📄 আমলের সময়-সামর্থ্য সীমিত
৪৯৭. আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ মেলামেশা করতেন আবূ বকর সুফি বিশরের সাথে। তিনি বলেন, “আমি আবূ মুয়াবিয়া আল আসওয়াদকে তরসুসের প্রাচীরে দাঁড়িয়ে কেঁদে কেঁদে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়ায় যে ব্যক্তি সবচেয়ে অর্থশালী, কিয়ামাতের দিন তার দুঃখ-বেদনা অনেক বেশি হবে। যে ব্যক্তি আগামী দিনের ভয় রাখে, বর্তমান নিয়ে সে সতর্ক থাকে। আবূ মুয়াবিয়া, যদি নিজের জন্য অনেক বেশি পরিমাণ পুণ্যের আশা রাখো, তাহলে রাতে ঘুমিয়ো না। দিনে বিশ্রাম নিয়ো না। উত্তম আমল করে যাও। অধিক ব্যস্ততা ছেড়ে দাও। যে বিষয়ের আশঙ্কা করো, তা নেমে আসার আগেই দ্রুত প্রস্তুতি নাও.' এরপর তিনি কাঁদতে থাকেন.”
৪৯৮. আব্বাস ইবনু ওয়ালিদ বলেন, “আমার এক সাথি আমাকে সংবাদ দিয়েছে, মিম্বারে রওহ ইবনু মুদরিককে খুতবা প্রদান করতে শুনেছে সে। তিনি বলছিলেন : 'এক সময় তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে, দুর্বল হয়ে যাবে, বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাবে ও মৃত্যুবরণ করবে। লোকজন তোমাকে ভুলে যাবে। তোমাকে কবর দেওয়া হবে। মাটির সাথে মিশে যাবে। একসময় তোমাকে কবর থেকে উঠানো হবে। নতুন জীবন লাভ করবে। তোমাকে উপস্থিত করা হবে, ডাকা হবে। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। তখন তোমাকে তোমার কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে। এখনো সময় আছে রে ভাই, এখনো সময় আছে। তুমি এখনো নিরাপদ আছ.'”
৪৯৯. আলি ইবনু হামশাজ বলেন, “আমি আকিল ইবনু আমর-কে এক খুতবায় বলতে শুনেছি : 'আমার ভাই, অবশ্যই একদিন তোমাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আফসোস! তখন তোমার প্রত্যাবর্তনস্থল যেন কোথায় হয়!”
টিকাঃ
[৩৩৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/২৭২。
📄 গাফলতির স্তর থেকে উত্তরণের উপায়
৪৮০. আবূ আলি আল আনমাতি থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মাদ আস সামিনকে বলতে শুনেছেন : “কুফার এক বিরান এলাকায় গাইলান মাজনুনের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'মানুষ কখন উদাসীনতার স্তর থেকে ফিরে আসে?' তিনি বলেছিলেন, 'তাকে যা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যখন সে তা বাস্তবায়ন করে এবং যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, যখন তা থেকে বিরত থাকে। এবং নিজের হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে বুদ্ধিমান হয়ে থাকে.' এরপর জিজ্ঞেস করি, 'মানুষ সেই স্তরে পৌঁছায় কখন?' তিনি বলেন, 'যখন সে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে। চরিত্রকে পবিত্র রাখে। বিচ্যুতি থেকে মুক্ত থাকে.' আমি বলি, 'আপনার থেকে কিছু উপদেশ গ্রহণ করতে চাই, যা আমার পাথেয় হয়ে থাকবে.' তিনি বলেন, 'সব সময় আল্লাহর প্রতি ভয় রেখো। দুনিয়ার ব্যাপারে তটস্থ থেকো। মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থেকো। আখিরাতের প্রতি আগ্রহী থেকো.”
📄 একটি দিনের আরাম ও অনিশ্চিত
৪৮১. আবদুল মুনয়িম ইবনু ইদরীস তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহকে জিজ্ঞেস করা হয়, "আপনি দুনিয়ার প্রতি বিরাগী হলেন কীভাবে?" তিনি উত্তরে বলেন, "দুটি বাক্যের মাধ্যমে। তাওরাতে পেয়েছি এই বাক্য দুটি। তা হলো, 'হে ওই ব্যক্তি, যে পূর্ণ একদিন আনন্দ করতে পারে না এবং একদিনের জন্যও নিজের জানের ব্যাপারে নিরাপদ নও, তুমি সতর্ক থাকো, সতর্ক থাকো.”
