📄 দুনিয়াবিমুখের কারামত
৩২৮. বিলাল ইবনু কাব বলেন, “অনেক সময় ছোট ছোট বাচ্চারা এসে আবূ মুসলিমকে বলত, 'আল্লাহর কাছে দুআ করেন, যেন তিনি এই পাখিটাকে আটকে দেন। আমরা ধরব.' তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করলে সত্যি সত্যি পাখির গতি থেমে যেত। তারা এসে ধরে নিয়ে যেত পাখিটাকে.”
টিকাঃ
[২৪১] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/১২৯。
📄 কারও নফস-ই নির্দোষ নয়
৩২৯. ইকরিমা থেকে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন, "ইউসূফ -এর তিনবার সিদ্ধান্তগত ভুল হয়েছিল। প্রথমত, যখন তিনি (শুধু আল্লাহর পরিবর্তে) এক কারাসঙ্গীকে বলেছিলেন, 'তোমার মনিবকে আমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ো.' কিন্তু শয়তান ভুলিয়ে দেওয়ার কারণে সে তার মনিব তথা মিশরের বাদশার কাছে তা বলতে পারেনি। দ্বিতীয় ভুল ছিল, ভাইদের তিনি বলেছিলেন, 'তোমরা তো চোর.” বর্ণনাকারী বলেন, "আমার জানামতে ইবনু আব্বাস তৃতীয় ভুল হিসেবে বলেছেন, “ইউসূফ -এর সে মন্তব্যটি, 'যেন তিনি জানতে পারেন যে, আমি গোপনে তার খিয়ানত করিনি। তখন জিবরীল তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'আপনি যখন তার (জুলাইখার) ব্যাপারে চিন্তা করছিলেন, তখনো না?'
ইউসূফ এ প্রেক্ষিতে বলেন, ‘আমি তো নিজেকে নির্দোষ বলছি না.”
৩৩০. আল্লাহ তাআলার বাণী: لَوْلَا أَن رَّأَى بُرْهَانَ رَبِّهِ “যদি না সে আপন পালনকর্তার নিদর্শন প্রত্যক্ষ করত.”
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “তখন তার সামনে পিতা ইয়াকুব-এর ছবি ভেসে উঠেছিল। সেসময় ইউসূফ-এর বুকে আঘাত করেছিলেন তিনি। এর ফলে আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে তার প্রবৃত্তির চাহিদা বের হয়ে যায়.”
টিকাঃ
[২৪২] সূরা ইউসূফ, ১২:৫২。
[২৪৩] সুয়ুতি, আদ দুররুল মানসুর, ৪/৫৪৩; এই বর্ণনাটি প্রমাণিত নয়। এতে খুসাইফ নামে একজন রাবি রয়েছে, রিজাল-শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যে সমালোচিত。
[২৪৪] সূরা ইউসূফ, ১২: ২৪。
[২৪৫] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ২/৩৪৬。
📄 যে কেউ পথভ্রষ্ট বা হিদায়াতপ্রাপ্ত হতে পারে
৩৩১. হাসান আবুযর থেকে বর্ণনা করেন, “ইসলাম, মুসলিম এবং দরিদ্রদের ভালোবেসো। অন্তর থেকে ভালোবেসো দরিদ্রদের। দুনিয়ার ঝুট-ঝামেলায় প্রবেশ করবে বটে, কিন্তু সবরের মাধ্যমে তা থেকে বেরিয়ে আসবে। যে ব্যক্তি দ্বীনের ওপর আছে, তারও বিচ্যুতি ঘটতে ও বেদ্বীন অবস্থায় মৃত্যু হতে পারে। তেমনিভাবে যে ব্যক্তি দ্বীনের ওপর নেই, সেও দ্বীনের পথে ফিরে আসতে এবং দ্বীনের ওপর মৃত্যুবরণ করতে পারে। নিজের জন্য যে কল্যাণের আশা রাখো, মানুষও যেন তোমার থেকে সে কল্যাণেরই আশা রাখে.”
📄 যাহিদ ব্যক্তি অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা আখিরাতের নিয়ামত দেখতে পায়
৩৩২. আসিম আল খুলকানি থেকে বর্ণিত, রবি ইবনু আবদির রহমান বলেছেন: “আল্লাহ তাআলার এমনকিছু বান্দা রয়েছে, যারা আল্লাহর জন্য ক্ষুধার্ত থাকে। পাপের জিনিসের দিকে তাকায়ও না। পথভ্রষ্টতার অন্ধকারে যখন চারিদিক ঘোলাটে হয়ে উঠে, তখন তারা কান্না করে। আশা রাখে, এসকল আমলের কারণে আলোকিত হয়ে উঠবে তাদের কবর। দুনিয়াতে তারা থাকে অখ্যাত। কিন্তু পরকালে লোকজন তাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। তারা স্বচক্ষেই অদৃশ্য জগতে নিহিত আল্লাহর মহিমা দেখতে পায়। আল্লাহর কাছে তারা যে মহান প্রতিদানের আশা রাখে, সেগুলোও তারা প্রত্যক্ষ করে। নিজেদের আকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো দেখার ফলে তারা আরও বেশি করে ইবাদাত-বন্দেগী করতে থাকে। দুনিয়াতে তারা কোনো শান্তি খুঁজে পায় না, কিন্তু মৃত্যুর ফেরেশতা আগমনের সাথে সাথে তাদের চোখ শীতল হয়ে যায়.” বর্ণনাকারী বলেন, "রবি ইবনু আবদির রহমান এরপর কান্না করতে থাকেন। এমনকি কাঁদতে কাঁদতে তার দাঁড়ি ভিজে যায়.”