📄 নফল আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন
৬০৩. আবূ উমামা থেকে বর্ণিত, নবি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
مَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ فَأَكُونَ أَنَا سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ وَلِسَانُهُ الَّذِي يَنْطِقُ بِهِ وَقَلْبُهُ الَّذِي يَعْقِلُ بِهِ فَإِذَا دَعَانِي أَجَبْتُهُ وَإِذَا سَأَلَنِي أَعْطَيْتُهُ وَإِذَا اسْتَنْصَرَنِي نَصَرْتُهُ وَأَحَبُّ مَا تَعَبَّدَنِي عَبْدِي بِهِ النُّصْحُ لِي
"আমার বান্দা নফল আমলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। একপর্যায়ে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার চোখ হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে দেখে। তার অন্তর হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে বুঝতে পারে। তার জিহ্বা হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে কথা বলে। যদি সে আমাকে ডাকে, তাহলে আমি তার ডাকে সাড়া দিই। যদি সে আমার কাছে চায়, তাহলে আমি তাকে তা দিই। যখন সে আমার নিকট সাহায্য চায়, আমি তাকে সাহায্য করি। বান্দা আমার ইবাদাত করার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় হলো আমার হিতাকাঙ্ক্ষা।[৪১৩]
টিকাঃ
[৪১৩] তাবারানি, আল মুজামুল কাবীর, ৮/২৪৪; হাদীসটির সনদ যঈফ।
📄 আখিরাতের জন্য দুনিয়াকে ব্যবহার
৬০৪. জারির ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, নবি বলেছেন:
مَنْ تَزَوَّدَ فِي الدُّنْيَا نَفَعَهُ فِي الْآخِرَةِ
“মানুষ দুনিয়াতে যে পাথেয় অর্জন করে, আখিরাতে সেটা তার উপকারে আসে।”[৪১৪]
৬০৫. আল্লাহ তাআলার বাণী:
وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا “এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না।”[৪১৫]
মুজাহিদ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “দুনিয়ায় থাকতেই আখিরাতের জন্য আমল করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এতে।” [৪১৬]
টিকাঃ
[৪১৪] মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/৫৩; হাদীসটির সনদ হাসান।
[৪১৫] সূরা কাসাস, ২৮: ৭৭।
[৪১৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ৩৭৭, ৩৭৮।
📄 বাইরে বের হলে ফেরেশতা অথবা শয়তান সাথে থাকে
৬০৬. আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
مَا مِنْ خَارِجِ يَخْرُجُ إِلَّا بِبَابِهِ رَايَتَانِ رَايَةٌ بِيَدِ مَلَكِ وَرَايَةٌ بِيَدِ شَيْطَانٍ فَإِنْ خَرَجَ فِيمَا يُحِبُّ اللهُ تَبِعَهُ الْمَلَكُ بِرَايَتِهِ فَلَمْ يَزَلْ تَحْتَ رَايَةِ الْمَلَكِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ وَإِنْ خَرَجَ فِيمَا يُسْخِطُ اللهَ تَبِعَهُ الشَّيْطَانُ بِرَايَتِهِ فَلَمْ يَزَلْ تَحْتَ رَايَةِ الشَّيْطَانِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ “প্রত্যেক প্রস্থানকারীর দরজায় দুটি পতাকা থাকে। একটি পতাকা থাকে ফেরেশতার হাতে, অন্যটি শয়তানের হাতে। মানুষ যদি আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় কাজে ঘর থেকে বের হয়, তাহলে ফেরেশতা পতাকা নিয়ে তার পেছনে পেছনে যেতে থাকে। ঘরে ফেরা পর্যন্ত ফেরেশতার পতাকার নিচেই থাকে সে। আর যদি আল্লাহ তাআলার অপছন্দনীয় কাজে বের হয়, তাহলে শয়তান তার অনুগামী হয়ে যায়। ঘরে ফেরা পর্যন্ত সে শয়তানের পতাকার নিচেই থাকে।”[৪১৭]
টিকাঃ
[৪১৭] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২/৩২৩; হাদীসটির সনদ হাসান।
📄 যা কিছু সর্বোচ্চ
৬০৭. আমর ইবনু আবাসা আস সুলামি বলেন, “আমি নবি -কে জিজ্ঞেস করি,
مَنْ بَايَعَكَ عَلَى هَذَا الْأَمْرِ؟ قَالَ : حُرٌّ وَعَبْدُ قَالَ : فَأَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ وَحُسْنُ الْخُلُقِ ، قُلْتُ : فَأَيُّ الإِسْلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : الْفِقْهُ فِي دِينِ اللهِ وَالْعَمَلُ فِي طَاعَةِ اللهِ وَحُسْنُ الظَّنِّ بِاللَّهِ، قُلْتُ : فَأَيُّ الْمُسْلِمِينَ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ ، قُلْتُ : فَأَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ ؟ قَالَ : إِطْعَامُ الطَّعَامِ ، وَإِفْشَاءُ السَّلَامِ ، وَطَيِّبُ الْكَلامِ ، قُلْتُ : فَأَيُّ الصَّلاةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : الصَّلَاةُ لِوَقْتِهَا ، وَطُولُ الْقُنُوتِ وَحُسْنُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ قُلْتُ : فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : أَنْ تَهْجُرَ مَا كَرِهَ اللهُ, قُلْتُ فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللهِ, وَهَجَرَ مَا حَرَّمَ اللهُ, قُلْتُ : فَأَيُّ سَاعَاتِ اللَّيْلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرِ ، فَإِنَّ اللَّهَ يَفْتَحُ فِيهِ أَبُوابَ السَّمَاءِ ، وَيَطَّلِعُ فِيهِ إِلَى خَلْقِهِ وَيَسْتَجِيبُ فِيهِ الدُّعَاءَ
'এই বিষয়ে আপনার হাতে কারা বাইয়াত দিয়েছে?' তিনি বলেন, 'স্বাধীন এবং দাস শ্রেণির লোকেরা।' জিজ্ঞেস করলাম, 'কোন আমল সর্বোত্তম?'
উত্তরে নবি বলেন, 'ধৈর্য, ক্ষমা এবং উত্তম চরিত্র।'
'কোন ইসলাম সর্বোত্তম?'
'আল্লাহর দ্বীনের গভীর জ্ঞান, আল্লাহর আনুগত্য এবং আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা রাখা।'
'কোন মুসলিম সর্বোত্তম?'
'যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।'
'কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়?'
'খাবার খাওয়ানো, সালামের প্রচলন ঘটানো এবং উত্তম কথা বলা।'
'কোন সালাত সর্বোত্তম?'
'সময়মতো, উত্তমভাবে রুকু সিজদাহ করে দীর্ঘ খুশুর সাথে যা আদায় করা হয়।'
'কোন হিজরত সর্বোত্তম?'
'আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন—এমন সবকিছু পরিত্যাগ করা।'
'রাতের কোন সময়টা সর্বোত্তম?'
'শেষ রাতের মধ্যভাগ। কারণ, এসময় আল্লাহ তাআলা আসমানের সব দরজা খুলে দেন এবং সৃষ্টিজীবের প্রতি নজর দেন ও দুআ কবুল করেন।”[৪১৮]
টিকাঃ
[৪১৮] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৪/৩৮৬; হাদীসটির সুনদ হাসান।