📄 নেতৃত্বের পেশে যুহদ অবলম্বন
৩৪১. হাসান ইবনু আবুল আমরাতা বলেন, “খিলাফাতের দায়িত্ব গ্রহণের আগে উমার ইবনু আবদিল আযীযের চেহারায় স্বচ্ছলতার ছাপ লক্ষ করতাম। কিন্তু খলিফা হওয়ার পর থেকেই তাঁর চেহারায় শুধু দেখছি মৃত্যুর চিহ্ন.”
৩৪২. ইউসূফ ইবনু ইয়াকুব আল কাহিলি বলেন, “উমার ইবনু আবদিল আযিয খাটো খাটো জামা পরিধান করতেন। বাঁশের তিনটি দণ্ডের ওপর মাটির মাধ্যমে বানানো পাথরে রাখা হত তার ঘরের বাতি.”
টিকাঃ
[২৫২] ইবনু সাদ, আত তাবাকাতুল কুবরা, ৫/৩৯৬。
[২৫৩] পূর্ব যুগে লম্বা লম্বা পোশাক পরিধান ছিল সচ্ছলতার নিদর্শন। ধনী ও সচ্ছল লোকেরা লম্বা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করতেন। যাদের সামর্থ থাকত না তারা খাটো জামা পরিধান করতেন। উমার ইবনু আবদিল আযীয-এর অসচ্ছলতার বিষয়টি বোঝাতেই এ বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি খাটো জামা পরিধান করতেন।-অনুবাদক。
📄 হারামের আশঙ্কায় ভোগ্যপণ্য পরিহার
৩৪৩. আবূ বকর ইবনু উসমান বলেন, “আমি বিশর ইবনু হারিসকে বলতে শুনেছি: ‘চল্লিশ বছর যাবত আমি ভূনা গোশত খেতে চাচ্ছি, কিন্তু সে জন্য সন্দেহমুক্ত একটি দিরহামও পাচ্ছি না.”
টিকাঃ
[২৫৪] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৫/১৯৫。
📄 দুনিয়ার উলটো আচরণ
৩৪৪. আবূ উসমান সাঈদ ইবনু উসমান আল হান্নাত থেকে বর্ণিত আছে, ইসমাইল ইবনু ইয়াকুব আল আবদি বলেছেন: “রবি ইবনু বাররা ছিলেন বক্তা। তিনি একদিন বলেন, 'হে বনী আদম! তুমি প্রবৃত্তির যেসব চাহিদা পূরণ করছো, যদি খেজুর-ভিক্ষুকের কাছেও তা পেশ করা হয়, সেও তা গ্রহণ করবে না.”
তিনি বলতেন, “দুনিয়া বলে, 'আমি হলাম সাপের ঘর, উপত্যকার সাপ। যে আমাকে সম্মান করে, আমি তাকে অপমান করি। আর যে আমাকে অপমান করে, তাকে সম্মান করি। যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আমি তাকে নিরাপদ রাখি."
📄 ভোগ-বিলাসের সামগ্রী অন্তরের কাঠিন্যের কারণ
৩৪৫. আবূল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আস সাকাফি থেকে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবিদ দুনিয়া বলতেন, “কোনো এক হাকিমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'রাজা-বাদশাদের অন্তর এত পাষাণ হয় কেন?' তিনি উত্তরে বলেছিলেন, 'কারণ তাদের অন্তর থেকে পরকালের চিন্তা দূর হয়ে যায়। তারা প্রবৃত্তির নিকটবর্তী হয়ে যায়। ভোগ বিলাসের ওপর সক্ষমতা অর্জিত হয় তাদের। ফলে তাদের অন্তর কালো ও পাষাণ হয়ে যায়.”
৩৪৬. আবদুল্লাহ আল কুরাশী বলেন, “আমি বুনান ইবনু মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি: 'ক্ষতিকর সব বিষয় যার আনন্দের মাধ্যম হয়ে উঠে, সে কীভাবে সফলতা লাভ করতে পারে?”
টিকাঃ
[২৫৫] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/৩২৫。