📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নফসকে হত্যা করার গুরুত্ব

📄 নফসকে হত্যা করার গুরুত্ব


২৯৬. আমি আবূ আলি আদ দাক্কাককে কোনো এক মনীষীর সূত্রে বলতে শুনেছি: "যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের নফস দ্বারা নিজের নফসকে হত্যা করতে না পারবে, ততক্ষণ তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছাতে পারবে না.” তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "নফসকে কীভাবে হত্যা করতে হবে?" তিনি বলেন, "বিরোধিতার অস্ত্রের মাধ্যমে.”
২৯৭. আমি আবূ আলিকে বলতে শুনেছি: "এক মনীষী বলেছেন, 'যদি শারীয়াতে নিষেধ না থাকত, তাহলে আমি নফসের জন্যই নফসের মাধ্যমে আমার নফসকে হত্যা করে ফেলতাম.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আল্লাহর অসন্তুষ্টি, দ্বীনের অপমান ও বিপদের কারণ নফস

📄 আল্লাহর অসন্তুষ্টি, দ্বীনের অপমান ও বিপদের কারণ নফস


২৯৮. আমি আবূ আলিকে বলতে শুনেছি: "যার অন্তরে তার প্রতিপালকের প্রভাব প্রাধান্য বিস্তার করে না, সে নিজ প্রবৃত্তি এবং নফসের গোলামী করে বেড়ায়.”
২৯৯. আবূ আমর আনমাতি বলেন, "ইবনু আতাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির সবচেয়ে বড় কারণ কী?' তাকে এর উত্তরে বলতে শুনেছি, 'নফসের চাহিদার বাস্তবায়ন'.”
৩০০. আবু আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, "আমি আমার দাদা আবূ আমরকে বলতে শুনেছি, 'নফস যার কাছে সম্মানের পাত্র হয়ে উঠে, তার কাছে দ্বীন অপদস্থ হয়ে যায়.”
৩০১. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, "আমার দাদাকে বলতে শুনেছি: 'নফসের অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট থাকাটা মানুষের বিপদের কারণ'.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নফসের দোষ এড়িয়ে যাওয়ার পরিণাম

📄 নফসের দোষ এড়িয়ে যাওয়ার পরিণাম


৩০২. আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আর-রাযি বলেন, “আমি আবূ উসমানকে বলতে শুনেছি: 'নিজের নফসের দোষত্রুটি দেখা সত্ত্বেও কেউ কেউ অন্তরে কোনো ব্যথা অনুভব করে না। এর সংশোধন করে না। আমার আশংকা হয় যে, এর ফলে তার অহমিকা এবং সেই দোষের ওপর অটল থাকার মানসিকতাই বাড়বে কেবল."
৩০৩. তিনি বলেন, আবূ উসমান বলেছেন, "মুরিদের সমস্যা হচ্ছে, ভুলত্রুটি দেখেও চোখ বন্ধ করে রাখা। যথাযথ ওষুধের মাধ্যমে তার চিকিৎসা না করা। এর ফলে নফস একসময় ভুলের ওপর অভ্যস্ত হয়ে উঠে। তখন ইরাদার (সংশোধনের ইচ্ছার) স্তর থেকে নিচে পড়ে যায় সে.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 কুপ্রবৃত্তির কারাগার

📄 কুপ্রবৃত্তির কারাগার


৩০৪. আবূ আবদির রহমান বলেন, "আমি নসর আবাযিকে বলতে শুনেছি : 'নফস তোমার কারাগার। তা থেকে বের হতে পারলেই চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করবে। যতক্ষণ তাতে আবদ্ধ থাকবে, ততক্ষণ বিপদ-আপদের কারাগারেই থাকবে." পড়ে থাকতে হবে তোমাকে। কেবল দ্বীনের পথে অবিচলতার মাধ্যমেই সে কারাগার থেকে মুক্তিলাভ সম্ভব। নবি বলেছেন,
استقيموا ولن تُحصوا
দ্বীনের পথে অবিচল থেকো। তবে কখনো পুরোপুরিভাবে অবিচল থাকতে পারবে না.”
৩০৫. নবি বলেন:
الدنيا سِجْنُ الْمُؤْمِن وَجَنَّةُ الكَافِرِ
"দুনিয়া মুমিনের কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাত.”
ইবনু মানসূর বলেন, “এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ফুযাইল ইবনু ইয়ায বলেন, 'পার্থিব ভোগবিলাস ও প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ করা যে ছেড়ে দিয়েছে, দুনিয়া তার জন্যই কারাগার। পক্ষান্তরে যে এসব ছাড়েনি, দুনিয়া তার কারাগার হয় কী করে?”
৩০৬. ওয়াকি থেকে বর্ণিত আছে, দাঊদ আত তায়িকে জিজ্ঞেস করা হয়, “দাঁড়ি আঁচড়ান না কেন?” তিনি বলেন, "আমার কি আর কোনো কাজ নেই! দুনিয়া তো হলো শোকের ঘর.” আরেকবার বলা হলো, “ছাদে গিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করে এলে কিছুটা প্রশান্তি পেতেন.” তিনি উত্তরে বলেন, “আমি এমন একটা কদমও ফেলতে চাই না, যাতে আমার শরীরের প্রশান্তি অনুভব হবে."
৩০৭. আবদুল্লাহ ইবনু ফারজ বলেন, “দাঊদ আত তায়ি যে রাতে মারা গিয়েছিলেন, সে রাতে এক ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে তিনি কোথাও দৌড়াচ্ছেন। সে তাকে জিজ্ঞেস করে, 'দৌড়াচ্ছেন কেন?' তিনি বলেন, 'এইমাত্র (নফসের) কারাগার থেকে আমাকে মুক্তি দেওয়া হলো.' সকাল হলেই সে লোকমুখে শুনতে পায় যে, দাঊদ আত তায়ি আজ রাতে মৃত্যুবরণ করেছেন!”
৩০৮. আবদুল্লাহ আর-রাযি বলেন, "আমি মুহাম্মাদ ইবনু ফজলকে বলতে শুনেছি: 'মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে নিষ্কৃতি লাভই হলো প্রকৃত শান্তি.”
৩০৯. আবু বকর ইবনু শাজান বলেন, "আমি আবদুল্লাহ ইবনু মুনাযিলকে বলতে শুনেছি : 'যে ব্যক্তি নিজের ওপর থেকে নিজের ছায়া উঠিয়ে নেয়, তার ছায়ায় বসবাস করে সাধারণ মানুষ.”

টিকাঃ
[২২৬] মুনাবি, ফাইযুল কাদির, ১/৪৯৭; ইমাম সুয়তি একে সহীহ বলেছেন。
[২২৭] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২/৩২৩; বহু মুহাদ্দিস এই হাদীসকে বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যার কিছু সহীহ এবং কিছু যঈফ। মোটকথা, হাদীসটি গ্রহণযোগ্য。
[২২৮] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, ৩৬৭。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00