৪৮২. ইবনু আতা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “মুমিন কখনো পূর্ণ একদিন আনন্দ করতে পারে না."
৪৮৩. শাফি বলেন, "হিশাম ইবনু আবদিল মালিক একটি প্রাসাদ নির্মাণ করে বলেন, 'আমি পুরো একটা দিন সম্পূর্ণ নির্জনে কাটাতে চাই। সে দিনটিতে যেন আমার কাছে কোনো দুশ্চিন্তার খবর না আসে.' কিন্তু দ্বিপ্রহর না যেতেই সীমান্ত থেকে তার কাছে রক্তভেজা এক পালক আসে। তখন তিনি বলে উঠেন, 'আমি আর একদিনও শান্তিতে থাকতে চাই না.”
📄 কবর-জীবনের নৈকট্য
৪৮৪. মুফাজ্জল ইবনু গাসসান আল গলাবি বলেন, “কুফার এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন: দাউদ ইবনু নুসাইর আত তায়ির ইবাদাত-মগ্নতার সূচনা ঘটেছিল এক ঘটনার মাধ্যমে। একবার এক মেয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। মেয়েটির বাবা মারা গিয়েছিল। সে কেঁদে কেঁদে বলছিল, 'আফসোস! ও আব্বাজান, বলো, তোমার কোন গাল সর্বপ্রথম জীর্ণ হয়েছে?' তার উত্তরে বলা হয়, 'ডান গাল। কারণ, ডান গালই মাটির সাথে থাকে.”
৪৮৫. মুনাযিল ইবনু সাঈদ বলেন, “আমি এক জানাযায় গিয়েছিলাম, যেখানে দাউদ আত তায়িও অংশগ্রহণ করেন। আমি তাঁর পেছনে ছিলাম। আমাকে দেখতে পাননি তিনি। এ সময় তাঁকে তিলাওয়াত করতে শুনি :
وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ
'তাদের সামনে রয়েছে বারযাখ, যা পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত থাকবে.'
তারপর তিনি নিজেকে লক্ষ করে বলেন, 'দাঊদ! যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি ভয় রাখে, দূরবর্তী বিষয় তার কাছে নিকটবর্তী মনে হয়। যার স্বপ্ন অনেক দীর্ঘ, তার আমল কমে যায়। জেনে রাখো, যা সামনে আসবে তার সবগুলোই নিকটবর্তী। জেনে রাখো, দাঊদ! যেসব বিষয় তোমার প্রতিপালক থেকে তোমাকে উদাসীন করে দেবে, তার সবগুলোই কুলক্ষণে। হে দাঊদ! জেনে রাখো, দুনিয়ার সব মানুষই কবরের বাসিন্দা। কবরের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা নিজেদের ছেড়ে আসা পার্থিব বিষয়ের কারণে আফসোস করে, তারাই পরকালের জন্য পাঠানো আমলের কারণে আনন্দিত হয়। কিন্তু কবরের বাসিন্দারা যে কারণে আফসোস করে, দুনিয়াবাসীরা তা পাওয়ার জন্যই পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত। তা অর্জনে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে তারা। সে জন্যই বিচারের কাঠগড়ায় তারা একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়.' তিনি এসব বলে যাচ্ছিলেন। এরইমধ্যে হঠাৎ করে আমার ওপর তাঁর নজর পড়ে যায়। আমাকে দেখেই তিনি বলেন, 'যদি জানতাম তুমি পেছনে রয়েছ, তাহলে আমি এর একটা অক্ষরও উচ্চারণ করতাম না.”
বিষয়টা বিভিন্ন সূত্রে দাঊদ আত তায়ি থেকে সাদাকা ইবনু আবী মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
[৩৩৪] সূরা মুমিনুন, ২৩: ১০০。
[৩৩৫] ইবনুল জাওযী, সিফাতুস সাফওয়া, ৩/১৩৪-১৩৫。