📄 মারিফাত লাভের উপায়
২৮৯. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, "ইবরাহীম ইবনু আদহামকে বলতে শুনেছি: 'সবচেয়ে কঠিন জিহাদ হলো, মনের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। যে ব্যক্তি মনের চাহিদা পূরণ করে না, সে দুনিয়ার বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পায়। কষ্ট- যাতনা থেকে নিরাপদ থাকে.”
২৯০. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, "আমি ইবরাহীম ইবনু আদহামকে বলতে শুনেছি : 'প্রবৃত্তি মানুষকে ধ্বংস করে, আর আল্লাহর ভয় মানুষকে মুক্তি দেয়। জেনে রাখো, যখন তোমার মধ্যে ঐ সত্তার ভয় হ্রাস পাবে যিনি তোমাকে দেখছেন, তোমার প্রবৃত্তির চাহিদা তখন আর দূর হবে না.”
২৯১. আবু মুহাম্মাদ জারিরি থেকে বর্ণিত আছে, সাহাল ইবনু আবদিল্লাহকে মারিফাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "চরম কষ্ট সহ্য করা ছাড়া কেউ এই স্তরে উপনীত হতে পারে না। তখন প্রবৃত্তির অনুসরণের পরিবর্তে তার বিরোধিতা করেই বেশি মজা পায় মানুষ। এ অবস্থায় চলে এলে সে মারিফাত (আল্লাহর প্রকৃত পরিচয়) অর্জন করতে পারে.”
২৯২. তিনি আরও বলেন, "আমি সাহালকে বলতে শুনেছি: 'যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর আনুগত্য না করে, ততক্ষণ তার রূহ আল্লাহর মারিফাত (প্রকৃত পরিচয়) লাভ করতে পারে না.”
টিকাঃ
[২২৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৮。
📄 অন্তরের রোগ যখন অন্তরের ওষুধ
২৯৩. ইবনু আতা বলেন, জুনাইদ বলেছেন, "এক রাতে আমি ঘুম বাদ দিয়ে ওযীফা আদায়ের চেষ্টা করি। কিন্তু অন্যদিন এতে যে স্বাদ পেতাম, তা পাচ্ছিলাম না সেদিন। তখন আমি ঘুমানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ঘুমাতেও পারছিলাম না। এরপর বসে থাকতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু তাও পারছিলাম না। শেষে ঘর থেকে বের হয়ে যাই। দেখতে পাই, আবা (ঢিলেঢালা বড় আলখেল্লার মতো পোশাক) পরিহিত এক ব্যক্তি রাস্তায় শুয়ে আছে। আমার উপস্থিতি টের পেয়ে সে মাথা উঠিয়ে বলে, 'এতক্ষণে আসলে, আবুল কাসিম?' আমি বলি, 'হে আমার সাইয়িদ! আগে না জানিয়ে হঠাৎ করে আসলেন!' তিনি বলেন, 'যেই সত্তা মানুষের অন্তর ঘুরিয়ে দেন, আমি তাঁর কাছে আবেদন করেছি তিনি যেন তোমার অন্তরকে আমার দিকে আকৃষ্ট করে দেন.' আমি বলি, 'তিনি তেমনটাই করেছেন। এখন বলুন, কী প্রয়োজনে এলেন?' তিনি জিজ্ঞেস করেন, 'মনের রোগই কখন মনের ঔষধ হয়ে যায়?' আমি বলি, 'মানুষ যখন তার মনের বিরোধিতা করে, তখন.' এরপর তিনি নিজেকে বলেন, 'হে আমার মন! তার এ কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো। আমি আগে সাতবার তোমাকে এই উত্তর দিয়েছিলাম। কিন্তু তা মানতে চাওনি তুমি। জুনাইদের মুখ থেকেই এর উত্তর শুনতে আগ্রহী ছিলে। এখন তো শুনলে.' এরপর সেই লোকটি চলে যায়। আমি তার পরিচয় জানতে চাইনি এবং তাকে চিনিও না.”
টিকাঃ
[২২৪] তাবাকাতুশ শাফিয়িয়া আল কুবরা, ২/২৯。
📄 প্রবৃত্তির মালিকানা বনাম প্রবৃত্তির দাসত্ব
২৯৪. তিনি বলেন, “আমি ওস্তাদ আলি হাসান ইবনু আলিকে বলতে শুনেছি : 'মানুষ একই সাথে মালিকও হতে পারে আবার গোলামও হতে পারে। যে নিজের প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে মালিক। আর প্রবৃত্তি যাকে নিয়ন্ত্রণ করে, সে গোলাম.”
২৯৫. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ ইবনু ফজল বলেছেন: “নিজেকে সেই ব্যক্তির স্তরে নিয়ে যাও, যার নফস আছে বটে, কিন্তু নফসের চাহিদার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। কারণ, নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকারী ব্যক্তি সম্মানিত হয়। আর নফসের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তি হয় অপদস্থ.”
টিকাঃ
[২২৫] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, ২১৫。
📄 নফসকে হত্যা করার গুরুত্ব
২৯৬. আমি আবূ আলি আদ দাক্কাককে কোনো এক মনীষীর সূত্রে বলতে শুনেছি: "যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের নফস দ্বারা নিজের নফসকে হত্যা করতে না পারবে, ততক্ষণ তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছাতে পারবে না.” তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "নফসকে কীভাবে হত্যা করতে হবে?" তিনি বলেন, "বিরোধিতার অস্ত্রের মাধ্যমে.”
২৯৭. আমি আবূ আলিকে বলতে শুনেছি: "এক মনীষী বলেছেন, 'যদি শারীয়াতে নিষেধ না থাকত, তাহলে আমি নফসের জন্যই নফসের মাধ্যমে আমার নফসকে হত্যা করে ফেলতাম.”