📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 প্রবৃত্তির গোলাম মৃত্যুকে ভয় পায়

📄 প্রবৃত্তির গোলাম মৃত্যুকে ভয় পায়


৩৪৫. আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবিদ দুনিয়া থেকে বর্ণিত, এক আহলে ইলম তাকে বলেছেন: “এক আরব তার ছেলেকে একদিন বলেন, 'যে ব্যক্তি মৃত্যুকে ভয় পায়, সে কিছুই অর্জন করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির তাড়না থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে না, সে বহু বিপদাপদে নিপতিত হয়ে যায়। জেনে রাখো, তোমার সামনেই রয়েছে জান্নাত ও জাহান্নাম.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 টাকা-পয়সার কারণে জিজ্ঞাসাবাদদের মুখোমুখি হওয়া

📄 টাকা-পয়সার কারণে জিজ্ঞাসাবাদদের মুখোমুখি হওয়া


৩৪৬. হাসান ইবনু মানসূর বলেন, “আলি ইবনু ইছাম কোনো এক বিষয়ে চিন্তা করছিলেন। এ সময় কেউ তাকে কিছু একটা পড়ে শোনাচ্ছিলেন। তখন আমি তাকে বলি, 'আবুল হাসান! মনে হচ্ছে আপনি কোনো বিষয়ে চিন্তামগ্ন?' তিনি উত্তরে বলেন, 'আমি এমন এক বিষয়ে চিন্তা করছি, যা তোমার পছন্দ হবে.' তারপর তিনি বলেন, 'দিনার-দিরহামের মাধ্যমে উপকৃত হবে বিধায় মানুষ তা পেয়ে আনন্দ লাভ করে। কিন্তু সে জানে না যে, এই দিনার-দিরহামের কারণেই একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তাকে.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 ঈসা -এর উপদেশ

