📄 বিপদের তিন কারণ
৩৬২. মানসূর ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, "আমি আবূ আলি রুযাবারিকে বলতে শুনেছি: 'তিন কারণে বিপদাপদ এসে থাকে। স্বভাব নষ্ট হয়ে যাওয়া, মন্দ অভ্যাস আঁকড়ে থাকা এবং অসৎ সঙ্গ গ্রহণ করা.'
আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, 'স্বভাব নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে?' তিনি বলেন, 'হারাম খাদ্য গ্রহণ করা.' এরপর জিজ্ঞেস করি, 'আর মন্দ অভ্যাস আঁকড়ে থাকা মানে?' তিনি বলেন, 'চোখ দিয়ে পাপের কিছু দেখা, কান দিয়ে গীবত, পরনিন্দা, অপবাদ ইত্যাদি অন্যায় বিষয় শোনা.' আমি বললাম, 'আর অসৎ সঙ্গ গ্রহণ?' তিনি বলেন, 'মনে প্রবৃত্তির কোনো লালসা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথেই তার পেছনে ছুটে চলা.'
📄 চারটি জিনিসের নিয়ন্ত্রণ
৩৬৩. ফাতাহ ইবনু শুখরুফ বলেন, "আবদুল্লাহ ইবনু খুবাইক আল আন্তাকি একদিন আমাকে বলেন, 'হে খুরাসানি! মাত্র চারটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, আর কিছু নয়। চোখ, জিহবা, অন্তর ও প্রবৃত্তি। চোখ দিয়ে হারাম কোনো কিছুর দিকে তাকাবে না। জিহবা দিয়ে এমন কোনো কিছু বলবে না, যা তোমার অন্তরে নেই। অন্তরে কোনো মুসলিমের প্রতি কোনো ধরনের ঘৃণা-বিদ্বেষ লালন করবে না। আর প্রবৃত্তি যেন তোমাকে কোনো মন্দ কাজের দিকে টেনে নিয়ে না যায়। যদি তোমার মধ্যে এই চারটি বৈশিষ্ট্য না থাকে, তাহলে মাথায় ছাই নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকো, তাহলেই চিকিৎসা হয়ে যাবে.”
📄 দুনিয়া ও নফসের সামর্থ্যকত্য
৩৬৪. আবূ সাঈদ ইবনুল আরাবি বলেন, "আমি আবূ গাসসান আল ক্বাসমালিকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়াই হলো নফস.' যেন তিনি বলতে চাচ্ছিলেন, নফসের প্রতি বিরাগিতা অবলম্বনই হলো দুনিয়া-বিরাগিতা। অর্থাৎ, মন ও প্রবৃত্তির যে বিষয়গুলো মানুষকে আল্লাহ তাআলা থেকে বিমুখ করে দেয়, সেগুলো পরিত্যাগ করাই হলো দুনিয়া-বিমুখতা.”
📄 চার রকমের মৃত্যু
৩৬৫. নসর আবু নসর আল আত্তার থেকে বর্ণিত, আহমাদ ইবনু সালমান বলেছেন, "আমি আমার কিতাবে হাতিম আল আসাম থেকে একটা বিষয় পেয়েছি। তিনি তাতে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের এই মতাদর্শে (অর্থাৎ যুহুদের আদর্শে) প্রবেশ করে, সে যেন নিজের মধ্যে মৃত্যুর চারটি বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। সাদা মৃত্যু, কালো মৃত্যু, লাল মৃত্যু এবং সবুজ মৃত্যু। সাদা মৃত্যু হলো ক্ষুধা। কালো মৃত্যু হলো মানুষের পক্ষ থেকে আপতিত কষ্ট সহ্য করা। লাল মৃত্যু হলো প্রবৃত্তির বিরোধিতা করা। আর সবুজ মৃত্যু হলো এক চিরকুটের ওপর আরেক চিরকুট রাখা.”
টিকাঃ
[২৬০] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৯৩。
[২৬১] এখানে শাব্দিক অনুবাদ এটি হলেও এই বাক্যটি, যাহিদ ও সুফিদের পরিভাষা; যার অর্থ ছেড়া-কাটা ও তালিযুক্ত কাপড় এবং খিরমা পরিধান করা। অর্থাৎ, এই বাক্যের অর্থ হবে, لبس المرقعة والخلق من الثياب