📄 দুনিয়ার সবকিছু ফরিয়াদ
৪৪৫. আবদুল্লাহ আল খুরাসানি বলেন, "আমি ফুযাইল ইবনু ইয়াযকে বলতে শুনেছি : 'লজ্জায় পড়ার আগেই চিন্তাভাবনা করো এবং আমল করে নাও। দুনিয়া দ্বারা প্রতারিত হয়ো না। কেননা এর সুস্থ মানুষেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে, নতুন বিষয়গুলো পুরাতন হয়ে যায়, নিয়ামাত নিঃশেষ হয়ে যায়, যুবকেরা বৃদ্ধ হয়ে যায়.”
৪৪৬. যাকারিয়া ইবনু দাল্লাওয়াইহ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায আর-রাযিকে বলতে শুনেছি : 'যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দুনিয়া পরিত্যাগ করে, দুনিয়া বাধ্য হয়ে তাকে পরিত্যাগ করে দেয়। আর যার জীবদ্দশাতেই নিয়ামাত তাকে না ছাড়ে, মৃত্যুর পর অবশ্যই সে নিয়ামাত তাকে বিদায় জানায়.”
📄 প্রতি মুহূর্তে আয়ু কমে আসে
৪৪৭. ইবরাহীম ইবনু আদহাম এর খাদিম ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, "ইবরাহীম ইবনু আদহাম তখন ছিলেন রামাল্লায়। সেসময় আমর ইবনু মিনহাল চিঠি লিখে তাকে বলেন, 'আমাকে কিছু উপদেশ দিন, যা আমি স্মরণ রাখতে পারব.' ইবরাহীম ইবনু আদহাম উত্তরে লিখেন,
'পার্থিব দুঃখ-কষ্টের ফিরিস্তি অনেক লম্বা। মৃত্যু মানুষের অতি নিকটবর্তী। প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের জীবনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। বার্ধক্য ধীরে ধীরে বাসা করে নিচ্ছে দেহের গভীরে। তাই বিদায় ঘন্টা বেজে উঠার আগেই দ্রুত আমল করুন। স্থায়ী বাড়িতে প্রবেশের পূর্বেই চেষ্টা-প্রচেষ্টা করে ভালোভাবে আমল করে নিন.”
টিকাঃ
[৩১৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৭১。
📄 ঈর্ষনীয় ব্যক্তি
৪৪৮. ইসমাইল ইবনু হুসাইন কাযবিনি বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায আর-রাযিকে বলতে শুনেছি : দুনিয়া যাকে পরিত্যাগ করার পূর্বে যে নিজেই দুনিয়াকে ত্যাগ করে, কবরে প্রবেশের পূর্বেই যে কবর নির্মাণ করে, প্রতিপালক তার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার পূর্বে যে নিজেই প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করে নেয়, সে ঈর্ষার যোগ্য.”
📄 নিজের আয়ত্ত করে আমলের যত্ন করা
৪৪৯. আইয়ুব আল আওয়ার থেকে বর্ণিত আছে, নিজের প্রতি অবহেলা করায় আতা আস সুলামিকে তিরস্কার করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, “তাহলে কি আমলের প্রতি অবহেলা করতে বলছ? অথচ মৃত্যু আমার ঘাড়ের ওপর শ্বাস নিচ্ছে। কবর হচ্ছে আমার বাড়ি। জাহান্নাম আমার সামনে। অথচ আমি জানি না আমার রব আমার সাথে কী করবেন.”
৪৫০. আবু বকর আল বাযালি বলেন, "আমি আবূ মুহাম্মাদ আল জারিরিকে বলতে শুনেছি : 'জুনাইদ বাগদাদীর মৃত্যুর সময় আমি তার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেটা ছিল জুমুআর দিন। তিনি কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তাকে বলি, হে আবুল কাসিম! নিজেকে একটু শান্তি দিন। তিনি তখন বলেন, আবূ মুহাম্মাদ! আমার আমলনামা গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমন সময়ে আমার চেয়ে বেশি প্রয়োজনগ্রস্ত আর কে হতে পারে?”
টিকাঃ
[৩১৪] তাবাকাতুশ শাফিইয়্যা আল কুবরা, ২/৩১。