📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আল্লাহর নৈকট্যলাভের পরাকাষ্ঠা

📄 আল্লাহর নৈকট্যলাভের পরাকাষ্ঠা


৬০০. আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন :
مَن عَادَلِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بالحَرْبِ، وما تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مما افْتَرَضْتُ عليه، وما يَزالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بالنَّوافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإِذا أَحْبَبْتُهُ، كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ به، وبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ به، ويَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بها، ورِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بها، وإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ، وَلَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيذَنَّهُ، وما تَرَدَّدْتُ عن شَيْءٍ أنا فاعِلُهُ تَرَدُّدِي عَن نَفْسِ الْمُؤْمِنِ؛ يَكْرَهُ المَوْتَ، وَأَنا أَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ.
“যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর সঙ্গে দুশমনি করে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিই। আমি বান্দার ওপর যা ফরয করেছি, সেটাই আমার নৈকট্য লাভের সবচেয়ে প্রিয় আমল। আমার বান্দা নফল ইবাদাত দ্বারা আমার অধিক নৈকট্য লাভ করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নিই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোনো কিছু চায়, তবে তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিই। মুমিন বান্দার প্রাণ নিতে যতটা দ্বিধা করি, আর কোনো কাজ করতে চাইলে ততটা দ্বিধা করি না। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে, আর তার কষ্ট হওয়াটাকে আমি অপছন্দ করি।”[৪১১]

৬০1. আয়িশা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন :
مَنْ آذَى لِي وَلِيًّا، فَقَدْ اسْتَحَلَّ مُحَارَبَتِي، وَمَا تقرب إليَّ عبدي بمثل أداء فرائضي، وإنَّ عَبْدي ليتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته، كنتُ عينه التي يُبصِرُ بها ، ويده التي يبطش بها ، ورجله التي يمشي بها، وفؤاده الذي يَعْقِلُ به، ولسانه الذي يتكلم به، إن دعاني أجبته، وإن سألني أعطيته، وما ترددت عن شيء أنا فاعله ترددي عن موته، وَذَلِكَ أَنه يَكْرَهُ المَوْتَ وأنا أكره مساءته.
“যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুকে কষ্ট দেয়, সে তার বিরুদ্ধে আমার লড়াইকে বৈধ করে নেয়। আমার ফরয বিধানগুলো আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আমার যে পরিমাণ নৈকট্য অর্জন করে, অন্য কিছুর দ্বারা তেমনটা পারে না। আমার বান্দা নফল আমলের মাধ্যমে আমার (আরও) নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার চোখ হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে দেখে থাকে। তার অন্তর হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে বুঝতে পারে। তার জিহ্বা হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে কথা বলে। যদি সে আমাকে ডাকে, তাহলে আমি তার ডাকে সাড়া দিই। যদি সে আমার কাছে চায়, তাহলে তাকে প্রদান করি। মুমিন বান্দার প্রাণ নিতে যতটা দ্বিধা করি, আর কোনো কাজে ততটা করি না। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে, আর তার কষ্ট হওয়াটাকে আমি অপছন্দ করি।"[৪১২]

602. ইউসুফ বিন হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি যুননুনকে বলতে শুনেছেন, “আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'যে ব্যক্তি আমার আনুগত্যশীল হয়ে যায়, আমি তার বন্ধু হয়ে যাই। তাই সে যেন আমার ওপর আস্থা রাখে এবং আমার ওপর নির্ভর করে। আমার সম্মানের কসম! যদি সে আমার নিকট পুরো দুনিয়া ধ্বংস করে দেওয়ার আবেদন করে, তাহলে আমি অবশ্যই তার জন্য এই দুনিয়া ধ্বংস করে দেব।"

টিকাঃ
[৪১১] বুখারি, আস সহীহ, ৬৫০২।
[৪১২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২৬১৯৩; হাদীসটি সহীহ।

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নফল আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন

