📄 নেক বান্দার অন্তর্দৃষ্টি
৩২৫. জাফর আল খুলদি থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম আল খাওয়াস বলেছেন: “আমি একবার লিকাম পাহাড়ে ছিলাম। সেখানে আনার দেখতে পেয়ে তা খাওয়ার ইচ্ছে জাগে আমার। গাছের কাছে গিয়ে একটি আনার পেড়েও ফেলি। ভেঙ্গে দেখি তা টক। তখন শুয়ে থাকা এক লোক আমার নজরে পড়ে। বিষধর পোকামাকড় ঘিরে রেখেছিল তাকে। তাকে বলি, 'আসসালামু আলাইকুম.' লোকটি উত্তরে বলেন, 'ওয়া আলাইকুমুস সালাম, ইবরাহীম.' বললাম, 'আপনি আমাকে চিনলেন কীভাবে?' তিনি উত্তরে বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিচয় পায়, দুনিয়ার কোনো কিছুই তার কাছে গোপন থাকে না.' আমি বললাম, 'যেহেতু আল্লাহর সাথে আপনার ভালো সম্পর্ক আছে, তাই এসব বিষধর পোকামাকড় থেকে মুক্তির জন্য তাঁর কাছে আবেদন করুন.' তিনি আমাকে বলেন, 'আমিও তো দেখছি আল্লাহর সাথে তোমার ভালো সম্পর্ক। এখন তুমি আল্লাহর কাছে আবেদন করো, যেন তিনি তোমাকে আনার খাওয়ার চাহিদা থেকে মুক্ত করেন। কেননা, এই আনার তোমাকে দংশন করবে। যার ব্যথা তোমার অনুভব হবে পরকালে গিয়ে। পক্ষান্তরে এই বিষধর পোকামাকড়ের দংশনের ব্যথা আমি কেবল দুনিয়াতেই ভোগ করে যাব। এ কারণে আখিরাতে আমার কোনো কষ্ট হবে না.' এই কথা শুনে আমি তাকে রেখেই সেখান থেকে চলে আসি.”
৩২৬. আবু উমামা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
اتَّقوا فراسة المُؤْمِنِ فَإِنَّه يَنظُرُ بِنُورِ اللَّهِ
"মুমিনের অন্তর্দৃষ্টিকে ভয় করো। কারণ, সে আল্লাহর নূরের মাধ্যমে দেখে.”
টিকাঃ
[২৩৯] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০/২৬৮; মুহাদ্দিসগণ বিভিন্ন সূত্রে ও সনদে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। এবং এর সার্বিক বিশ্লেষণের পর এর সনদকে 'হাসান' বলেছেন。
📄 নফসের সাথে আচরণ
৩২৭. হাসান থেকে বর্ণিত, আবূ মুসলিম খাওলানী বলেছেন: “যদি আজ আমি নফসকে সম্মান করি, তার প্রতি সহনশীল হই, তাকে ভোগবিলাসে লিপ্ত রাখি, তাহলে আগামীকাল আল্লাহর দরবারে সে আমার নিন্দা করবে। আর যদি আজ তাকে অপমান করি, কষ্ট ক্লেশের মধ্যে রাখি, তাকে দিয়ে কাজকর্ম করাই, তাহলে আগামীকাল আল্লাহর দরবারে সে আমার প্রশংসা করবে.” লোকেরা বলল, "নফসের সাথে এমন আচরণ কে করতে পারবে?” তিনি বলেন, “আল্লাহর কসম! আমিই পারব.”
টিকাঃ
[২৪০] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/১২৪。
📄 দুনিয়াবিমুখের কারামত
৩২৮. বিলাল ইবনু কাব বলেন, “অনেক সময় ছোট ছোট বাচ্চারা এসে আবূ মুসলিমকে বলত, 'আল্লাহর কাছে দুআ করেন, যেন তিনি এই পাখিটাকে আটকে দেন। আমরা ধরব.' তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করলে সত্যি সত্যি পাখির গতি থেমে যেত। তারা এসে ধরে নিয়ে যেত পাখিটাকে.”
টিকাঃ
[২৪১] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/১২৯。
📄 কারও নফস-ই নির্দোষ নয়
৩২৯. ইকরিমা থেকে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন, "ইউসূফ -এর তিনবার সিদ্ধান্তগত ভুল হয়েছিল। প্রথমত, যখন তিনি (শুধু আল্লাহর পরিবর্তে) এক কারাসঙ্গীকে বলেছিলেন, 'তোমার মনিবকে আমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ো.' কিন্তু শয়তান ভুলিয়ে দেওয়ার কারণে সে তার মনিব তথা মিশরের বাদশার কাছে তা বলতে পারেনি। দ্বিতীয় ভুল ছিল, ভাইদের তিনি বলেছিলেন, 'তোমরা তো চোর.” বর্ণনাকারী বলেন, "আমার জানামতে ইবনু আব্বাস তৃতীয় ভুল হিসেবে বলেছেন, “ইউসূফ -এর সে মন্তব্যটি, 'যেন তিনি জানতে পারেন যে, আমি গোপনে তার খিয়ানত করিনি। তখন জিবরীল তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'আপনি যখন তার (জুলাইখার) ব্যাপারে চিন্তা করছিলেন, তখনো না?'
ইউসূফ এ প্রেক্ষিতে বলেন, ‘আমি তো নিজেকে নির্দোষ বলছি না.”
৩৩০. আল্লাহ তাআলার বাণী: لَوْلَا أَن رَّأَى بُرْهَانَ رَبِّهِ “যদি না সে আপন পালনকর্তার নিদর্শন প্রত্যক্ষ করত.”
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “তখন তার সামনে পিতা ইয়াকুব-এর ছবি ভেসে উঠেছিল। সেসময় ইউসূফ-এর বুকে আঘাত করেছিলেন তিনি। এর ফলে আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে তার প্রবৃত্তির চাহিদা বের হয়ে যায়.”
টিকাঃ
[২৪২] সূরা ইউসূফ, ১২:৫২。
[২৪৩] সুয়ুতি, আদ দুররুল মানসুর, ৪/৫৪৩; এই বর্ণনাটি প্রমাণিত নয়। এতে খুসাইফ নামে একজন রাবি রয়েছে, রিজাল-শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যে সমালোচিত。
[২৪৪] সূরা ইউসূফ, ১২: ২৪。
[২৪৫] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ২/৩৪৬。