📄 প্রবৃত্তির মালিকানা বনাম প্রবৃত্তির দাসত্ব
২৯৪. তিনি বলেন, “আমি ওস্তাদ আলি হাসান ইবনু আলিকে বলতে শুনেছি : 'মানুষ একই সাথে মালিকও হতে পারে আবার গোলামও হতে পারে। যে নিজের প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে মালিক। আর প্রবৃত্তি যাকে নিয়ন্ত্রণ করে, সে গোলাম.”
২৯৫. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ ইবনু ফজল বলেছেন: “নিজেকে সেই ব্যক্তির স্তরে নিয়ে যাও, যার নফস আছে বটে, কিন্তু নফসের চাহিদার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। কারণ, নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকারী ব্যক্তি সম্মানিত হয়। আর নফসের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তি হয় অপদস্থ.”
টিকাঃ
[২২৫] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, ২১৫。
📄 নফসকে হত্যা করার গুরুত্ব
২৯৬. আমি আবূ আলি আদ দাক্কাককে কোনো এক মনীষীর সূত্রে বলতে শুনেছি: "যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের নফস দ্বারা নিজের নফসকে হত্যা করতে না পারবে, ততক্ষণ তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছাতে পারবে না.” তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "নফসকে কীভাবে হত্যা করতে হবে?" তিনি বলেন, "বিরোধিতার অস্ত্রের মাধ্যমে.”
২৯৭. আমি আবূ আলিকে বলতে শুনেছি: "এক মনীষী বলেছেন, 'যদি শারীয়াতে নিষেধ না থাকত, তাহলে আমি নফসের জন্যই নফসের মাধ্যমে আমার নফসকে হত্যা করে ফেলতাম.”
📄 আল্লাহর অসন্তুষ্টি, দ্বীনের অপমান ও বিপদের কারণ নফস
২৯৮. আমি আবূ আলিকে বলতে শুনেছি: "যার অন্তরে তার প্রতিপালকের প্রভাব প্রাধান্য বিস্তার করে না, সে নিজ প্রবৃত্তি এবং নফসের গোলামী করে বেড়ায়.”
২৯৯. আবূ আমর আনমাতি বলেন, "ইবনু আতাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির সবচেয়ে বড় কারণ কী?' তাকে এর উত্তরে বলতে শুনেছি, 'নফসের চাহিদার বাস্তবায়ন'.”
৩০০. আবু আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, "আমি আমার দাদা আবূ আমরকে বলতে শুনেছি, 'নফস যার কাছে সম্মানের পাত্র হয়ে উঠে, তার কাছে দ্বীন অপদস্থ হয়ে যায়.”
৩০১. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, "আমার দাদাকে বলতে শুনেছি: 'নফসের অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট থাকাটা মানুষের বিপদের কারণ'.”
📄 নফসের দোষ এড়িয়ে যাওয়ার পরিণাম
৩০২. আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আর-রাযি বলেন, “আমি আবূ উসমানকে বলতে শুনেছি: 'নিজের নফসের দোষত্রুটি দেখা সত্ত্বেও কেউ কেউ অন্তরে কোনো ব্যথা অনুভব করে না। এর সংশোধন করে না। আমার আশংকা হয় যে, এর ফলে তার অহমিকা এবং সেই দোষের ওপর অটল থাকার মানসিকতাই বাড়বে কেবল."
৩০৩. তিনি বলেন, আবূ উসমান বলেছেন, "মুরিদের সমস্যা হচ্ছে, ভুলত্রুটি দেখেও চোখ বন্ধ করে রাখা। যথাযথ ওষুধের মাধ্যমে তার চিকিৎসা না করা। এর ফলে নফস একসময় ভুলের ওপর অভ্যস্ত হয়ে উঠে। তখন ইরাদার (সংশোধনের ইচ্ছার) স্তর থেকে নিচে পড়ে যায় সে.”