📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দারিদ্র্য অধিক উত্তম হওয়ার কারণ

📄 দারিদ্র্য অধিক উত্তম হওয়ার কারণ


৪০৮. জাফর ইবনু মুহাম্মাদ আল খাওয়াস বলেন, “জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদকে আমার সামনেই জিজ্ঞেস করা হয়, ‘ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে কে উত্তম?’ তিনি বলেন, ‘যে আল্লাহর অধিক আনুগত্য করবে, সে.’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘যদি উভয়েই আল্লাহর আনুগত্য করে?’ তিনি বলেন, ‘আসলে ধনাঢ্যতা ও দারিদ্র্য—উভয়টাই উত্তম। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি-এর জন্য অধিক উত্তমটাই নির্বাচন করেছেন। আর তিনি তাঁর জন্য ধনাঢ্যতা নির্বাচন করেছেন বলে আমি জানি না। আল্লাহ তাআলা নবি-এর জন্য যা নির্বাচন করেছেন (দারিদ্র্য), অবশ্যই সেটাই উত্তম হবে.”
৪০৯. ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, নবি একদিন সাফা পাহাড়ে আরোহণ করেন। তাঁর সাথে ছিলেন জিবরীল। তিনি তখন জিবরীল -কে বলেন,
يا جبريل والذي بعثك بالحق ما أمسى لآلِ مُحَمَّدٍ سُفَةٌ مِن دقيق ولا كف من سويق فَلَمْ يكُنْ كلامه بأسرع من أن سمع هدَّةً مِن السَّمَاءِ أَفَزَعَتْه فقال رسول الله الله أمر الله القيامة أن تقوم قال لا ولكن أمر الله اسرافيل فنزل إليك حين سمعكلامك فأتاه إسرافيل فقال إنَّ الله سمع ما ذكرت فبعثني إليك بمفاتيح خزائن الأرض وأمرني أن يعرضن عليك إن أحببت أن أسير معك جبال تهامة زمردًا وياقوتا وذهبا وفضة فعلت فإن شئت نبيا ملكا وإن شئت نبيا عبدا فأوما إليه جبريل أن تواضع فقال بل نبيا عبدا ثلاثا
“যে সত্তা আপনাকে ওহি দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার শপথ! মুহাম্মাদের পরিবার কখনো এমন অবস্থায় সন্ধ্যা অতিবাহিত করেনি, যখন তাদের কাছে এক মুষ্টি ছাতু বা আটা ছিল.” তিনি এই কথা বলা মাত্রই আকাশ থেকে কিছু একটা পড়ার শব্দ হয়। এতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে নবি জিজ্ঞেস করেন, “আল্লাহ তাআলা কি কিয়ামাত সংঘটিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন?” জিবরীল বলেন, “না। আপনার কথা শুনেই ইসরাফিল আপনার উদ্দেশ্যে নেমে এসেছেন.” ইসরাফিল এসে বলেন, “আপনি যা বলেছেন, আল্লাহ তা শুনেছেন। তিনি পৃথিবীর ধন ভাণ্ডারের চাবি দিয়ে আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আপনি চাইলে যেন তিহামার পাহাড়কে মণি-মাণিক্য এবং স্বর্ণ-রূপায় রূপান্তরিত করে আপনার সাথে নিয়ে চলি। আপনি ইচ্ছা করলে বাদশাহ নবি হতে পারেন, ইচ্ছা করলে গোলাম নবি হতে পারেন.” জিবরীল তখন তাঁকে আল্লাহর জন্য বিনয়ী হওয়ার ইঙ্গিত করলেন। নবি তখন বলেন, “বরং আমি আল্লাহর গোলাম নবি হতে চাই.” এই কথাটি তিনবার বলেন তিনি。

টিকাঃ
[২৯১] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০/৩১৫; বিভিন্ন শাহিদ থাকায় এর সনদ হাসান。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আখিরাতের জন্য দুনিয়া অর্জন

📄 আখিরাতের জন্য দুনিয়া অর্জন


৪১০. ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “আমি আবূ সাফওয়ান আর রুআইনিকে জিজ্ঞেস করি, 'আল্লাহ তাআলা কুরআন কারীমে দুনিয়ার এমন কোন জিনিসের নিন্দা করেছেন, যা থেকে একজন আলিমের বেঁচে থাকা উচিত?' তিনি বলেন, 'তুমি দুনিয়ার জন্য যা কিছুই করবে, তার সবটাই নিন্দনীয়। পক্ষান্তরে আখিরাতের উদ্দেশ্যে দুনিয়ায় যা কিছু অর্জন করবে, তা নিন্দনীয় নয়.' বিষয়টা আমি মারওয়ানকে বললে তিনি বলেছিলেন, 'আবূ সাফওয়ান সূক্ষ্মজ্ঞানের ভিত্তিতেই এটি বলেছেন.”

টিকাঃ
[২৯۲] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/৫。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 পাপের কথা গোপন থাকায় খুশি হয়ে যাওয়া

📄 পাপের কথা গোপন থাকায় খুশি হয়ে যাওয়া


৪১১. ইবরাহীম ইবনু বাশশার থেকে বর্ণিত আছে, ইবরাহীম ইবনু আদহাম বলেছেন: "উমার ইবনু আবদিল আযীয একদিন খালিদ ইবনু সাফওয়ানকে বলেন, 'আমাকে কিছু নাসীহাহ দিন.' খালিদ তখন বলেন, 'আমিরুল মুমিনীন! এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যাদের গুনাহ আল্লাহ তাআলা গোপন করে রেখেছেন। কিন্তু এটা দেখে ধোঁকা খেয়ে গেছে তারা। মানুষের প্রশংসা তাদের ফিতনায় ফেলে দিয়েছে। আপনি নিজের যেসব গুনাহের কথা জানেন, মানুষ সেগুলো জানে না। মানুষের এই অজ্ঞতাকে নিজের জ্ঞানের ওপর বিজয়ী হতে দেবেন না। আল্লাহ তাআলা আমাদের অপরাধ ঢেকে রাখায় যেন আমরা প্রতারিত না হই। আর মানুষের প্রশংসাবাণীতে যেন আনন্দিত না হয়ে উঠি। আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং আপনাকে তা থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর যা অবধারিত করেছেন, তা পালনে যেন আমাদের ত্রুটি না হয়। আমরা যেন প্রবৃত্তির দ্বারা প্রতারিত না হই.” বর্ণনাকারী বলেন, “এরপর তিনি কাঁদতে শুরু করেন। তারপর বলেন, 'আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে প্রবৃত্তির হাতে নিপতিত হওয়া থেকে রক্ষা করুন.”
৪১২. আহমাদ ইবনু ইউসুফ বলেন, "আমি সুফিয়ান সাওরিকে অসংখ্যবার বলতে শুনেছি : 'হে আল্লাহ! আমাদের নিরাপদ রাখুন। নিরাপদে রাখুন। বিপদাপদ থেকে আমাদের নিরাপদ করে কল্যাণ দান করুন। দুনিয়াতে আমাদের সুস্থতা প্রদান করুন.”

টিকাঃ
[২৯৩] ইবনুল জাওযী, সীরাতু উমার ইবনু আবদিল আযীয, ১৬৩。
[২৯৪] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/৩৯২。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়া ও আখিরাতের যেকোনো একটির ক্ষতি হবেই

📄 দুনিয়া ও আখিরাতের যেকোনো একটির ক্ষতি হবেই


৪১৩. আবূ মূসা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
مَنْ أَحَبَّ دُنْيَاهُ أَضَرَّ بآخِرَتِه وَمَنْ أَحَبَّ آخِرتَه أضر بدنياه فآثروا ما يبقى على ما يفنى
“যে ব্যক্তি দুনিয়া ভালোবাসে, সে আখিরাত ক্ষতিগ্রস্থ করে ফেলে। আর যে আখিরাত ভালোবাসে, সে দুনিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই চিরস্থায়ী বিষয়কে ক্ষণস্থায়ী বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দাও.”
৪১৪. ইবনু উমার ؓ থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেছেন:
الدنيا سجن المؤمن، والقبرُ حِصنه، والجنَّةُ مصيره، والدُّنيا جنَّةُ الكافر، والقبر سجنه، وإلى النَّارِ مصيره
"দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার। কবর তার দুর্গ। জান্নাত তার শেষ ঠিকানা। পক্ষান্তরে দুনিয়া হলো কাফিরের জান্নাত। কবর তার কারাগার, আর জাহান্নাম তার শেষ ঠিকানা.”

টিকাঃ
[২৯۵] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৪/৪১২; হাদীসতির সনদ সহীহ। তবে এর আরেকটি সনদ মুনকাতি。
[২৯۶] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/৩৫৩; এর সনদ যঈফ。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00