📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 গাফলতির স্তর থেকে উত্তরণের উপায়

📄 গাফলতির স্তর থেকে উত্তরণের উপায়


৪৮০. আবূ আলি আল আনমাতি থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মাদ আস সামিনকে বলতে শুনেছেন : “কুফার এক বিরান এলাকায় গাইলান মাজনুনের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'মানুষ কখন উদাসীনতার স্তর থেকে ফিরে আসে?' তিনি বলেছিলেন, 'তাকে যা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যখন সে তা বাস্তবায়ন করে এবং যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, যখন তা থেকে বিরত থাকে। এবং নিজের হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে বুদ্ধিমান হয়ে থাকে.' এরপর জিজ্ঞেস করি, 'মানুষ সেই স্তরে পৌঁছায় কখন?' তিনি বলেন, 'যখন সে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে। চরিত্রকে পবিত্র রাখে। বিচ্যুতি থেকে মুক্ত থাকে.' আমি বলি, 'আপনার থেকে কিছু উপদেশ গ্রহণ করতে চাই, যা আমার পাথেয় হয়ে থাকবে.' তিনি বলেন, 'সব সময় আল্লাহর প্রতি ভয় রেখো। দুনিয়ার ব্যাপারে তটস্থ থেকো। মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থেকো। আখিরাতের প্রতি আগ্রহী থেকো.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 একটি দিনের আরাম ও অনিশ্চিত

📄 একটি দিনের আরাম ও অনিশ্চিত


৪৮১. আবদুল মুনয়িম ইবনু ইদরীস তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহকে জিজ্ঞেস করা হয়, "আপনি দুনিয়ার প্রতি বিরাগী হলেন কীভাবে?" তিনি উত্তরে বলেন, "দুটি বাক্যের মাধ্যমে। তাওরাতে পেয়েছি এই বাক্য দুটি। তা হলো, 'হে ওই ব্যক্তি, যে পূর্ণ একদিন আনন্দ করতে পারে না এবং একদিনের জন্যও নিজের জানের ব্যাপারে নিরাপদ নও, তুমি সতর্ক থাকো, সতর্ক থাকো.”
৪৮২. ইবনু আতা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “মুমিন কখনো পূর্ণ একদিন আনন্দ করতে পারে না."
৪৮৩. শাফি বলেন, "হিশাম ইবনু আবদিল মালিক একটি প্রাসাদ নির্মাণ করে বলেন, 'আমি পুরো একটা দিন সম্পূর্ণ নির্জনে কাটাতে চাই। সে দিনটিতে যেন আমার কাছে কোনো দুশ্চিন্তার খবর না আসে.' কিন্তু দ্বিপ্রহর না যেতেই সীমান্ত থেকে তার কাছে রক্তভেজা এক পালক আসে। তখন তিনি বলে উঠেন, 'আমি আর একদিনও শান্তিতে থাকতে চাই না.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 কবর-জীবনের নৈকট্য

📄 কবর-জীবনের নৈকট্য


৪৮৪. মুফাজ্জল ইবনু গাসসান আল গলাবি বলেন, “কুফার এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন: দাউদ ইবনু নুসাইর আত তায়ির ইবাদাত-মগ্নতার সূচনা ঘটেছিল এক ঘটনার মাধ্যমে। একবার এক মেয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। মেয়েটির বাবা মারা গিয়েছিল। সে কেঁদে কেঁদে বলছিল, 'আফসোস! ও আব্বাজান, বলো, তোমার কোন গাল সর্বপ্রথম জীর্ণ হয়েছে?' তার উত্তরে বলা হয়, 'ডান গাল। কারণ, ডান গালই মাটির সাথে থাকে.”
৪৮৫. মুনাযিল ইবনু সাঈদ বলেন, “আমি এক জানাযায় গিয়েছিলাম, যেখানে দাউদ আত তায়িও অংশগ্রহণ করেন। আমি তাঁর পেছনে ছিলাম। আমাকে দেখতে পাননি তিনি। এ সময় তাঁকে তিলাওয়াত করতে শুনি :
وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ
'তাদের সামনে রয়েছে বারযাখ, যা পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত থাকবে.'
তারপর তিনি নিজেকে লক্ষ করে বলেন, 'দাঊদ! যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি ভয় রাখে, দূরবর্তী বিষয় তার কাছে নিকটবর্তী মনে হয়। যার স্বপ্ন অনেক দীর্ঘ, তার আমল কমে যায়। জেনে রাখো, যা সামনে আসবে তার সবগুলোই নিকটবর্তী। জেনে রাখো, দাঊদ! যেসব বিষয় তোমার প্রতিপালক থেকে তোমাকে উদাসীন করে দেবে, তার সবগুলোই কুলক্ষণে। হে দাঊদ! জেনে রাখো, দুনিয়ার সব মানুষই কবরের বাসিন্দা। কবরের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা নিজেদের ছেড়ে আসা পার্থিব বিষয়ের কারণে আফসোস করে, তারাই পরকালের জন্য পাঠানো আমলের কারণে আনন্দিত হয়। কিন্তু কবরের বাসিন্দারা যে কারণে আফসোস করে, দুনিয়াবাসীরা তা পাওয়ার জন্যই পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত। তা অর্জনে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে তারা। সে জন্যই বিচারের কাঠগড়ায় তারা একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়.' তিনি এসব বলে যাচ্ছিলেন। এরইমধ্যে হঠাৎ করে আমার ওপর তাঁর নজর পড়ে যায়। আমাকে দেখেই তিনি বলেন, 'যদি জানতাম তুমি পেছনে রয়েছ, তাহলে আমি এর একটা অক্ষরও উচ্চারণ করতাম না.”
বিষয়টা বিভিন্ন সূত্রে দাঊদ আত তায়ি থেকে সাদাকা ইবনু আবী মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন।

