📄 হালাল উপভোগের তিরস্কার
৫০১. তিনি বলেন, দাঊদ আত তায়ি একদিন সুফিয়ানকে বলেন: "আপনি তো স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানি পান করেন, সুস্বাদু ও উত্তম খাবার খান, কোমল ছায়ার মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন। এসব করলে কীভাবে আপনার মধ্যে মৃত্যু এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভালোবাসা তৈরি হবে?” বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে সুফিয়ান কাঁদতে থাকেন।
৫০২. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “ইবরাহীম ইবনু আদহাম একদিন আবূ যামরা সুফিকে হাসতে দেখে বলেন: 'যা হবে না, সেটার আশা রেখো না। আর যা হবে, সে ব্যাপারে নিরাশ হোয়ো না.' আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করি, 'আচ্ছা ইসহাক! এটা দিয়ে কী বোঝালেন?' তিনি বলেন, 'বুঝলে না! আমি বলছিলাম, একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে, তা জানা সত্ত্বেও কীভাবে তুমি দুনিয়ায় থাকার আশা করতে পারো? কীভাবে হাসতে পারো? কারও জানা থাকে না, সে জান্নাতে যাবে না কি জাহান্নামে। আর যা হবে, সে ব্যাপারে নিরাশ হোয়ো না। তুমি তো জানো না যে, সকালে মরবে না বিকালে, দিনে নাকি রাতে.' তারপর তিনি 'আহ আহ' শব্দ করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান.”
টিকাঃ
[৩৪৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৩১。
📄 আখিরাতের সফরের পাথেয় আগেই পাঠানো
৫০৩. জাফর ইবনু মুহাম্মাদ আস সাদিক তার পিতার ব্যাপারে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি এসে তাকে বলে, "আমাকে উপদেশ দিন.” তিনি বলেন, "প্রস্তুতি সম্পন্ন করো। সফরের পাথেয় আগে পাঠিয়ে দাও। নিজের নফসের দেখাশোনাকারী হয়ে যাও.”
📄 নসিহতের ধনভান্ডার
৫০৪. আল্লাহ তাআলার বাণী: وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَّهُمَا
"এর নিচে ছিল তাদের ধনভাণ্ডার.”
আবু হাযম থেকে বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “সেই ধনভাণ্ডার হলো স্বর্ণের একটি ফলক। তাতে লেখা ছিল:
'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও যে আনন্দে থাকে, তার প্রতি আশ্চর্য হতে হয়। জাহান্নামের পরিচয় জানা সত্ত্বেও যে হাসে, তার প্রতি আশ্চর্য হতে হয়। দুনিয়া এবং তার অধিবাসীদের অবস্থা জানা সত্ত্বেও যে দুনিয়ার ব্যাপারে প্রশান্তচিত্তে থাকে, তার প্রতি আশ্চর্য হতে হয়।। তাকদীরে বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও যে রিযক অন্বেষণে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলে, তার প্রতি আশ্চর্য হতে হয়। পরকালের হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও যে পাপাচারে লিপ্ত হয়, তার প্রতি আশ্চর্য হতে হয়। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। মুহাম্মাদ হলেন আল্লাহর রাসূল.'”
৫০৫. আল্লাহ তাআলার বাণী:
وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَّهُمَا
"এর নিচে ছিল তাদের ধনভাণ্ডার.”
নাযযাল ইবনু সাবরা থেকে বর্ণিত, আলি ইবনু আবী তালিব এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, "সেই ধনভাণ্ডার হলো একটি স্বর্ণের ফলক, যাতে লেখা ছিল:
'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আশ্চর্য হতে হয় বনী আদমকে দেখে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সে কীভাবে আনন্দে থাকতে পারে? জাহান্নামের পরিচয় জানা সত্ত্বেও যে হাসে, তাকে দেখে অবাক লাগে। দুনিয়া এবং তার অধিবাসীদের অবস্থা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও যে কীভাবে দুনিয়ার ব্যাপারে প্রশান্তচিত্ত থাকে, তাকে দেখে অবাক লাগে। তাকদীরে বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও যে রিযক অন্বেষণে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলে, তাকে দেখে অবাক লাগে। যে পরকাল ও হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও পাপাচারে লিপ্ত হতে পারে, তাকে দেখে অবাক লাগে। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। মুহাম্মাদ হলেন আল্লাহর রাসূল.'”
টিকাঃ
[৩৫০] সূরা কাহফ, ১৮: ৮২。
[৩৫১] ইবনু আদি, আল কামিল, ৬/২০৮৯。
[৩৫২] সূরা কাহফ, ১৮:৮২。
[৩৫৩] সুয়ুতি, আদ দুররুল মানসুর, ৫/৪২১。
📄 দুনিয়ার ধোঁকাবাজি ও কুরআনের সমাধান
৫০৬. জাবির ইবনু আওন আসাদি থেকে বর্ণিত, সুলায়মান ইবনু আবদিল মালিক সর্বপ্রথম যে ভাষণটি বলেছিলেন, তা হলো:
"সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। যিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। যা ইচ্ছা তা রহিত করেন। যা ইচ্ছা তা বাস্তবায়ন করেন। যা ইচ্ছা দান করেন। যা ইচ্ছা তা (বান্দার থেকে) আটকে দেন। দুনিয়া আসলেই ধোঁকার ঘর এবং মিথ্যা ঠিকানা। এর সৌন্দর্যগুলো ধ্বংসশীল। সে ক্রন্দনকারীকে হাসায়। হাস্যরতকে কাঁদায়। টেনশনমুক্ত মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়। ভীতকে টেনশনমুক্ত করে দেয়। সম্পদশালীকে গরিব বানিয়ে দেয়। গরিবকে সম্পদশালী করে তোলে। সে তার অধিবাসীদের নিয়ে হেলাখেলা করে। হে আল্লাহর বান্দারা, আল্লাহর কিতাবকে পথপ্রদর্শনকারী হিসেবে গ্রহণ করো। একে নিজেদের বিচারক মেনে নাও। একেই তোমাদের পথপ্রদর্শনকারী বানাও। কারণ, এটা পূর্ববর্তী সকল কিছুকে রহিত করে দিয়েছে। কোনো কিতাবই একে রহিত করতে পারবে না। আল্লাহর বান্দারা, জেনে রাখো, এই কুরআন শয়তানের চক্রান্তকে সুস্পষ্ট করে দিয়েছে। তার সকল দল এবং শ্রেণির বিষয়টি বর্ণনা করে দিয়েছে। কুরআন তা এমনভাবে স্পষ্ট করে তুলেছে, যেভাবে রাতের পর প্রভাতের আগমনে সকাল আলোকিত হয়ে উঠে.”