📄 মৃত্যুতেই সব শেষ নয়
৪৯৭. ইমাম আওযায়ি বলেন, "আমি বিলাল ইবনু সাদকে বলতে শুনেছি: 'লোকসকল! নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য নয়, বরং স্থায়ীভাবে রাখার জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা কেবল এক ঠিকানা ছেড়ে অন্য ঠিকানায় প্রস্থান করে থাকো। ঔরস থেকে গর্ভে, গর্ভ থেকে দুনিয়ায়, দুনিয়া থেকে কবরে, কবর থেকে হাশরে এবং হাশর থেকে জান্নাত কিংবা জাহান্নামে.”
৪৯৮. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “বহুবার আমি ইবরাহীম ইবনু আদহামকে বলতে শুনেছি: ‘আমাদের আসল বাড়ি তো সামনে। আমাদের জীবন তো শুরু হবে মৃত্যুর পর। আমরা হয়তো তখন জান্নাতে যাব কিংবা জাহান্নামে.”
টিকাঃ
[৩৪৫] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ৩৮৫。
[৩৪৬] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩৩。
📄 মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতির স্বরূপ
৪৯৯. তিনি আরও বলেন, “আমি ইবরাহীম ইবনু আদহামকে আমাকে লক্ষ্য করে বলেছেন: ‘ইবনু বাশশার! সবসময় মনে করবে যে, মৃত্যুর ফেরেশতা এবং তার সহযোগীরা তোমার আত্মা কবজ করার জন্য উপস্থিত হয়ে আছে। এজন্য তোমাকে কী অবস্থায় থাকতে হবে, সেটা ভেবে নাও। অন্তরে সব সময় উপস্থিত রেখো কবরের বিভীষিকাময় দৃশ্য এবং মুনকার-নাকিরের সাওয়াল- জওয়াবের বিষয়গুলো। এজন্য তোমার প্রস্তুতি কেমন হওয়া দরকার, ভেবে দেখো। অন্তরে সবসময় প্রস্তুত রাখো কিয়ামাতের বিভীষিকাময় দৃশ্য, হিসাব- নিকাশ এবং সে জন্য দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার ভয়ানক বিষয়গুলো। এজন্য তোমার প্রস্তুতি কেমন হওয়া দরকার, সেটা ভেবে দেখো.’ তিনি বলেন, এরপর ইবরাহীম ইবনু আদহাম চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান.”
৫০০. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “ইবরাহীম ইবনু আদহামকে বলতে শুনেছি: ‘যারা আল্লাহর ভয়ে সর্বদা ভীতসন্ত্রস্ত ছিল, তারাই কেবল মৃত্যুর পেয়ালা পান করতে পারে। বহু আনুগত্যশীল ব্যক্তিই সে পেয়ালা পান করার আশা রাখে, কিন্তু সকলে তা পারে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যশীল হয়, তারা লাভ করে উত্তম প্রতিদান ও মর্যাদা। আর কিয়ামাতের আযাব থেকে তারা মুক্তি পেয়ে যায়। পক্ষান্তরে যারা ছিল অবাধ্য, তারা মহাপ্রলয় এবং কিয়ামাতের দিন আফসোস আর অনুশোচনাই করতে থাকে.”
টিকাঃ
[৩৪৭] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩৩。
[৩৪৮] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৩。
📄 হালাল উপভোগের তিরস্কার
৫০১. তিনি বলেন, দাঊদ আত তায়ি একদিন সুফিয়ানকে বলেন: "আপনি তো স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানি পান করেন, সুস্বাদু ও উত্তম খাবার খান, কোমল ছায়ার মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন। এসব করলে কীভাবে আপনার মধ্যে মৃত্যু এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভালোবাসা তৈরি হবে?” বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে সুফিয়ান কাঁদতে থাকেন।
৫০২. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “ইবরাহীম ইবনু আদহাম একদিন আবূ যামরা সুফিকে হাসতে দেখে বলেন: 'যা হবে না, সেটার আশা রেখো না। আর যা হবে, সে ব্যাপারে নিরাশ হোয়ো না.' আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করি, 'আচ্ছা ইসহাক! এটা দিয়ে কী বোঝালেন?' তিনি বলেন, 'বুঝলে না! আমি বলছিলাম, একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে, তা জানা সত্ত্বেও কীভাবে তুমি দুনিয়ায় থাকার আশা করতে পারো? কীভাবে হাসতে পারো? কারও জানা থাকে না, সে জান্নাতে যাবে না কি জাহান্নামে। আর যা হবে, সে ব্যাপারে নিরাশ হোয়ো না। তুমি তো জানো না যে, সকালে মরবে না বিকালে, দিনে নাকি রাতে.' তারপর তিনি 'আহ আহ' শব্দ করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান.”
টিকাঃ
[৩৪৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৩১。
📄 আখিরাতের সফরের পাথেয় আগেই পাঠানো
৫০৩. জাফর ইবনু মুহাম্মাদ আস সাদিক তার পিতার ব্যাপারে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি এসে তাকে বলে, "আমাকে উপদেশ দিন.” তিনি বলেন, "প্রস্তুতি সম্পন্ন করো। সফরের পাথেয় আগে পাঠিয়ে দাও। নিজের নফসের দেখাশোনাকারী হয়ে যাও.”