📄 ঈসা -এর উপদেশ


৩৪১. ঈসা আল মুরাদি থেকে বর্ণিত আছে, ঈসা ইবনু মারিয়াম তাঁর সঙ্গীসাথিদের বলেছেন, “যদি তোমরা প্রকৃতপক্ষেই আমার সঙ্গীসাথি হয়ে থাকো, তাহলে মানুষের শত্রুতা ও বিদ্বেষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে নাও। যদি সেটা না পারো, তাহলে তোমরা আমার ভাই নও। আমি তোমাদের যা কিছু শেখাই, আমল করার জন্য শেখাই। স্রেফ জানানো আর অবাক করে দেওয়ার জন্য নয়। অপছন্দনীয় বিষয়ে ধৈর্যধারণ এবং প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করা ছাড়া কখনোই কাঙ্ক্ষিত স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না।
কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থেকো, কেননা তা অন্তরে প্রবৃত্তির লালসা তৈরি করে। ফিতনায় পড়ার জন্য এই কুদৃষ্টি একাই যথেষ্ট। যার চোখ তার অন্তরে স্থাপিত, অন্তরটা চোখে স্থাপিত নয়, তার জন্য সুসংবাদ। যা গত হয়ে গেছে, তা কতইনা দূরবর্তী। আর যা সামনে আসবে, তা কতইনা নিকটবর্তী। দুনিয়াদারের জন্য দুর্ভোগ! সে কীভাবে মৃত্যুবরণ করবে? সে তো দুনিয়ার ওপর আস্থা রেখে বসে আছে, অথচ দুনিয়া তাকে ধোঁকা দিচ্ছে। দুনিয়াকে সে নিরাপদ মনে করে, অথচ দুনিয়া তার সাথে ষড়যন্ত্র করছে। ধোঁকাগ্রস্তদের জন্য দুর্ভোগ! তারা যা অপছন্দ করে, সেটাই তাদের কাছে দ্রুতগতিতে চলে এসেছে। তাদের যে বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটা এসে গেছে। তারা যে লম্বা লম্বা রাত এবং দিন পছন্দ করে, সেটা থেকে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে গেছে।
দুনিয়া যার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আর পাপাচার যার কাজকর্ম ছিল, তার সর্বনাশ। আগামীকাল নিজ প্রতিপালকের সামনে তাকে কতইনা অপদস্থ হতে হবে। বেশি বেশি আল্লাহর যিকর করবে। যিকর ছাড়া সাধারণ কথাবার্তা বেশি বলবে না। অন্যথায় তোমাদের নরম অন্তরও পাষাণ হয়ে যাবে। পাষাণ অন্তরের স্থান আল্লাহর থেকে দূরে সরে যায়। কিন্তু তোমরা তো তা জানো না। অন্যের পাপকে মুনিবের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখো না। নিজেদের পাপাচারের প্রতি এমনভাবে তাকাও, যেন তোমরা গোলাম।
মানুষ হয় সুস্থ, নাহলে বিপদগ্রস্ত। এর বাইরে আর কিছু নেই। সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকলে আল্লাহর প্রশংসা করবে। আর অন্য কেউ অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত হলে তার প্রতি দয়া করবে। আকাশ থেকে পাহাড়ের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হলেও তো সেই শক্ত পাহাড় নরম হয়ে যায়। কিন্তু দেখো, কত দীর্ঘকাল যাবত তোমরা হিকমাহ চর্চা করছো কিন্তু এতে তোমাদের অন্তর নরম হচ্ছে না। অন্যের প্রতি যতটা বিনয়ী হবে, তোমাদের প্রতি ততই অনুগ্রহ করা হবে। যেমন চাষাবাদ করবে, তেমনই শস্য পাবে।
উলামায়ে সু (মন্দাচারী আলিম) হলো দাফলি বৃক্ষের মতো। দেখতে অনেক সুন্দর, কিন্তু খেলেই মৃত্যু। তোমাদের কথাবার্তা ওষুধের মতো। পক্ষান্তরে তোমাদের কাজকর্ম রোগের মতো, যার কোনো ওষুধ নেই। গুরুদের তোমরা নিজেদের পায়ের তলে নিয়ে রেখে দিয়েছ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যেন তারা তোমাদের চাকর-বাকর। আমি তোমাদের সত্য কথাই বলছি। আসলে এসব কথা তোমাদের কাজে আসবে? তোমাদের মুখ থেকেই তো এ ধরনের হিকমাহপূর্ণ কথা বের হয়। কিন্তু সেগুলো তোমাদের কানে প্রবেশ করে না। অথচ মুখ আর কানের মাঝে মাত্র চার আঙ্গুলের দূরত্ব। তোমাদের অন্তরেও যায় না কথাগুলো। মানুষ এখন স্বাধীন হলেও সম্ভ্রান্ত নেই। দাস শ্রেণির লোকেরাও আর মুত্তাকী নেই.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মূসা -এর যুহদ

📄 মূসা -এর যুহদ


৩৫০. সুলাইমান ইবনু ইসহাক ইবনু আবী সুলাইমান বলেন, মূসা যখন দুনিয়ার প্রতি বিরাগী হয়ে উঠে নিজেকে সম্বোধন করে বলেন: “হে নফস! তুমি যখনই কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হয়েছ, আমি অবশ্যই তার বিরোধিতা করেছি.”
৩৫১. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি থেকে বর্ণিত, মাদা ইবনু ঈসা আল কালায়ি বলেন, “আল্লাহর সাথে কথা হওয়ার পর মূসা নারীসঙ্গ ও মাংস আহার ছেড়ে দেন। এই সংবাদ তাঁর ভাই হারুন -এর কাছে পৌঁছলে একই কাজ করেন তিনিও। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই তিনি বিয়ে করেন এবং মাংস খাওয়া শুরু করেন। এ সংবাদ মূসা -কে জানানো হলে তিনি বলেন, “আল্লাহর জন্য যা ছেড়ে দিয়েছি, তা আর কখনোই গ্রহণ করা সম্ভব না আমার পক্ষে.”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00