📄 শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে প্রবৃত্তির বাধা
৩৬১. জাফর ইবনু সুলাইমান বলেন, “আমি মালিক ইবনু দিনারকে বলতে শুনেছি: আমার অন্যতম শিক্ষক—আবদুল্লাহ দারি বলেছেন, 'মালিক, যদি তুমি এই বিষয়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছতে চাও, তাহলে তোমার এবং প্রবৃত্তির মাঝে লোহার দেয়াল তৈরি করে নাও.”
টিকাঃ
[২৫৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ৩২৫。
📄 বিপদের তিন কারণ
৩৬২. মানসূর ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, "আমি আবূ আলি রুযাবারিকে বলতে শুনেছি: 'তিন কারণে বিপদাপদ এসে থাকে। স্বভাব নষ্ট হয়ে যাওয়া, মন্দ অভ্যাস আঁকড়ে থাকা এবং অসৎ সঙ্গ গ্রহণ করা.'
আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, 'স্বভাব নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে?' তিনি বলেন, 'হারাম খাদ্য গ্রহণ করা.' এরপর জিজ্ঞেস করি, 'আর মন্দ অভ্যাস আঁকড়ে থাকা মানে?' তিনি বলেন, 'চোখ দিয়ে পাপের কিছু দেখা, কান দিয়ে গীবত, পরনিন্দা, অপবাদ ইত্যাদি অন্যায় বিষয় শোনা.' আমি বললাম, 'আর অসৎ সঙ্গ গ্রহণ?' তিনি বলেন, 'মনে প্রবৃত্তির কোনো লালসা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথেই তার পেছনে ছুটে চলা.'
📄 চারটি জিনিসের নিয়ন্ত্রণ
৩৬৩. ফাতাহ ইবনু শুখরুফ বলেন, "আবদুল্লাহ ইবনু খুবাইক আল আন্তাকি একদিন আমাকে বলেন, 'হে খুরাসানি! মাত্র চারটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, আর কিছু নয়। চোখ, জিহবা, অন্তর ও প্রবৃত্তি। চোখ দিয়ে হারাম কোনো কিছুর দিকে তাকাবে না। জিহবা দিয়ে এমন কোনো কিছু বলবে না, যা তোমার অন্তরে নেই। অন্তরে কোনো মুসলিমের প্রতি কোনো ধরনের ঘৃণা-বিদ্বেষ লালন করবে না। আর প্রবৃত্তি যেন তোমাকে কোনো মন্দ কাজের দিকে টেনে নিয়ে না যায়। যদি তোমার মধ্যে এই চারটি বৈশিষ্ট্য না থাকে, তাহলে মাথায় ছাই নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকো, তাহলেই চিকিৎসা হয়ে যাবে.”
📄 দুনিয়া ও নফসের সামর্থ্যকত্য
৩৬৪. আবূ সাঈদ ইবনুল আরাবি বলেন, "আমি আবূ গাসসান আল ক্বাসমালিকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়াই হলো নফস.' যেন তিনি বলতে চাচ্ছিলেন, নফসের প্রতি বিরাগিতা অবলম্বনই হলো দুনিয়া-বিরাগিতা। অর্থাৎ, মন ও প্রবৃত্তির যে বিষয়গুলো মানুষকে আল্লাহ তাআলা থেকে বিমুখ করে দেয়, সেগুলো পরিত্যাগ করাই হলো দুনিয়া-বিমুখতা.”