📄 মূসা -এর যুহদ
৩৫০. সুলাইমান ইবনু ইসহাক ইবনু আবী সুলাইমান বলেন, মূসা যখন দুনিয়ার প্রতি বিরাগী হয়ে উঠে নিজেকে সম্বোধন করে বলেন: “হে নফস! তুমি যখনই কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হয়েছ, আমি অবশ্যই তার বিরোধিতা করেছি.”
৩৫১. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি থেকে বর্ণিত, মাদা ইবনু ঈসা আল কালায়ি বলেন, “আল্লাহর সাথে কথা হওয়ার পর মূসা নারীসঙ্গ ও মাংস আহার ছেড়ে দেন। এই সংবাদ তাঁর ভাই হারুন -এর কাছে পৌঁছলে একই কাজ করেন তিনিও। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই তিনি বিয়ে করেন এবং মাংস খাওয়া শুরু করেন। এ সংবাদ মূসা -কে জানানো হলে তিনি বলেন, “আল্লাহর জন্য যা ছেড়ে দিয়েছি, তা আর কখনোই গ্রহণ করা সম্ভব না আমার পক্ষে.”
📄 যৌনক্ষুধা দমন কঠিনতর
৩৫২. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, "জর্দানের এক সন্ন্যাসীকে বলি, 'যদি কারও ঘুমানোর ইচ্ছা হয় আর সে মনের ইচ্ছা পূরণ করতে চায়, তাহলে কি সে যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) হতে পারবে? তিনি বলেন, 'না। যে ব্যক্তি মনের চাহিদা অনুযায়ী ঘুমায় এবং খায়-দায়, সে যাহিদ হতে পারে না। নারীসঙ্গ-লাভের প্রতি প্রবৃত্তির যে আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ করে দেওয়া বেশ কঠিন। এর চাইতে কঠিন কিছু আমাদের শাস্ত্রে রয়েছে বলে আমরা জানি না। কেননা, আল্লাহ তাআলা মানুষের রগ, রেশা ও রক্তে নারীর চাহিদা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তাই এ চাহিদা দমন করা অত্যন্ত কঠিন। পক্ষান্তরে খাবারের চাহিদা দমন করা অত্যন্ত সহজ.”
📄 যুহদের বিপরীত নফস
৩৫৩. জাফর ইবনু বুরকান জানতে পেরেছেন যে, ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ বলেছেন: “দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহযোগী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের নাম দুনিয়া-বিমুখতা। আর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বিষয় হলো প্রবৃত্তির অনুসরণ। প্রবৃত্তির অনুসরণের ফলে দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। দুনিয়ার আগ্রহ থেকেই অন্তরে সৃষ্টি হয় ধন-সম্পদ এবং মর্যাদার মোহ। আর ধন-সম্পদ ও মর্যাদা লাভ করতে গিয়েই মানুষ হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম বানিয়ে ফেলে। এতে আল্লাহ তাআলা রাগান্বিত হন। আর আল্লাহ তাআলা রাগান্বিত হয়ে যাওয়াটা এমন এক আযাব, যার একমাত্র সমাধান আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এমন উত্তম সমাধান যে, কোনো সমস্যাই এরপর ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে না। তাই ব্যক্তি তার প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করতে চায়, সে যেন নফসকে অসন্তুষ্ট করে। যে ব্যক্তি নফসকে অসন্তুষ্ট করতে পারে না, সে তার প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করতে পারে না। যে বিষয়টা পরিত্যাগ করা সবচেয়ে কঠিন, মানুষ চেষ্টা করলেই তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করতে পারে."
৩৫৪. জামে ইবনু আহমাদ আল খাররাফ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের জন্য নিজের নফসকে শাস্তি প্রদান করে, সে-ই বুদ্ধিমান। কেননা, এ শাস্তি প্রদানই পরকালের শাস্তি থেকে তার মুক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নফসকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে রাখে, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যই তার ধ্বংসের কারণ বনে যেতে পারে."
📄 জান্নাত-জাহান্নামের প্রবল অনুভূতি
৩৫৫. মুহাম্মাদ ইবনু আইয়ান বলেন, “আমি আবদুল্লাহ আল মুকরিকে বলতে শুনেছি : 'আমাদের সাথে এক যুবক ছিল। অনেক বেশি ইবাদাত করত সে। তাহাজ্জুদ সালাত পড়ে সে এমন কিছু বিষয় বলত, যা আমি বুঝতাম না। সে আসলে কী বলে, তা শোনার জন্য এক অন্ধকার রাতে চুপিসারে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াই। কাঁদতে শুনি তাকে। দেখতে পাই, সে বেশ আবেগঘন হয়ে আছে। অত্যন্ত বেদনাময় কণ্ঠে তাকে বলতে শুনি: 'যখন নিজেকে জান্নাতের মধ্যে কল্পনা করি, তখন দেখতে পাই আমি জান্নাতের ফল ফলাদি খাচ্ছি। জান্নাতি নারীদের সাথে আলিঙ্গন করছি। জান্নাতি পোশাক-আশাক পরে আছি। আর যখন নিজেকে জাহান্নামে কল্পনা করি, তখন দেখি আমি যাক্কুম খাচ্ছি। ফুটন্ত পানি পান করছি। হাতপায়ে লাগানো বেড়ি খোলার চেষ্টা করেছি। তখন নফসকে বলি, হে নফস! তুমি এ দুটোর কোনটা চাও? সে বলে, আমি দুনিয়াতে ফিরে যেতে চাই। সেখানে গিয়ে আবার আমল করতে চাই.” আবদুল্লাহ আল মুকরি বলেন, “আমি তখন বলে উঠি, 'এখনই তুমি এমন কথা বলছো! আরে তুমি তো এখন কল্পনার জগতে। তাই আমল করতে থাক.”