📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 জান্নাত-জাহান্নামের প্রবল অনুভূতি

📄 জান্নাত-জাহান্নামের প্রবল অনুভূতি


৩৫৫. মুহাম্মাদ ইবনু আইয়ান বলেন, “আমি আবদুল্লাহ আল মুকরিকে বলতে শুনেছি : 'আমাদের সাথে এক যুবক ছিল। অনেক বেশি ইবাদাত করত সে। তাহাজ্জুদ সালাত পড়ে সে এমন কিছু বিষয় বলত, যা আমি বুঝতাম না। সে আসলে কী বলে, তা শোনার জন্য এক অন্ধকার রাতে চুপিসারে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াই। কাঁদতে শুনি তাকে। দেখতে পাই, সে বেশ আবেগঘন হয়ে আছে। অত্যন্ত বেদনাময় কণ্ঠে তাকে বলতে শুনি: 'যখন নিজেকে জান্নাতের মধ্যে কল্পনা করি, তখন দেখতে পাই আমি জান্নাতের ফল ফলাদি খাচ্ছি। জান্নাতি নারীদের সাথে আলিঙ্গন করছি। জান্নাতি পোশাক-আশাক পরে আছি। আর যখন নিজেকে জাহান্নামে কল্পনা করি, তখন দেখি আমি যাক্কুম খাচ্ছি। ফুটন্ত পানি পান করছি। হাতপায়ে লাগানো বেড়ি খোলার চেষ্টা করেছি। তখন নফসকে বলি, হে নফস! তুমি এ দুটোর কোনটা চাও? সে বলে, আমি দুনিয়াতে ফিরে যেতে চাই। সেখানে গিয়ে আবার আমল করতে চাই.” আবদুল্লাহ আল মুকরি বলেন, “আমি তখন বলে উঠি, 'এখনই তুমি এমন কথা বলছো! আরে তুমি তো এখন কল্পনার জগতে। তাই আমল করতে থাক.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আখিরাতে দুনিয়ার বিপরীত অবস্থা

📄 আখিরাতে দুনিয়ার বিপরীত অবস্থা


৩৫৬. হুসাইন বলেন, “আমি ইবরাহীম তাইমিকে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ তাআলা কাউকে দুনিয়াতে অর্থ-সম্পদ প্রদান করেছিলেন। সেই সম্পদ ভোগ করেছে অন্য কেউ। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিয়ামাতের দিন দেখবে যে, সেসবের দায়ভার তার নিজের কাঁধে। তার চেয়ে বড় অনুশোচনা আর কার হতে পারে! আবার কাউকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে দাস-দাসী দান করেছিলেন। কিন্তু কিয়ামাতের দিন সে দেখবে দাস-দাসীদের মর্যাদা তার চেয়ে বেশি। এর চেয়ে বড় অনুশোচনা আর কী হতে পারে! আবার দুনিয়াতে কারও প্রতিবেশী ছিল ক্ষীণ দৃষ্টিসম্পন্ন। কিন্তু কিয়ামাতের দিন সে প্রতিবেশীই হবে চক্ষুষ্মান আর সে নিজে হবে অন্ধ। এর চেয়েও বড় আফসোস আর কী হতে পারে! তোমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা তো এমন ছিল যে, দুনিয়া তাদের প্রতি দৌড়ে আসত কিন্তু তারা দুনিয়া থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিতেন। অথচ তোমরা দুনিয়ার প্রতি প্রচন্ড লোভ রাখো, কিন্তু দুনিয়া তোমাদের থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আফসোস! তোমাদের ও পূর্ববর্তীদের মাঝে কত বিশাল ব্যবধান.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ই যখন কঠিন

📄 দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ই যখন কঠিন


৩৫৭. ইবনু উয়াইনা বলেন, “আমি আবূ হাযমকে বলতে শুনেছি: 'দ্বীন-দুনিয়ার পথচলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাচ্ছে.' তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'কীভাবে?' তিনি বলেন, 'দ্বীনের পথে চলতে গেলে দেখবে কেউই তোমাকে সহযোগিতা করছে না। আর দুনিয়ার কোনো কিছু অর্জন করতে হাত বাড়ালেই দেখবে, আরেক দুষ্টলোক তোমার আগেই তা নিয়ে ফেলেছে.”

টিকাঃ
[২৫৬] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৩/২৩৮。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 অঢেল হালাল সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারের প্রতিদান

📄 অঢেল হালাল সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারের প্রতিদান


৩৫৮. হাফস ইবনু আবদির রহমান থেকে বর্ণিত আছে, মালিক ইবনু দিনারের একজন প্রতিবেশী ছিল। আল্লাহ তাআলা অঢেল সম্পদ দান করেছিলেন তাকে। দেখা হলেই মালিক ইবনু দিনার তাকে বলতেন, “যে সম্পদ জমা করেছ, তার খাত হালাল হয়ে থাকলে এই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকার সময় হয়ে গেছে। আর যদি তা হারাম হয়ে থাকে, তাহলে মূল মালিকের কাছে তা ফেরত দেওয়ারও সময় হয়ে গেছে.” লোকটি উত্তরে "আমরা তো দুনিয়ার দরজায় কড়া নাড়ি ধীরে ধীরে!” মালিক তখন বলেন, “আল্লাহর কসম! মৃত্যুও তোমার দরজায় ধীরে ধীরেই কড়া নাড়বে.” লোকটি একসময় বয়সের কষাঘাতের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মালিক ইবনু দিনার এসে জিজ্ঞেস করেন, "এখন তোমার অবস্থা কেমন?” সে বলে, "আনন্দেই আছি.” মালিক বলেন, "কীভাবে?” লোকটি বলে, "রবের পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি এসে বলে গিয়েছে, 'তোমার জন্য সুসংবাদ.”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00