📄 মুমিন ও কাফিরের কাছে দুনিয়ার স্বরূপ
৪২৩. ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
الدنيا سجن المؤمن، والقبرُ حِصنُهُ، والجنَّةُ مَصِيرُهُ، والدُّنيا جَنَّةُ الكافر، والقبر سجنه، وإلى النَّارِ مصيره
“দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার। কবর তার দুর্গ। জান্নাত তার শেষ ঠিকানা। আর দুনিয়া হলো কাফিরের জন্য জান্নাত। কবর তার কারাগার। জাহান্নাম তার শেষ ঠিকানা.”
টিকাঃ
[৩০৪] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/৩৫৩。
📄 দুনিয়ায় নিজের হিসেব গ্রহণ
৪২৪. জাফর ইবনু বুরকান বলেন, "আমি জানতে পেরেছি যে, উমার ইবনুল খাত্তাব এক গভর্নরকে চিঠি লিখেছিলেন। সর্বশেষ চিঠিতে তিনি বলেছেন : 'পরকালের কঠিন হিসাব-নিকাশের পূর্বেই (দুনিয়ার স্বাচ্ছন্দ্য অবস্থায়) নিজের হিসাব গ্রহণ করো। কেননা সেই কঠিন হিসাবের পূর্বেই এই স্বাচ্ছন্দ্য অবস্থায় যে ব্যক্তি নিজের হিসাব নিতে পারে, সে এমন এক ঠিকানা লাভ করতে সক্ষম হয়, যা পেয়ে সে সন্তুষ্ট হয় আর লোকেরাও তার প্রতি ঈর্ষা করতে থাকে। পক্ষান্তরে যার জীবন এবং ব্যস্ততা তাকে তার প্রত্যাবর্তনস্থলের ব্যাপারে উদাসীন করে রাখে, সে এমন এক ঠিকানা লাভ করবে, যে কারণে সে অনুশোচনা এবং আফসোস করতে থাকবে। তাই আপনাকে যে কাজের ব্যাপারে নিষেধ করা হচ্ছে, তা থেকে যেন বিরত থাকেন। এ জন্য আপনাকে যে উপদেশ দেওয়া হয়, তা গ্রহণ করুন.”
📄 মানুষের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা
৪২৫. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি থেকে বর্ণিত, আলি ইবনু আবী তালিব কুফা নগরীতে প্রদত্ত এক খুতবায় বলেন, “লোকসকল! আমি আপনাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষার এবং প্রবৃত্তির অনুসরণের। দীর্ঘ আশা মানুষকে পরকালের কথা ভুলিয়ে দেয় আর। প্রবৃত্তির অনুসরণ সত্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জেনে রাখুন, দুনিয়া পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে ফিরে গেছে আর পরকাল আপনাদের দিকে এগিয়ে আসছে। দুনিয়া ও পরকাল— উভয়েরই কিছু সন্তান রয়েছে। আপনারা পরকালের সন্তান হোন। দুনিয়ার সন্তান হবেন না। আজ কেবল আপনারা আমল করে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখানে কোনো হিসাব নিকাশ হচ্ছে না। কিন্তু আগামীকাল কেবল হিসাব-নিকাশ হবে, তখন আমল করার কোনো সুযোগ পাবেন না.
টিকাঃ
[৩০৫] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ১৩০。
📄 পরকালে নবি ﷺ ও আবু বকর -এর সাথে থাকার উপায়
৪২৬. ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর থেকে বর্ণিত আছে, আলি ইবনু আবী তালিব একদিন উমার -কে বলেন, "আমিরুল মুমিনীন! যদি আপনার পূর্বের দুই সাথির সাথে থাকতে চান, তাহলে দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা বাদ দিন। পেটভরে আহার করবেন না। লুঙ্গি নিচে নামিয়ে পরুন। তালিযুক্ত জামা পরুন। জুতা সেলাই করে পরুন। তাহলে তাঁদের কাতারে যেতে পারবেন.”
টিকাঃ
[৩০৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ৩২০; এর সনদ যঈফ。