটানো এবং উত্তম কথা বলা।'
'কোন সালাত সর্বোত্তম?'
'সময়মতো, উত্তমভাবে রুকু সিজদাহ করে দীর্ঘ খুশুর সাথে যা আদায় করা হয়।'
'কোন হিজরত সর্বোত্তম?'
'আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন—এমন সবকিছু পরিত্যাগ করা।'
'রাতের কোন সময়টা সর্বোত্তম?'
'শেষ রাতের মধ্যভাগ। কারণ, এসময় আল্লাহ তাআলা আসমানের সব দরজা খুলে দেন এবং সৃষ্টিজীবের প্রতি নজর দেন ও দুআ কবুল করেন।”[৪১৮]
টিকাঃ
[৪১৮] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৪/৩৮৬; হাদীসটির সুনদ হাসান।
📄 মানুষের দ্বিমুখীতার স্বরূপ
৬০৮. খুলাইদ বিন দালাজ থেকে বর্ণিত, কাতাদা বলেছেন: “তাওরাতে লেখা রয়েছে, 'হে বনী আদম, আমি তোমাকে রিযক দিই, অথচ তুমি অন্যের দাসত্ব করো। হে বনী আদম, তুমি পাপিষ্ঠদের মতো কাজ করে পুণ্যবানদের সাওয়াব প্রত্যাশা করো? হে বনী আদম, তুমি ঝোপঝাড় থেকে আঙুর সংগ্রহ করতে যাও! যেমন করবে, তেমন ফল পাবে। যেমন ফসল ফলাবে, তেমন ফসলই তোমাকে কাটতে হবে। হে বনী আদম, তুমি যখন আল্লাহর বান্দাদের প্রতি রহম করো না, তখন কীভাবে আল্লাহর রহমতের আশা করতে পারো? হে বনী আদম, তুমি আমার থেকে পলায়ন করা সত্ত্বেও আমার নিকট মিনতি জানাও?”[৪১৯]
টিকাঃ
[৪১৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ১০৬ - এ এর কিয়দংশ রয়েছে।
📄 দুনিয়াতে সত্যিকারের কল্যাণ
৬০৯. সাদ বিন তুরাইফ থেকে বর্ণিত, আলি বলেছেন: “অর্থ-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াটা কল্যাণকর নয়; বরং কল্যাণ হলো আমলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, সহনশীলতা অধিক হওয়া, অতি দ্রুত নিজ প্রতিপালকের ইবাদাতে মগ্ন হওয়া। দুনিয়াতে কেবল দুই ব্যক্তির জন্যই কল্যাণ রয়েছে: এক ব্যক্তি হলো, যে বহু গুনাহ ও পাপাচার করেছে, এরপর তাওবা করে গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত করে নিয়েছে। আরেক ব্যক্তি হলো, তাওবা করার পরপরই যার মৃত্যু হয়ে গেছে।”