টিকাঃ
[৩৩৪] সূরা মুমিনুন, ২৩: ১০০。
[৩৩৫] ইবনুল জাওযী, সিফাতুস সাফওয়া, ৩/১৩৪-১৩৫。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 পরবর্তী ওয়াক্ত পর্যন্ত বাঁচার অনিশ্চয়তা

📄 পরবর্তী ওয়াক্ত পর্যন্ত বাঁচার অনিশ্চয়তা


৪৮৬. মুহাম্মাদ ইবনু আবী তাওবা বলেন, “মারুফ একবার লোকজনকে নিয়ে সালাতে দাঁড়ান। সকলেই দাঁড়ালে আমাকে সালাত পড়াতে বলেন তিনি। আমি তখন বলি, 'যদি আমি এই ওয়াক্তের সালাত পড়াই, তাহলে আপনাদের আর কোনো ওয়াক্তের সালাত পড়াব না.' মারুফ তখন এক আশ্চর্য কথা বলেন, 'আপনি আরেক ওয়াক্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা করে বসে আছেন! দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। কারণ এটা উত্তম আমলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক.”
৪৮৭. আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
اعْمَلِ الله رَأيَ العَيْن كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنَّكَ إِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ، وَأَسْبِغْ طَهُورَكَ إِذَا دَخَلْتَ المَسْجِدَ ، اذْكُرُ المَوتَ فِي صَلَاتِكَ فَإِنَّ الرَّجُلَ إِذا ذَكَرَ المَوْتَ فِي صَلاتِهِ لَحَرِيٌّ أَنْ تُحَسَّنَ صلاتهُ وصَلِّ صَلَاةَ رَجُلٍ لَا يَظُنُّ أَنهُ يُصلي صَلاةً غَيْرَهَا وَإِيَّاكَ وَكُلَّ ما يُعتَذَرُ مِنهُ
“এমনভাবে আল্লাহর জন্য আমল করো, যেন চাক্ষুষভাবেই তাঁকে দেখতে পাচ্ছ। যদি তাঁকে দেখতে না পারো, তাহলে জেনে রাখো, তিনি তোমাকে দেখছেন। মাসজিদে প্রবেশ করার সময় উত্তমরূপে ওযু করে নাও। সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করো। কারণ, তা উত্তমরূপে সালাত আদায়ের সহায়ক। এমনভাবে সালাত আদায় করো, যেন এটাই তোমার জীবনের শেষ সালাত। এমন সকল কাজ থেকে বেঁচে থাকবে, যে কারণে তোমাকে ক্ষমা চাইতে হয়.”
৪৮৮. ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি এসে নবি-কে বলে, "ইয়া রাসূল্লাল্লাহ! সংক্ষেপে আমাকে কিছু নসীহত দিন.” নবি তখন বলেন:
صل صلاة مودع كانك تراه فإنك إن كنت لا تراه فإنه يراك وأيس مما في أيدي الناس تكن غنيا وإياك وما يعتذر منه
"এমনভাবে সালাত আদায় করো, যেন এটাই তোমার শেষ সালাত। এমনভাবে সালাত আদায় করবে, যেন তুমি তাঁকে (আল্লাহকে) দেখতে পাচ্ছ। যদি তাঁকে না-ও দেখো, তাহলে (জেনে রাখো) তিনি তো তোমাকে দেখছেনই। অন্যের অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে কোনো প্রকার আকাঙ্ক্ষা রাখবে না। তাহলে ধনী হয়ে যাবে। এমন সকল কাজ থেকে বেঁচে থাকবে, যে কারণে তোমাকে ক্ষমা চাইতে হয়.”

টিকাঃ
[৩৩৬] আলি মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ১৫/৮৮৪, ৮৮৫; এই হাদীসটি 'হাসান' পর্যায়ের。
[৩০৭] আলি মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ৩/২২; ইমাম সুয়ুতি একে হাসান আখ্যায়িত করেছেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00