📄 ক্ষণস্থায়ী ও চিরস্থায়ী জীবনের সেতু মৃত্যু
৫৫৪. শাইখ ইমাম বলেন, "মৃত্যু হলো জীবনাকাশের চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ। জীবনের এ ঘোর দুপুরের এক সন্ধ্যা। সৎকর্মশীল এবং পাপাচারী—এই ক্ষেত্রে সকলেই সমান। এটাই মানুষের সুখ-শান্তির শেষ সীমা এবং শান্তির সূচনাপর্ব। মৃত্যু হলো দুনিয়া এবং আখিরাতের মধ্যবর্তী পুল। প্রত্যেককেই এ পুল অতিক্রম করতে হবে। জেনে রাখো, মৃত্যু যেমন এই ধ্বংসশীল জীবনের শেষ পর্ব, তেমনি তা এই চিরস্থায়ী জীবনের সূচনাপর্ব.”
📄 মানুষের তিনটি কঠিন অবস্থা
৫৫৫. সাদাকা ইবনু ফযল বলেন, "ইবনু উয়াইনাকে বলতে শুনেছি: 'বনী আদমের তিনটি অবস্থা সবচেয়ে কঠিন। এক. যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে এই দুনিয়ায় আসে। দুই. যেদিন সে মৃত্যুবরণ করে, সেদিন একেবারেই অচেনা-অজানা কিছু লোকের সাথে তাকে থাকতে হয়। তিন. যেদিন তাকে কবর থেকে উঠানো হবে, সেদিন সে এমন এক অবস্থার সম্মুখীন হবে, যা আগে কখনও দেখেনি।
ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া -এর এই তিন অবস্থার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا
তার প্রতি সালাম যেদিন সে জন্মগ্রহণ করেছে, যেদিন সে মৃত্যুবরণ করবে এবং যেদিন সে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে.”
টিকাঃ
[৩৮۱] সূরা মারইয়াম, ১৯: ১৫。
📄 পার্থিব সম্পদের আধিক্য ও পরকালীন পাথেয়র স্বল্পতা
৫৫৬. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ আল কারমিসানি বলেন, “আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি: 'মৃত্যুর দিন পরিত্যক্ত সম্পত্তি আর হাশরের দিন মিযানের পাল্লা যাকে অপমান করে, তার মতো হয়ো না.”
📄 আখিরাত স্মরণে রেখে সীমিত দুনিয়াভোগ
৫৫৭. সাবিত আল বুনানি থেকে বর্ণিত আছে, আবূদ দারদা একবার নিজের উচ্চতার সমান একটি ঘর নির্মাণ শুরু করেন। আবু যর তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, “আপনি কি এমন ঘর বানাচ্ছেন, আল্লাহ তাআলা যা বিরান করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন! আপনাকে এই অবস্থায় দেখার চেয়ে কোনো আবর্জনায় গড়াগড়ি খেতে দেখাটাও ভালো ছিল.”
নির্মাণকাজ শেষে আবূদ দারদা বলেন, "বাড়িটি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই.” এরপর তিনি আবৃত্তি করেন:
بَنَيْتُ دَاراً وَ لَسْتُ عَامِرَها . وَلَقَدْ عَلِمْتُ إِذْ بَنَيْتُ أَيْنَ دَارِي
আমি তো কেবল বাড়ি বানিয়েছি, আবাদ তো করিনি
আমার আসল বাড়ি কোথায়, তা তো আমি ভালো করেই জানি।
টিকাঃ
[৩৮۲] আল মারিফাতু ওয়াত তারিখ, ১/৫৮৮。