📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নফসের শত্রুতার নানা দিক

📄 নফসের শত্রুতার নানা দিক


৩১১. ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
أعدى عدوّك نفسك التي بَيْنَ جَنْبَيْكَ
“তোমার দুই পার্শের মধ্যে অবস্থিত নফসই তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু.”
৩১২. লুকমান ইবনু আমের থেকে বর্ণিত আছে, আবূদ দারদা বলেছেন: "যে নফসকে সম্মানিত করতে চায়, তার জন্য আফসোস। আসলে সে তো তাকে অপমানই করে। আফসোস! মুহূর্তের জন্য প্রবৃত্তির চাহিদার অনুসরণ, দীর্ঘকালের অনুশোচনার মধ্যে ফেলে দেয়।
৩১৩. আবদুল ওয়াহিদ ইবনু বকর আল অরছানি বলেন, “আমার এক সাথিকে ইবনু আতার সূত্রে বলতে শুনেছি: 'নফস কখনো সত্যকে আপন করে নেয় না.”
৩১৪. আমি আবূ আলি হাসান ইবনু আলিকে বলতে শুনেছি : “রাস্তা তো সোজাই, কিন্তু প্রবৃত্তি এ পথের পথিককে অপদস্থ করে ছাড়ে.” তিনি বলেন,
“ইবাদাতের ক্ষেত্রে ফিকহ হলো, প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ থেকে নফসকে বাঁচিয়ে রাখা.”

টিকাঃ
[২৩০] আলি মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ৪/৪৩১; হাদীসটির সনদ সহীহ নয়。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 ঈমানের পূর্ণতার শর্ত নফসের বিরোধিতা

📄 ঈমানের পূর্ণতার শর্ত নফসের বিরোধিতা


৩১৫. ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আত তাবারি থেকে বর্ণিত, ফুযাইল ইবনু ইয়ায বলেছেন, “মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত আপন প্রবৃত্তির ওপর আল্লাহকে প্রাধান্য দিতে না পারবে, ততক্ষণ সে পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারবে না (অর্থাৎ, পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না).”
৩১৬. আবূ আবদুর রহমান আস সুলামি থেকে বর্ণিত, ওস্তাদ আবূ সাহাল সুউলুকিকে উবুদিয়্যাতের হাকীকাত (আল্লাহর দাসত্বের স্বরূপ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, "তা হলো, অনুসরণ এবং বিরোধিতার নাম। অর্থাৎ, হকের অনুসরণ করা এবং নফস ও প্রবৃত্তির বিরোধিতা করা.”
৩১৭. মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, “আমি মুহাম্মাদ ইবনু ফজলকে বলতে শুনেছি : 'কী আশ্চর্য! মানুষ হাজারো উপত্যকা, বন-জঙ্গল এবং মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ঘরে এসে পৌঁছায়। কিন্তু নিজের নফস ও প্রবৃত্তিকে পাড়ি দিয়ে নিজের অন্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। অথচ সেখানে তার মাওলার কুদরতের নিদর্শন রয়েছে.”
৩১৮. আলি ইবনু আবদিল হামীদ আল গাযায়িরি বলেন, "আমি সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি: 'তোমার ওপর প্রবল হয়ে যাওয়া নফস-ই তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু। যে ব্যক্তি নিজের নফসকে শায়েস্তা করতে পারে না, সে অন্য কিছুকে শায়েস্তা করতে পারার প্রশ্নই ওঠে না.”
৩১৯. আলি ইবনু আবদিল হামীদ আল গাযায়িরি থেকে বর্ণিত, “সিররি সাকতি বলেছেন, 'আল্লাহর পরিচয় লাভের নিদর্শন হলো, তাঁর অধিকার পালন করা, যথাসাধ্য তাঁকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেওয়া.”

টিকাঃ
[২৩۱] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২১৪。
[২৩۲] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২৬。
[২৩۳] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২৬。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নিজের দোষ খোঁজা

📄 নিজের দোষ খোঁজা


৩২০. আলি ইবনু আবদিল হামীদ আল গাযায়িরি থেকে বর্ণিত, সিররি সাকতি বলেছেন, "ইসতিদরাজের [২০৪] লক্ষণ হলো, নিজের দোষত্রুটির ব্যাপারে চক্ষু অন্ধ হয়ে যাওয়া.”
৩২১. আলি ইবনু আবদিল হামীদ আল গাযায়িরি থেকে বর্ণিত, সিররি সাকতি বলেছেন: “সর্বোত্তম বিষয় পাঁচটি। গুনাহের কারণে কান্না করা, নিজের দোষত্রুটি সংশোধন করা, অদৃশ্যের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত মহান আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করা, অন্তরের জং দূর করা, প্রবৃত্তির চাহিদাকে নিজের ওপর সাওয়ার হতে না দেওয়া.”

টিকাঃ
[২০৪] গুনাহের শাস্তি স্বরূপ অনেক সময় আল্লাহ বান্দাকে তাৎক্ষণিক পাকড়াও না করে বিভিন্ন ঢিল ছুঁড়ে থাকেন। ফলে বাহ্যত সে ভাবে, সে ভালো হালতে আছে। অথচ আল্লাহ তাকে কঠিনভাবে পাকড়াও করবেন— এটা সে বুঝতেই পারে না। আর এটাকেই ইসতিদরাজ বলে。
[২০৫] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২৬。
[২০৬] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২৬。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নফসের তিন দিক

📄 নফসের তিন দিক


৩২২. হামীদ আল লাফাফ থেকে বর্ণিত, হাতিম বলেছেন: “প্রবৃত্তি হলো তিনটি বিষয়ের নাম। খাবারের চাহিদা, কথাবার্তা বলার ইচ্ছা এবং তাকানোর বাসনা.” এরপর তিনি উপরোক্ত তিনটির সমাধানে বলেন, "আস্থাযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে খাবার নিয়ন্ত্রণ করবে। সততার মাধ্যমে মুখ নিয়ন্ত্রণ করবে। আর কান্নার মাধ্যমে নজরের হিফাযত করবে.”

টিকাঃ
[২০৭] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৯৬。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00