📄 অগ্রাপ্তি বনাম হালাল প্রাপ্তি
৩৮৮. ফজল ইবনু সাওর বলেন, “আমি আবূ সাঈদ অর্থাৎ হাসানকে জিজ্ঞেস করি, 'মনে করুন এক ব্যক্তি হালাল উপায়ে দুনিয়া অন্বেষণ করা শুরু করে এবং তা পেয়েও যায়। এরপর সে আত্মীয়-স্বজনের পেছনে ওই অর্থ-সম্পদ খরচ করতে থাকে এবং নিজের জন্যও কিছু সঞ্চয় করে রাখে। আরেক ব্যক্তি দুনিয়াকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করে দিয়েছে। এ দুজনের মধ্যে কে উত্তম?' তিনি বলেন, 'যে ব্যক্তি দুনিয়াকে পরিত্যাগ করে দিয়েছে, সে-ই আমার কাছে বেশি প্রিয়.”
৩৮৯. জাফর থেকে বর্ণিত আছে, মালিক ইবনু দিনার এবং মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়াসির সাক্ষাৎ হয় একদিন। মালিক তাকে বলেন, “যার সাথে দ্বীন এবং সকালের খাবার রয়েছে, রাতের খাবার না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট, সে আমার ঈর্ষার পাত্র.” মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি তখন বলেন, “তবে আমার কাছে ঈর্ষার পাত্র হলো যার সাথে দ্বীন আছে কিন্তু সাথে দুনিয়ার কিছুই নেই। তবুও সে আপন প্রতিপালকের প্রতি সন্তুষ্ট.” বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা তখন বুঝতে পারল আসলে মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসিই হলেন উঁচু স্তরের অধিকারী。
৩৯০. দ্বমরাহ থেকে বর্ণিত, ইবনু শাওযাব বলেছেন, “মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি ও মালিক ইবনু দিনার একদিন দুনিয়ার জীবন-জীবিকার ব্যাপারে আলোচনা করেন। মালিক ইবনু দিনার বলেন, 'জীবনধারণের জন্য দরকারি খাদ্যটুকু থাকার চেয়ে উত্তম কিছু নেই.' মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি তখন বলেন, 'ওই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যার ভাগ্যে সকালের খাবার জোটে কিন্তু রাতের খাবার জোটে না। রাতের খাবার জোটে তো সকালের খাবার জোটে না। তবুও সে আল্লাহর ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকে.”
৩৯১. উসমান ইবনু মুহাম্মাদ যাহাবি বলেন, "জুনাইদকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'ধরুন একজনের কাছে কেবল একটা খেজুর দানা আছে। সে এটা শুধু চুষতে পারে, আর কিছু না। তাকে কি দুনিয়ার অধিকারী বলা যায়?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ। আমাদের নবি এমনটাই শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তিবদ্ধ গোলামের কাঁধে যতক্ষণ পর্যন্ত একটি দিরহামের দেনাও বাকি থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে গোলামই থাকবে.”
টিকাঃ
[২৭۲] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/৩৪৯。
[২৭۳] আল মারিফাতু ওয়াত তারিখ, ২/২৫৩。
[২৭۴] তাবাকাতুশ শাফিইয়্যা আল কুবরা, ২/৩২。
📄 একটি অতিরিক্ত পেশায়ত থাকার কুফল
৩৯২. জুনাইদ বাগদাদি বলেন, “আমি সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি : ‘একবার এক অচেনা লোক আমার কাছে আসার অনুমতি চায়। আমি অনুমতি দিলে সে দরজায় দাঁড়িয়ে ভেতরের অবস্থা লক্ষ করতে থাকে। কামরার এক কোনায় ছিল দোয়াত। বললাম, ‘ভেতরে আসুন.’ লোকটি বলে, ‘যে ব্যক্তি আপনার ব্যাপারে ভালো ভালো কথা শুনিয়ে আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাকে যেন এর প্রতিদান না দেন.’ আমি বললাম, ‘কী যা-তা বলছেন! কেন?’ সে তখন বলে, ‘ওই কোনায় কী রাখা?’ এটা বলেই সে চলে যায়.”
৩৯৩. আবুল আব্বাস ইবনু মাসরুক বলেন, “আমার এক সাথী সিররি সাকতির কাছে গিয়েছিল। গিয়ে দেখে তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেছে। সে জিজ্ঞেস করে, ‘আবুল হাসান! কী হয়েছে?’ তিনি বলেন, ‘এই মাত্র এক লোক আমার ঘরে ঢোকার অনুমতি চেয়েছিল। অনুমতি দিলে সে ঘরে দোয়াত দেখতে পেয়ে বলে, আপনার ব্যাপারে ভালো ভালো কথা বলে যে ব্যক্তি আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, আল্লাহ তাআলা যেন তাকে প্রতিদান না দেন। আমি তাকে বললাম, কেন? কী হয়েছে? তিনি বললেন, এগুলো তো থাকে বেকার মানুষের ঘরে.”
টিকাঃ
[২৭۵] ইমাম মালিক, আল মুয়াত্তা, পৃ. ৬৮৬; হাদীসটি সহীহ。
[২৭۶] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২০。
[২৭۷] ইবনু আসাকির, তাহযীবু তারিখি দিমাশক, ৬/৮৬。
📄 আখিরাতের জন্য উপকারী সম্পদে বরকত
৩৯৪. জাফর ইবনু বুরকান বলেন, “সালিহ ইবনু মিসমার একবার বললেন, ‘যার পার্থিব সম্পদ তাকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে যায়, আল্লাহ তাআলা যেন তার পার্থিব সম্পদে বরকত না দেন.’ আমি তখন বলি, ‘ঠিকই বলেছেন.’ এরপর তিনি বলেন, ‘যার সম্পদ তাকে জান্নাতে টেনে নিয়ে যায়, আল্লাহ তাআলা তার সম্পদে বরকত দিন.’ আমি বললাম, ‘ঠিক বলেছেন.’”
টিকাঃ
[২৭৮] আল মারিফাতু ওয়াত তারিখ, ২/৪২০。
📄 অগ্রাপ্তির মাঝেই কল্যাণ
৩৯৫. আমি সালিহ বিন মিসমারকে বলতে শুনেছি, "মানুষের কাজকর্ম আশ্চর্যকর!” জিজ্ঞেস করি, “কেন?” তিনি তখন বলেন, "তারা নিজেদের অর্থভাণ্ডার রেখে নিঃস্ব হাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়.”
৩৯৬. সালিহ ইবনু মিসমারকে আরও বলতে শুনেছি : “আল্লাহ তাআলা আমাদের যেটুকু দুনিয়া প্রদান করেছেন, তার চেয়ে বড় নিয়ামাত হলো যেটুকু দেননি.”
টিকাঃ
[২৭৯] আল মারিফাতু ওয়াত তারিখ, ২/৪২০。
[২৮۰] আল মারিফাতু ওয়াত তারিখ, ২/৪১০。