📄 মৃত্যুকাল পিছিয়ে দেওয়ার অলীক আশা
৪৬৩. যাহহাক বলেন, "আমি বিলাল ইবনু সাদকে বলতে শুনেছি: 'হে রহমানের বান্দারা! আমাদের একজনকে বলা হবে, তুমি কি মৃত্যুকে ভালোবাসো? সে বলবে, না। তাকে বলা হবে, কেন? সে বলবে, আগে আমল করে নিই। তাকে বলা হবে, তাহলে আমল করো। সে বলবে, আচ্ছা, এক সময় আমল শুরু করব। এটাই আমাদের চিত্র। আমরা মৃত্যুকেও ভালোবাসি না, আবার আমলও করতে চাই না। আমরা চাই, যেন আল্লাহর ফায়সালা পিছিয়ে দেওয়া হয়। অথচ পার্থিব স্বার্থ পিছিয়ে দেওয়াটাকে আমরা পছন্দ করি না.”
টিকাঃ
[৩২৪] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৫/২৯৬。
📄 সম্পদের ঘাটতি নিয়ে দুঃখ করার অসারতা
৪৬৪. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আস সাকাফি থেকে বর্ণিত, এক হাকিম বলেছেন, "অর্থ-সম্পদের ঘাটতি নিয়ে দুঃখ করা মানুষকে দেখে আশ্চর্য হই! অথচ তার জীবন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, এ নিয়ে কোনো দুঃখবোধ নেই। দুনিয়া তাকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালাচ্ছে, আখিরাতের পানে সে ধেয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারীকে নিয়েই পড়ে আছে সে। কিন্তু আসন্ন বিষয় থেকে বিমুখ হয়ে আছে.”
📄 জীবিত মানুষও মূলত মৃতদেহ-ই
৪৬৫. মুহাম্মাদ ইবনু সিনান আল বাহিলি বলেন, “রবি ইবনু বাযযাকে বলতে শুনেছি: 'হে বনী আদম, তুমি তো নোংরা মৃতদেহ! জীবন সঞ্চার করে তোমাকে পবিত্র করে তোলা হয়েছে। যদি এই জীবন নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে আবারও পচা লাশ হয়ে পড়ে থাকবে। সুগন্ধময় হওয়া সত্ত্বেও তখন তুমি নোংরা। আগে যারা কাছে ঘেঁষতে চাইত, তারা দূরে সরে যাবে। তাহলে হে বনী আদম! বলো, তোমার চেয়ে বড় মূর্খ আর কে আছে? তোমাকে দেখে আশ্চর্য হতে হয়! এটাই তোমার পরিণাম। একসময় তোমাকে মাটিতে শুয়ে থাকতে হবে। তা জানা সত্ত্বেও দুনিয়া কীভাবে তোমার চোখের প্রশান্তি হতে পারে?"
📄 মৃত ব্যক্তি জীবিতদের যা বলতে চায়
৪৬৬. হাযযান বলেন, "উন্মুদ দারদা আমাকে বলেছেন : 'হাযযান, খাটিয়ায় রাখার পর মৃত ব্যক্তি কী বলে, শুনবে?' আমি বলি, 'জ্বি, অবশ্যই.' তিনি বলেন, 'সে তখন চিৎকার করতে থাকে, হে আমার পরিবার-পরিজনেরা! হে আমার প্রতিবেশীরা! হে খাটিয়া বহনকারীরা! দুনিয়া যেভাবে আমাকে প্রতারিত করেছে, তোমাদেরও যেন সেভাবে প্রতারিত না করে। সে যেভাবে আমাকে নিয়ে খেলা করেছে, তোমাদের নিয়েও যেন সেভাবে না খেলে। আমার পরিবার-পরিজনের কেউই আমার কোনো বোঝা বহন করছে না। যদি প্রতাপশালী আল্লাহর কাছে তারা আমার পক্ষে দাঁড়াতে চাইত, তাহলে অবশ্যই এখনই তারা দাঁড়াত.' উন্মুদ দারদা এরপর বলেন, 'দুনিয়া হারুত-মারুতের চেয়ে মানুষের অন্তরে বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে। যে ব্যক্তি দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়েছে, দুনিয়া তার গালে চড় মেরেছে.”
টিকাঃ
[৩২৫] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ১৬৫。