📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আধ্যাত্মিকতার চার ভিত্তি

📄 আধ্যাত্মিকতার চার ভিত্তি


৩৭৮. আবুল কাসিম বলেন, “আমি জুনাইদ (বাগদাদী) কে বলতে শুনেছি : 'আমাদের এই আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি চারটি। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলা, তীব্র ক্ষুধা ব্যতীত না খাওয়া, প্রচণ্ড চাপ ব্যতীত না ঘুমানো, আর আল্লাহর ভয় ছাড়া নীরব না হওয়া.”

টিকাঃ
[২৬৬] তাবাকাতুশ শাফিইয়া আল কুবরা, ২/৩৬。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়ার কুপ্রভাব

📄 প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়ার কুপ্রভাব


৩৭৯. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, "আমি আবূ সুলাইমান আদ দারানিকে বলতে শুনেছি: 'আমার স্ত্রী একবার আমাকে রুটি এবং লবণ পরিবেশন করেছিলেন। লবণে তিলের একটি দানা ছিল। আমি তা খেয়ে ফেলি। এতে আমার অন্তরে এক ধরনের জং সৃষ্টি হয়। এক বছর পরও যা অনুভব করতে পেরেছিলাম আমি.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মাখলুকের সাথে সম্পর্কের প্রভাব

📄 মাখলুকের সাথে সম্পর্কের প্রভাব


৩৮০. জাফর আল খাওয়াস থেকে বর্ণিত, জুনাইদ বলেছেন: "সিররি সাকতি একদিন আমাকে বলেন, 'এক চড়ুই পাখির একটা আশ্চর্য ঘটনা শোনাই তোমাকে। পাখিটি এসে প্রতিদিন বারান্দায় বসে। আমি আগে থেকেই তার জন্য কয়েক লোকমা খাবার প্রস্তুত করে রাখি। তা আসলে আমি হাতের তালুতে খাবারগুলো চূর্ণ করি। এরপর পাখিটি আমার আঙ্গুলে বসেই খাবার খায়। পাখিটি একদিন বারান্দায় আসলে আমি যথারীতি রুটির গুড়া পরিবেশন করি। কিন্তু পাখিটি আগের মতো আর হাতে বসল না। তখনই এর কারণ নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে লাগলাম। লক্ষ করে দেখলাম যে, আমি সেদিন চিনি খেয়েছিলাম। তখনই প্রতিজ্ঞা করি যে, আর কখনো চিনি খাব না। আশ্চর্য! এই প্রতিজ্ঞার পরপরই পাখিটি আমার হাতে বসে খাবার খেতে থাকে। খাওয়া শেষে আগের মতো চলেও যায়.”

টিকাঃ
[২৬৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/১২৩。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 পানাহারে সামান্য বিলাসিতাও পরিহার

📄 পানাহারে সামান্য বিলাসিতাও পরিহার


৩৮১. জুনাইদ বলেন, “আমি সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি: 'ত্রিশ বছর যাবত আমার খুব ইচ্ছা মধুতে ভিজিয়ে ছাগলের গোশত খাওয়ার। কিন্তু পারছি না.”
৩৮২. উমার ইবনুল আসিম আবীল কাসিম আল বাক্কাল থেকে বর্ণিত, আহমাদ ইবনু খলাফ আল মুআদ্দাব বলেছেন, "আমি একবার সিররি সাকতির কামরায় প্রবেশ করে দেখি, তিনি কাঁদছেন। তাই আর ভেতরে প্রবেশ না করে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকি। তিনি তখন আমাকে আসতে ইশারা করেন। ভেতরে গিয়ে দেখি, পানির একটা মটকা ভেঙ্গে পড়ে আছে। তিনি আমাকে বলেন, 'গতরাতে আমার মেয়ে এই মটকাটা নিয়ে এসেছে। বলে গিয়েছে, আব্বা মটকাটা এখানে ঝুলিয়ে রাখলাম, এখন তো রাত অনেক লম্বা। প্রয়োজন হলে এখান থেকে পানি পান করবেন। এই বলে সে চলে যায়। তারপর আমি রুটিন অনুযায়ী আমল করতে থাকি। এক সময় চোখে ঘুম চেপে বসে। স্বপ্নে দেখি অত্যন্ত সুন্দরী এক মেয়ে আমার কামরায় প্রবেশ করল। জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কার জন্য? সে বলে, আমি ওই ব্যক্তির জন্য, যে জগের ঠান্ডা পানি পান করে না। আমি তখন তাকে এ মটকাটি দিতে বলি। নিয়ে মাটিতে আছাড় মেরে ভেঙ্গে ফেলি সেটা.” জাফর বলেন, “জুনাইদ আমাকে বলেছেন, 'এ ভাঙা মটকাটি তার মৃত্যু পর্যন্ত সেই কামরাতেই পড়ে ছিল.”

টিকাঃ
[২৬৮] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/১১৬。
[২৬৯] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২৩。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00