📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়া অপমানিত

📄 দুনিয়া অপমানিত


৫১৪. মুবারক ইবনু ফাজালা থেকে বর্ণিত, হাসান বলেছেন: “মৃত্যু দুনিয়াকে অপমান করে ছেড়েছে। বুদ্ধিমানের জন্য আনন্দিত হওয়ার কোনো সুযোগ রাখেনি সে। আফসোস! মৃত্যু কত বড় উপদেশবাণী, যদি মানুষের অন্তরগুলোর জীবন থাকত, তাহলে তারা বুঝতে পারত.

টিকাঃ
[৩৫৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ২৫৮。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 বিলাসিতা ধ্বংসকারী মৃত্যু

📄 বিলাসিতা ধ্বংসকারী মৃত্যু


৫১৫. সাবিত থেকে বর্ণিত, মুতাররিফ বলেছেন: “মৃত্যু বিলাসীদের বিলাসিতা শেষ করে দিয়েছে। তাই এখন তারা এমন বিলাসিতা সন্ধান করছে, যেখানে কোনো মৃত্যু থাকবে না.”

টিকাঃ
[৩৬০] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/২০৪。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মানুষের একাকিত্ব

📄 মানুষের একাকিত্ব


৫১৬. একই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, “আমি সাবিতকে বলতে শুনেছি: 'যেই বান্দাকে মৃত্যুর ফেরেশতার মুখোমুখি হতে হয় একা, কবরে প্রবেশ করতে হয় একা, আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হয় একা, তার কতই না দুর্দশা! অথচ তার কাঁধে রয়েছে গুনাহের বিশাল বোঝা এবং আল্লাহর বহু নিয়ামাত ভোগ করার দায়.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মৃত্যুর আলোচনার প্রভাব

📄 মৃত্যুর আলোচনার প্রভাব


৫১৭. বিশর ইবনু হারিস “ইবনু সিরিন -এর সামনে মৃত্যুর কথা আলোচনা করা হলে মনে হতো যেন তার সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই মৃত্যুবরণ করছে.”
৫১৮. মুহাম্মাদ ইবনু হিশাম ইবনু বুখতারি বলেন, “আমি এক শাইখকে বলতে শুনেছি, তিনি বিশর ইবনু হারিসকে বলতে শুনেছেন: 'আফসোস, আগামীকাল অপরাধীরা কবর থেকে বের হবে কীভাবে? যালিমরা আল্লাহর হাত থেকে পালাবে কীভাবে?”
৫১৯. আবদুল্লাহ ইবনুল জাওযী আল আসাদি থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ ইবনুস সিমাক বলেছেন: “বসরার এক ব্যক্তির সাথে আমার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। বসরায় গিয়ে তাকে বলি, 'তোমাদের মধ্যে যারা ইবাদাতগুজার, আমাকে তাদের দেখিয়ে দাও.' সে আমাকে পশমের পোশাক পরা এক লোকের কাছে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন তিনি। কারও দিকে মাথা তুলে তাকাতেন না। আমি তার সাথে কথা বলতে চাই। কিন্তু কথাও বললেন না। তারপর আমি তার কাছ থেকে চলে আসি।
আমার সঙ্গী তখন আমাকে বলে, 'এখানে এক বয়োবৃদ্ধার এক ছেলে আছে.' আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে বৃদ্ধা বলেন, 'সাবধান! আমার ছেলের সামনে জান্নাত-জাহান্নামের কোনো কিছুই আলোচনা করবেন না। করলে তাকে মেরেই ফেলবেন আপনারা। এই ছেলেটি ছাড়া আমার আর কেউ নেই.' আমরা তখন সে যুবকের কাছে যাই। তার এবং তার সঙ্গীর একই ধরনের পোশাক। তিনিও মাথা নিচু করে রাখতেন। কথাবার্তা বলতেন না। আমাদের আগমন টের পেয়ে মাথা উঠিয়ে আমাদের দেখে বলেন, 'নিশ্চয়ই মানুষকে একদিন দাঁড়াতে হবে.' আমি বলি, 'যিনি আপনার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তার সামনে?' যুবকটি তখন এক চিৎকার দিয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
তখন সেই বৃদ্ধা এসে বলে, 'তোমরা আমার সন্তানকে মেরে ফেললে!' আমি সেই যুবকটির জানাযায় অংশগ্রহণ করেছিলাম.”
৫২০. আবুল আহওয়াস বলেন, আমার এক সাথি আমাকে বলেছেন, “মুরাদ গোত্রের এক লোক উয়াইস আল কারনির কাছে গিয়ে তাকে সালাম দেয়। তিনি উত্তরে বলেন, 'ওয়া আলাইকুমুস সালাম.'
লোকটি এরপর বলে, 'কেমন আছেন, উয়াইস?' 'আলহামদুলিল্লাহ.' 'আপনার দিনকাল কেমন যাচ্ছে?'
'যে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাকলে পরদিন সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা করে না, সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা রাখে না, তার দিনকালের খবর জিজ্ঞেস করে আর কী হবে? মুরাদি ভাই! মৃত্যু মুমিনের জন্য কোনো আনন্দ বাকি রাখেনি। মুমিন আল্লাহ তাআলার হকের যে পরিচয় লাভ করেছে, তার জন্য সেটা স্বর্ণ-রূপা কিছুই বাকি রাখেনি। মুমিন আল্লাহ তাআলার অধিকার পালন করায় তার কোনো বন্ধু-বান্ধব নেই। কিন্তু জেনে রাখো, আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করব, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করব। এ কারণে মানুষ আমাদের শত্রু বানিয়ে ফেলবে। ফাসিক লোকদের তারা এক্ষেত্রে সহযোগী পেয়ে যাবে। আল্লাহর কসম! এমনকি তারা আমাকে বিরাট বিরাট অপবাদ দেবে। কিন্তু আল্লাহর কসম! তাদের এসবের কোনো কিছুই হক কথা বলা থেকে আমাকে বিরত করতে পারবে না.”
৫২১. কাবিসা বলেন, “সুফিয়ান সাওরির যত মজলিসে বসেছি, তার প্রত্যেকটাতে তাকে মৃত্যুর কথা আলোচনা করতে শুনেছি। আর কাউকে তার চেয়ে বেশি মৃত্যুর কথা আলোচনা করতে দেখিনি.”

টিকাঃ
[৩৬১] সিফাতুস সাফওয়া, ৪/২০。
[৩৬২] ইবনু সাদ, আত তাবাকাতুল কুবরা, ৬/১৬৪, ১৬৫。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00