📄 মানুষ সব দিক থেকে বন্দী
৪৭৪. আবদুল মালিক ইবনু হুমাইদ ইবনু আবী গানিয়্যা থেকে বর্ণিত আছে, ইমাম আওযায়ি তাঁর এক ভাইকে চিঠি লিখে বলেন: “তুমি চতুর্দিক দিয়েই বেষ্টিত হয়ে পড়েছ। জেনে রাখো, প্রতিনিয়ত তোমাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাই আল্লাহ তাআলাকে, তাঁর সম্মুখে দন্ডায়মান হওয়াকে এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে ভয় করো। ওয়াস সালাম."
📄 পার্থিব জীবনকে সময়মতো কাজে লাগানো
৪৭৫. আবু সালিহ আল বাসরি বলেন, "আমি সাহাল ইবনু আবদিল্লাহকে বলতে শুনেছি: 'সকল মানুষই ঘুমিয়ে আছে। যখন তারা জাগ্রত হবে, তখন আফসোস করতে থাকবে। কিন্তু সে আফসোস কোনো কাজে আসবে না তাদের.”
৪৭৬. আবূ আবদির রহমান বলেন, "আমি ইবরাহীম ইবনু সাবিতকে একদিন বলি: 'আপনি বাগদাদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। যদি আমাকে কিছু ওসীয়ত করে যেতেন.' তিনি বলেন, 'যে কাজের কারণে তোমাকে একদিন আফসোস করতে হবে, তা পরিত্যাগ করো.”
টিকাঃ
[৩৩২] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২০৭。
📄 আমলের সময়-সামর্থ্য সীমিত
৪৯৭. আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ মেলামেশা করতেন আবূ বকর সুফি বিশরের সাথে। তিনি বলেন, “আমি আবূ মুয়াবিয়া আল আসওয়াদকে তরসুসের প্রাচীরে দাঁড়িয়ে কেঁদে কেঁদে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়ায় যে ব্যক্তি সবচেয়ে অর্থশালী, কিয়ামাতের দিন তার দুঃখ-বেদনা অনেক বেশি হবে। যে ব্যক্তি আগামী দিনের ভয় রাখে, বর্তমান নিয়ে সে সতর্ক থাকে। আবূ মুয়াবিয়া, যদি নিজের জন্য অনেক বেশি পরিমাণ পুণ্যের আশা রাখো, তাহলে রাতে ঘুমিয়ো না। দিনে বিশ্রাম নিয়ো না। উত্তম আমল করে যাও। অধিক ব্যস্ততা ছেড়ে দাও। যে বিষয়ের আশঙ্কা করো, তা নেমে আসার আগেই দ্রুত প্রস্তুতি নাও.' এরপর তিনি কাঁদতে থাকেন.”
৪৯৮. আব্বাস ইবনু ওয়ালিদ বলেন, “আমার এক সাথি আমাকে সংবাদ দিয়েছে, মিম্বারে রওহ ইবনু মুদরিককে খুতবা প্রদান করতে শুনেছে সে। তিনি বলছিলেন : 'এক সময় তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে, দুর্বল হয়ে যাবে, বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাবে ও মৃত্যুবরণ করবে। লোকজন তোমাকে ভুলে যাবে। তোমাকে কবর দেওয়া হবে। মাটির সাথে মিশে যাবে। একসময় তোমাকে কবর থেকে উঠানো হবে। নতুন জীবন লাভ করবে। তোমাকে উপস্থিত করা হবে, ডাকা হবে। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। তখন তোমাকে তোমার কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে। এখনো সময় আছে রে ভাই, এখনো সময় আছে। তুমি এখনো নিরাপদ আছ.'”
৪৯৯. আলি ইবনু হামশাজ বলেন, “আমি আকিল ইবনু আমর-কে এক খুতবায় বলতে শুনেছি : 'আমার ভাই, অবশ্যই একদিন তোমাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আফসোস! তখন তোমার প্রত্যাবর্তনস্থল যেন কোথায় হয়!”
টিকাঃ
[৩৩৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/২৭২。
📄 গাফলতির স্তর থেকে উত্তরণের উপায়
৪৮০. আবূ আলি আল আনমাতি থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মাদ আস সামিনকে বলতে শুনেছেন : “কুফার এক বিরান এলাকায় গাইলান মাজনুনের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'মানুষ কখন উদাসীনতার স্তর থেকে ফিরে আসে?' তিনি বলেছিলেন, 'তাকে যা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যখন সে তা বাস্তবায়ন করে এবং যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, যখন তা থেকে বিরত থাকে। এবং নিজের হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে বুদ্ধিমান হয়ে থাকে.' এরপর জিজ্ঞেস করি, 'মানুষ সেই স্তরে পৌঁছায় কখন?' তিনি বলেন, 'যখন সে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে। চরিত্রকে পবিত্র রাখে। বিচ্যুতি থেকে মুক্ত থাকে.' আমি বলি, 'আপনার থেকে কিছু উপদেশ গ্রহণ করতে চাই, যা আমার পাথেয় হয়ে থাকবে.' তিনি বলেন, 'সব সময় আল্লাহর প্রতি ভয় রেখো। দুনিয়ার ব্যাপারে তটস্থ থেকো। মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থেকো। আখিরাতের প্রতি আগ্রহী থেকো.”