📄 দুনিয়া ও জান্নাত উভয়টি অর্জন
৪৯২. তিনি আরও বলেন, “হাতিম বলেছেন, 'মাওলার খিদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখো। তাহলে দুনিয়া বাধ্য হয়ে তোমার কাছে আসবে, আর জান্নাত তোমার দ্বারে আসবে আগ্রহী হয়ে.”
টিকাঃ
[৩৪১] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৯৭。
📄 দুনিয়ার বিভিন্ন জিনিস থেকে আখিরাতের স্মরণ
৪৯৩. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “রাবিয়াকে বলতে শুনেছি : 'তুষারপাত হতে দেখলেই কিয়ামাতের দিন আমলনামা উড়ে যাওয়ার বিষয়টি মনে পড়ে যায়। পঙ্গপালের ঝাঁক নজরে পড়লে হাশরের ময়দানের কথা মনে হয়ে যায়। আযানের ধ্বনি কানে এলেই কিয়ামাত দিবসের ঘোষকের কথা মাথায় আসে। তখন নিজেকে বলি, দুনিয়াতে আমৃত্যু সেই পাখির মতোই থেকো, যে ক্ষনিকের জন্য একটা ডালে এসে বসেছে মাত্র.”
৪৯৪. আবুল হাসান ইসমাইল ইবনু মাসউদ বলেন, "হাসান ইবনু সালিহ ইবনু হাই একদিন আমার ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে পান, পঙ্গপাল উড়ছে। তা দেখে তিনি বলেন,
يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ كَأَنَّهُمْ جَرَادُ مُنتَشِرُ
'তারা কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের মতো। এ বলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান.”
৪৯৫. সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, আইয়ুব বলেছেন, “কোনো প্রিয়জনের মৃত্যুর সংবাদ পেলে মনে হয় যেন, আমার কোনো একটা অঙ্গ পড়ে গেল.”
টিকাঃ
[৩৪২] সূরা কমার, ৫৪: ৭。
[৩৪৩] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৩/৫৬২。
📄 মনের বিরোধিতা গুরুত্ব
৪৯৬. সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা থেকে বর্ণিত, রবি ইবনু আবী রাশিদ বলেছেন: “যদি আমার অন্তর থেকে মৃত্যুর কথা বের হয়ে যায়, তাহলে অন্তর নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করি আমি। যদি আমার মনের বিরোধিতা না করতাম, তাহলে আমৃত্যু আমাকে কাপুরুষতার মধ্যেই থাকতে হত.”
টিকাঃ
[৩৪৪] আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আয যুহদ, ৮৮。
📄 মৃত্যুতেই সব শেষ নয়
৪৯৭. ইমাম আওযায়ি বলেন, "আমি বিলাল ইবনু সাদকে বলতে শুনেছি: 'লোকসকল! নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য নয়, বরং স্থায়ীভাবে রাখার জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা কেবল এক ঠিকানা ছেড়ে অন্য ঠিকানায় প্রস্থান করে থাকো। ঔরস থেকে গর্ভে, গর্ভ থেকে দুনিয়ায়, দুনিয়া থেকে কবরে, কবর থেকে হাশরে এবং হাশর থেকে জান্নাত কিংবা জাহান্নামে.”
৪৯৮. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “বহুবার আমি ইবরাহীম ইবনু আদহামকে বলতে শুনেছি: ‘আমাদের আসল বাড়ি তো সামনে। আমাদের জীবন তো শুরু হবে মৃত্যুর পর। আমরা হয়তো তখন জান্নাতে যাব কিংবা জাহান্নামে.”
টিকাঃ
[৩৪৫] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ৩৮৫。
[৩৪৬] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩৩。