📄 পূর্বসূরী ও উত্তরসূরীর প্রতি দায়িত্ব
৪০০. মুসলিম ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত, আবু হাযম বলেছেন, “জেনে রাখো, দুনিয়ার সবকিছুরই পূর্বসূরী রয়েছে। তাই নিজের ছেলের হিতাকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দাও। জেনে রাখো, দুই ব্যক্তির যে-কোনো একজনের হাতে যাবে তোমার সম্পদ। যার হাতে যাবে, সে হয়তো সেই সম্পদ দিয়ে আল্লাহর অবাধ্যতা করবে। ফলে তোমার রেখে যাওয়া এই সম্পদ হতভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কিংবা সে হয়তো তা আল্লাহর আনুগত্যে খরচ করবে। ফলে কষ্টের মাধ্যমে অর্জিত তোমার এ সম্পদ হয়ে উঠবে তার সৌভাগ্যের কারণ। তাই পূর্বসূরীদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করো আর উত্তরসূরীদের জন্য আল্লাহর রিযক রেখে যাও.”
টিকাঃ
[২৮৪] ইবনু আসাকির, তাহযিবু তারিখি দিমাশক, ৬/২২৭。
📄 আপনজন যখন সর্বনাশের কারণ
৪০১. আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
يأتي على الناس زمان؛ لا يَسلَمُ لِذِي دِينِ دِينَهُ؛ إِلَّا مَن هَرَبَ بِدِينِهِ من شاهق إلى شاهِقٍ، ومن جُحْرٍ إلى جُحْرٍ، فإذا كان ذلِكَ لَم تَنلِ المَعِيشة إلا بِسَخَطِ الله، فإذا كان ذَلِكَ كَذلِكَ؛ كان هلاك الرجل على يَدَيْ زَوجَتِه ووَلَدِهِ، فَإِنْ لم يكن له زوجة ولا ولد؛ كان هلاكه على يَدَيْ أَبَوَيْهِ، فَإِنْ لِم يَكُن له أبوان كان هلاكه على يَدِ قَرابَتِه أو الجيران قالوا: كيف ذلك يا رسول الله؟ قال: يُعَيِّرُونَه بِضِيقِ المعيشة، فعِندَ ذلك يُورِدُ نَفْسَهُ المَوارِدَ التي يُهْلِكُ فيها نَفْسَهُ.
“এক সময় এমন এক যুগ আসবে, যখন দ্বীনদার কেউ তার দ্বীন নিয়ে নিরাপদ থাকতে পারবে না। তবে যে নিজের দ্বীন বাঁচাতে পাহাড়ের এক চূড়া থেকে আরেক চূড়ায়, এক গর্ত থেকে আরেক গর্তে পালাতে থাকবে, সে বাঁচতে পারবে। সেই যুগ চলে এলে আল্লাহর অসন্তোষ ব্যতীত কেউ জীবিকা উপার্জন করতে পারবে না। তখন নিজ স্ত্রী এবং সন্তানের হাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে মানুষ। স্ত্রী-সন্তান-সন্ততি না থাকলে ধ্বংস হবে মাতাপিতার হাতেই। মাতাপিতা না থাকলে আত্মীয়-স্বজন কিংবা প্রতিবেশীর হাতে.” সাহাবায়ে কেরام জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! এমনটা কীভাবে হবে?” তিনি বলেন, “তারা জীবিকার সংকটে পড়ে তাকে লজ্জা দিবে। তখন সে (জীবিকা উপার্জন করতে) নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে যাবে, যা তার জন্য ধ্বংসাত্মক.”
৪০২. মু'তামির ইবনু সুলাইমান বলেন, “সুফিয়ান সাওরি একদিন আমাকে বলেছেন, 'মু'তামির, যাদের পরিবার-পরিজন রয়েছে, তারা ভালো মানুষ হিসেবে টিকে থাকতে পারে না। শোনো, আমি যত সংসারী লোক দেখেছি, তাদের প্রত্যেকেই (হালাল-হারাম ও ন্যায়-অন্যায়ের) মিশ্রণ ঘটিয়ে ফেলে। আর অনর্থক সব বিষয়ে জড়িত হয়.”
৪০৩. ইবরাহীম ইবনু বাশশার আর রমাদি বলেন, "আমি সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাকে বলতে শুনেছি: 'সংসারী লোকেরা সফল হতে পারে না। আমাদের সাথে তারা বিড়ালের মতো আচরণ করে। ডেগ-ডেকচি কিছুই খুলে দেয় না। কিন্তু যখন সন্তান হয়, তখন ডেগ-পাতিল সব খুলে দেয়.”
৪০৪. কুরআনে উল্লিখিত মূসা -এর বক্তব্য :
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
“হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার-ই ভিখারি.”
সাঈদ ইবনু জুবাইর থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন : “এ সময় ক্ষুধার তাড়নায় তার পেট পিঠের সাথে লেগে গিয়েছিল। একটি একটি খেজুর দানার প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন তিনি.”
৪০৫. ইবনু খুবাইক থেকে বর্ণিত, কতক মনীষী বলেছেন, “কিয়ামাতের দিন ঘোষণা করা হবে, 'যাদের পরিবার-পরিজন তাদের সব নেক আমল খেয়ে ফেলেছে, তারা কোথায়?' এ ঘোষণা শুনে বিপুল সংখ্যক মানুষ উঠে দাঁড়াবে.”
টিকাঃ
[২৮۵] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/২৫; এই হাদীসকে অনেক মুহাদ্দিস তাদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে এর সনদ দুর্বল。
[২৮۶] সূরা কাসাস, ২৮: ২৪。
[২৮۷] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৩/২১৬。
📄 অভাবের কারণে অননুমেয় গুণ অর্জন সহজ হয়
৪০৬. আল্লাহ তাআলার বাণী:
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
“হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার-ই ভিখারি.”
ইকরিমা বলেন, এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস বলেছেন, "মূসা আল্লাহ তাআলার কাছে অনুগ্রহের আবেদন জানিয়ে পেয়েছিলেন সামান্য রুটি। এর মাধ্যমে প্রচণ্ড ক্ষুধায় মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারেন তিনি.”
টিকাঃ
[২৮৮] সূরা কাসাস, ২৮: ২৪。
[২৮৯] সুয়ুতি, আদ দুররুল মানসুর, ৬/৪০৬; আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৮。
📄 সম্পদশালী সাহাবি পরকালে দীর্ঘ হিসাব
৪০৭. আবূ উমামা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
أُرِيتُ أَنِّي دَخَلْتُ الْجَنَّةَ ، فَنَظَرْتُ ، فَإِذَا أَهَالِي الْجَنَّةِ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ وَذَرَارِيُّ الْمُؤْمِنِينَ وَإِذَا لَيْسَ فِيهَا أَحَدٌ أَقَلَّ مِنَ الْأَغْنِيَاءِ وَالنِّسَاءِ, فَقُلْتُ : مَا لِي لا أَرَى فِيهَا أَحَدًا أَقَلَّ مِنَ الأَغْنِيَاءِ وَالنِّسَاءِ ؟ فَقِيلَ لِي : أَمَّا الْأَغْنِيَاءُ فَإِنَّهُمْ عَلَى الْبَابِ يُحَاسَبُونَ وَيُمَحِّصُونَ وَأَمَّا النِّسَاءُ فَأَهْلَكُهُنَّ الْأَحْمَرَانِ : الذَّهَبُ وَالْحَرِيرُ ، ثُمَّ خَرَجْتُ مِنْ إِحْدَى الثَّمَانِيَةِ أَبُوابٍ ، فَجَعَلُوا يَعْرِضُونَ عَلَيَّ أُمَّتِي رَجُلًا رَجُلًا ، فَاسْتَبْطَأْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ ، فَلَمْ أَرَهُ إِلَّا بَعْدَ يَأْسٍ فَلَمَّا رَآنِي بَكَى, فَقُلْتُ : عَبْدَ الرَّحْمَنِ, مَا يُبْكِيكَ ؟ قَالَ : وَالَّذِي بَعَثَكَ مَا رَأَيْتُكَ حَتَّى ظَنَنْتُ أَلا أَرَاكَ أَبَدًا ، قَالَ : وَمِمَّ ذَاكَ ؟ قَالَ : مِنْ كَثْرَةِ مَالِي ، مَا زِلْتُ أُحَاسَبُ بَعْدَكَ وَأَعْحَصُ
"একদিন স্বপ্নে দেখি আমি জান্নাতে ঢুকছি। খেয়াল করলাম জান্নাতবাসীরা সকলেই দরিদ্র শ্রেণীর মুহাজির ও মুমিনদের সন্তানসন্ততি। বললাম, 'আশ্চর্য! বিত্তশালী এবং নারীদের কাউকেই জান্নাতে দেখতে পাচ্ছি না কেন?’ আমাকে তখন জানানো হয়, ‘ধনীরা এখনো দরজায় রয়েছে, তাদের হিসাব-নিকাশ চলছে। আর লাল দুটি জিনিস অর্থাৎ স্বর্ণ ও রেশম নারীদের সর্বনাশ করেছে.’ এরপর আমি জান্নাতের আট দরজার এক দরজা দিয়ে বের হয়ে আসি। আমার সামনে তখন আমার উম্মতকে একজন একজন করে পেশ করা হচ্ছিল। তাদের মধ্যে আবদুর রহমান ইবনু আওফকে পাচ্ছিলাম না। তার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ার পরই দেখা পাই তার। আমাকে দেখেই সে কেঁদে উঠে। তাকে বললাম, ‘আবদুর রহমান! কাঁদছ কেন?’ সে বলে, ‘যে সত্তা আপনাকে পাঠিয়েছেন, তার শপথ! আমি তো আপনাকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। ভেবেছিলাম আর কখনো বুঝি আপনার দেখা পাব না.’ বললাম, ‘এমন ধারণা কেন হলো?’ সে বলল, ‘আমার সম্পদের আধিক্যের কারণে আপনার পর আমার হিসাব নিকাশ অনেকক্ষণ ধরে চলছিল.”
টিকাঃ
[২৯০] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৫/২৫৯; বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থে এটি বর্ণিত আছে। তবে এর সনদে সর্বজন স্বীকৃত যঈফ রাবী রয়েছে。