📄 নফল আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন


৬০৩. আবূ উমামা থেকে বর্ণিত, নবি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
مَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ فَأَكُونَ أَنَا سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ وَلِسَانُهُ الَّذِي يَنْطِقُ بِهِ وَقَلْبُهُ الَّذِي يَعْقِلُ بِهِ فَإِذَا دَعَانِي أَجَبْتُهُ وَإِذَا سَأَلَنِي أَعْطَيْتُهُ وَإِذَا اسْتَنْصَرَنِي نَصَرْتُهُ وَأَحَبُّ مَا تَعَبَّدَنِي عَبْدِي بِهِ النُّصْحُ لِي
"আমার বান্দা নফল আমলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। একপর্যায়ে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার চোখ হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে দেখে। তার অন্তর হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে বুঝতে পারে। তার জিহ্বা হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে কথা বলে। যদি সে আমাকে ডাকে, তাহলে আমি তার ডাকে সাড়া দিই। যদি সে আমার কাছে চায়, তাহলে আমি তাকে তা দিই। যখন সে আমার নিকট সাহায্য চায়, আমি তাকে সাহায্য করি। বান্দা আমার ইবাদাত করার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় হলো আমার হিতাকাঙ্ক্ষা।[৪১৩]

টিকাঃ
[৪১৩] তাবারানি, আল মুজামুল কাবীর, ৮/২৪৪; হাদীসটির সনদ যঈফ।

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আখিরাতের জন্য দুনিয়াকে ব্যবহার

📄 আখিরাতের জন্য দুনিয়াকে ব্যবহার


৬০৪. জারির ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, নবি বলেছেন:
مَنْ تَزَوَّدَ فِي الدُّنْيَا نَفَعَهُ فِي الْآخِرَةِ
“মানুষ দুনিয়াতে যে পাথেয় অর্জন করে, আখিরাতে সেটা তার উপকারে আসে।”[৪১৪]

৬০৫. আল্লাহ তাআলার বাণী:
وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا “এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না।”[৪১৫]
মুজাহিদ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “দুনিয়ায় থাকতেই আখিরাতের জন্য আমল করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এতে।” [৪১৬]

টিকাঃ
[৪১৪] মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/৫৩; হাদীসটির সনদ হাসান।
[৪১৫] সূরা কাসাস, ২৮: ৭৭।
[৪১৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ৩৭৭, ৩৭৮।

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 বাইরে বের হলে ফেরেশতা অথবা শয়তান সাথে থাকে

📄 বাইরে বের হলে ফেরেশতা অথবা শয়তান সাথে থাকে


৬০৬. আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
مَا مِنْ خَارِجِ يَخْرُجُ إِلَّا بِبَابِهِ رَايَتَانِ رَايَةٌ بِيَدِ مَلَكِ وَرَايَةٌ بِيَدِ شَيْطَانٍ فَإِنْ خَرَجَ فِيمَا يُحِبُّ اللهُ تَبِعَهُ الْمَلَكُ بِرَايَتِهِ فَلَمْ يَزَلْ تَحْتَ رَايَةِ الْمَلَكِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ وَإِنْ خَرَجَ فِيمَا يُسْخِطُ اللهَ تَبِعَهُ الشَّيْطَانُ بِرَايَتِهِ فَلَمْ يَزَلْ تَحْتَ رَايَةِ الشَّيْطَانِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ “প্রত্যেক প্রস্থানকারীর দরজায় দুটি পতাকা থাকে। একটি পতাকা থাকে ফেরেশতার হাতে, অন্যটি শয়তানের হাতে। মানুষ যদি আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় কাজে ঘর থেকে বের হয়, তাহলে ফেরেশতা পতাকা নিয়ে তার পেছনে পেছনে যেতে থাকে। ঘরে ফেরা পর্যন্ত ফেরেশতার পতাকার নিচেই থাকে সে। আর যদি আল্লাহ তাআলার অপছন্দনীয় কাজে বের হয়, তাহলে শয়তান তার অনুগামী হয়ে যায়। ঘরে ফেরা পর্যন্ত সে শয়তানের পতাকার নিচেই থাকে।”[৪১৭]

টিকাঃ
[৪১৭] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২/৩২৩; হাদীসটির সনদ হাসান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00