📄 গোলামের চেয়েও অনাড়ম্বর পার্থিব জীবন
৩৮৪. সাঈদ ইবনু উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি সিররি ইবনু মুগাল্লাস আস সাকতিকে বলতে শুনেছি: 'উতবার গোলাম একবার গমের রুটি খেতে খেতে উতবার পাশ দিয়ে যায়। গোলামের এ উন্নত মানের খাবারের বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি বলেন, এসব আর কী? পরকালে তো আমরা ভুনা গোস্ত খাব আর বাসর যাপন করব.”
📄 দেহকে অভুক্ত রাখা
৩৮৫. হাসান ইবনু মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, দাউদ আত তায়িকে জিজ্ঞেস করা হলো, "রোদ ছেড়ে একটু ছায়াময় স্থানে যান না!” তিনি বলেন, “যেখানে গেলে আমার শরীর শান্তি পাবে, আমার রবের প্রতি লজ্জায় সেখানে যেতে পারি না.”
৩৮৬. আহমাদ ইবনু হাওয়ারি বলেন, "আবূ সুলাইমান আদ দাররানি একদিন আমাকে বলেন, 'আহমাদ! সামান্য ক্ষুধা, সামান্য লাঞ্ছনা, সামান্য কাপড়- স্বল্পতা, সামান্য দারিদ্র এবং সামান্য ধৈর্য-দেখবে এগুলোর মধ্যে দিয়েই একসময় তোমার দুনিয়ার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে গেছে.”
📄 পার্থিব অগ্রাপ্তির প্রতিদান মিলবেই
৩৮৭. হাসান বলেন, কতিপয় সাহাবি নবি -কে জিজ্ঞেস করেন, “দুনিয়াতে কিছু পাওয়ার ইচ্ছা করেও যদি তা না পাই, তাহলে কি এই অপ্রাপ্তির কারণে পরকালে কোনো প্রতিদান পাব?” নবি বলেন, “এ কারণে যদি প্রতিদান না পাও, তাহলে আর কী কারণে পাবে?”
টিকাঃ
[২৭১] আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আয যুহদ, ২১১; এর সনদ মুরসাল, তবে রাবীগণ গ্রহণযোগ্য。
📄 অগ্রাপ্তি বনাম হালাল প্রাপ্তি
৩৮৮. ফজল ইবনু সাওর বলেন, “আমি আবূ সাঈদ অর্থাৎ হাসানকে জিজ্ঞেস করি, 'মনে করুন এক ব্যক্তি হালাল উপায়ে দুনিয়া অন্বেষণ করা শুরু করে এবং তা পেয়েও যায়। এরপর সে আত্মীয়-স্বজনের পেছনে ওই অর্থ-সম্পদ খরচ করতে থাকে এবং নিজের জন্যও কিছু সঞ্চয় করে রাখে। আরেক ব্যক্তি দুনিয়াকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করে দিয়েছে। এ দুজনের মধ্যে কে উত্তম?' তিনি বলেন, 'যে ব্যক্তি দুনিয়াকে পরিত্যাগ করে দিয়েছে, সে-ই আমার কাছে বেশি প্রিয়.”
৩৮৯. জাফর থেকে বর্ণিত আছে, মালিক ইবনু দিনার এবং মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়াসির সাক্ষাৎ হয় একদিন। মালিক তাকে বলেন, “যার সাথে দ্বীন এবং সকালের খাবার রয়েছে, রাতের খাবার না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট, সে আমার ঈর্ষার পাত্র.” মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি তখন বলেন, “তবে আমার কাছে ঈর্ষার পাত্র হলো যার সাথে দ্বীন আছে কিন্তু সাথে দুনিয়ার কিছুই নেই। তবুও সে আপন প্রতিপালকের প্রতি সন্তুষ্ট.” বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা তখন বুঝতে পারল আসলে মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসিই হলেন উঁচু স্তরের অধিকারী。
৩৯০. দ্বমরাহ থেকে বর্ণিত, ইবনু শাওযাব বলেছেন, “মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি ও মালিক ইবনু দিনার একদিন দুনিয়ার জীবন-জীবিকার ব্যাপারে আলোচনা করেন। মালিক ইবনু দিনার বলেন, 'জীবনধারণের জন্য দরকারি খাদ্যটুকু থাকার চেয়ে উত্তম কিছু নেই.' মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি তখন বলেন, 'ওই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যার ভাগ্যে সকালের খাবার জোটে কিন্তু রাতের খাবার জোটে না। রাতের খাবার জোটে তো সকালের খাবার জোটে না। তবুও সে আল্লাহর ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকে.”
৩৯১. উসমান ইবনু মুহাম্মাদ যাহাবি বলেন, "জুনাইদকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'ধরুন একজনের কাছে কেবল একটা খেজুর দানা আছে। সে এটা শুধু চুষতে পারে, আর কিছু না। তাকে কি দুনিয়ার অধিকারী বলা যায়?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ। আমাদের নবি এমনটাই শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তিবদ্ধ গোলামের কাঁধে যতক্ষণ পর্যন্ত একটি দিরহামের দেনাও বাকি থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে গোলামই থাকবে.”
টিকাঃ
[২৭۲] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/৩৪৯。
[২৭۳] আল মারিফাতু ওয়াত তারিখ, ২/২৫৩。
[২৭۴] তাবাকাতুশ শাফিইয়্যা আল কুবরা, ২/৩২。