📄 সাওম রাখা ও অসুস্থকে দেখতে যাওয়া
544. জাবির ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, “নবি-এর সাথে সাক্ষাৎ করে আমি বলি, 'কেমন আছেন?' তিনি বলেন, 'যে সাওম রাখেনি আর অসুস্থ কাউকে দেখতে যায়নি, তার চেয়ে ভালো আছি.”
টিকাঃ
[৩৭৬] আলি মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ৮/৪৫৮; হাদীসটির সনদ যঈফ。
📄 আত্মমিকতা
545. হিশাম থেকে বর্ণিত, হাসান বাসরি-কে জিজ্ঞেস করা হয়, “জামা ধৌত করেন না কেন?” তিনি উত্তরে বলেন, “এর আগেই তো মৃত্যু চলে আসতে পারে.”
৫৪৬. ওয়াকি থেকে বর্ণিত আছে, দাউদ আত তায়িকে জিজ্ঞেস করা হয়, “দাঁড়ি আঁচড়ান না কেন?” তিনি উত্তরে বলেন, "আমি তো নির্লিপ্ত হয়ে বসে নেই। দুনিয়া তো শোকের ঘর.”
আরেকবার দাউদ আত তায়িকে বলা হয়, “ছাদে গিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করলে তো কিছুটা প্রশান্তি অনুভব করতেন!” তিনি উত্তরে বলেন, "আমি এমন কদম ফেলাও পছন্দ করি না, যাতে আমার শরীর শান্তি পাবে.”
৫৪৭. মানসূর আত তুসি থেকে বর্ণিত, বিশর ইবনুল হারিস বলেছেন, “প্রয়োজন পূরণের জন্য যাওয়া অবস্থায় মৃত্যু যেন তোমাকে পেয়ে না বসে.”
৫৪৮. উসমান ইবনু যায়িদা থেকে বর্ণিত, লুকমান হাকিম তাঁর ছেলেকে করে বলেছেন: “বাছা! তাওবা করতে কখনো বিলম্ব করবে না। কেননা, মৃত্যু হঠাৎ করেই চলে আসে.”
৫৪৯. জাফর ইবনু আউন বলেন, "মিসআর ইবনু কিদামকে বলতে শুনেছি: 'মানুষ প্রতিদিন ভবিষ্যৎ নিয়ে কত স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তা পূরণ করতে পারে না। কত মানুষ আগামীকালের অপেক্ষায় থাকে, কিন্তু আগামীকাল আর তাদের কাছে ধরা দেয় না। যদি মৃত্যু এবং মৃত্যুযাত্রা না থাকত, তাহলে স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তার অহমিকাকে তোমরা রাগিয়েই দিতে!”
৫৫০. মিসআর থেকে বর্ণিত, আউন ইবনু আবদিল্লাহ বলেছেন: “মানুষ প্রতিদিন ভবিষ্যৎ নিয়ে কত স্বপ্ন দেখে! কিন্তু তা আর পূরণ করতে পারে না। কত মানুষ আগামীকালের অপেক্ষায় থাকে, কিন্তু আগামীকাল আর তাদের কাছে ধরা দেয় না। যদি মৃত্যু এবং মৃত্যুযাত্রা না থাকত, তাহলে স্বপ্ন-আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তার অহমিকাকে তোমরা রাগিয়েই দিতে.”
টিকাঃ
[৩৭৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/২৭০。
[৩৭৮] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৫/২০১。
[৩৭৯] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৩/৪২৯。
[৩৮০] আবূ নুআইม, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/১৪৩。
📄 স্বল্প সম্পদ ও স্বল্প কথার গুরুত্ব
৫৫১. আমর ইবনু আবী সালমা বলেন, “আওযায়ি-কে বলতে শুনেছি: 'যে বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করে, সামান্য অর্থই তার জন্যে যথেষ্ট হয়ে যায়। যে ব্যক্তি বুঝতে পারে যে, কথাবার্তা কাজেরই অন্তর্ভুক্ত, তার কথার পরিমাণ কমে যায়.”
📄 নফসকে বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্ত রাখা
৫৫২. আবদুর রহমান ইবনু উমার রুসতাহ বলেন, "আবদুর রহমান ইবনু মাহদিকে বলতে শুনেছি : 'এক আশ্চর্য মহিলার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল আমার। আমার দেখা কোনো নারী বা পুরুষকেই তার ওপর প্রাধান্য দিতে পারি না। সকাল হলে সে মহিলাটি বলত, হে নফস, এ দিনটায় শুধু আমাকে সহযোগিতা করে যাও। হয়তো আর কখনো দিনের আলো দেখার সুযোগ তোমার ঘটবে না। সন্ধ্যা হলে সে বলত, হে নফস, এ রাতটায় শুধু আমাকে সাহায্য করে যাও। হয়তো আর কখনো রাতের আঁধার দেখার সুযোগ পাবে না। মহিলাটি এভাবেই রাতকে দিনের মাধ্যমে আর দিনকে রাতের মাধ্যমে সান্ত্বনা দিত। এ অবস্থার ওপরই এক সময় মৃত্যু হয়ে যায় তার'.”
৫৫৩. আমি ইমাম আবৃত তায়্যিব সাহাল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমানকে বলতে শুনেছি : “বেঁচে থাকার স্বপ্ন যেন আমাদের কিয়ামাতের বিভীষিকার কথা ভুলিয়ে না দেয়। বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখার তুলনায় কিয়ামাতের বিভীষিকার ভয়ে তটস্থ থাকাই উত্তম.”