📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 গোপন লালসা

📄 গোপন লালসা


২৮৪. কুরআন কারীমে এসেছে: ذَلِكَ لِيَعْلَمَ أَنِّي لَمْ أَخُنْهُ بِالْغَيْبِ "এজন্য, যাতে তিনি (আযীয) জানতে পারেন যে, আমি গোপনে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি.”
আনাস থেকে বর্ণিত আছে, নবি বলেছেন, "জিবরীল তখন ইউসূফ-কে বলেন, 'আপনি (জুলাইখাকে নিয়ে আপনার) চিন্তার কথা স্মরণ করুন.” তখন তিনি বলেন, وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ 'আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দ-কর্মপ্রবণ.'
২৮৫. আব্বাদ ইবনু তামিম তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "আমি নবি -কে বলতে শুনেছি, তিনি তিনবার বলেছেন:
يا نعايا العرب يا نعايا العرب ثلاثا إنَّ أخوف ما أخاف عليكم الرياء وَالشَّهْوَةُ الْخَفِيَّةُ
'হে আরবের ক্ষতিগ্রস্থ লোকেরা! হে আরবের ক্ষতিগ্রস্থ লোকেরা! (কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন) আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি লোক-দেখানোর এবং গোপন প্রবৃত্তির লালসার.”

টিকাঃ
[২১۷] সূরা ইউসূফ, ১২: ৫২。
[২১۸] সূরা ইউসূফ, ১২: ৫৩。
[২১৯] সুয়ুতি, আদ দুররুল মানসূর, ৪/৫৪৯; এই বর্ণনায় মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাইল রয়েছে, যার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন。
[২২۰] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৬/২৫৬。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়ার সংজ্ঞা

📄 দুনিয়ার সংজ্ঞা


১৮৬. জাফর ইবনু মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত আছে, জুনাইদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, দুনিয়া আসলে কী। তিনি উত্তরে বলেন, “দুনিয়া বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন ধরনের। আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী এই উন্মুক্ত স্থানটাই কারও কাছে দুনিয়া। আরেক দলের মতে, পার্থিব ভোগবিলাস এবং গান-বাদ্যই হলো দুনিয়া। যেসব বিষয় প্রবৃত্তির নিকটবর্তী, আমার কাছে তা-ই দুনিয়া.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 কুপ্রবৃত্তির ভয়াবহতা

📄 কুপ্রবৃত্তির ভয়াবহতা


২৮৭. আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ আল কিন্দি বলেন, “আমি আমাদের মাশাইখদের বলতে শুনেছি: 'যদি দুটি বিষয়ের মধ্যে সঠিক-বেঠিক চিনতে না পারো, তাহলে লক্ষ করে দেখবে যে, কোনটা তোমার মনের চাহিদার অধিক নিকটবর্তী। যা মনের চাহিদার অধিক নিকটবর্তী, সেটা বাদ দিয়ে দেবে। কেননা, মনের বিরোধী বিষয়টাই অধিক সঠিক.”
২৮৮. আবূ আবদির রহমান আস সুলামি বলেন, “আমি আমার দাদাকে আবূ উসমান আল খাইরির সূত্রে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি কথা ও কাজে সুন্নাতের প্রয়োগ ঘটায়, সে প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা বলতে পারে। আর যে নিজের ওপর প্রবৃত্তিকে প্রবল করে রাখে, সে বিদআত-মূলক কথা বলে থাকে.”
কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا
তোমরা যদি তার আনুগত্য করো, তবে সৎপথ পাবে.”

টিকাঃ
[২২১] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/২৪৪。
[২২২] সূরা নূর, ২৪:৫৪。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মারিফাত লাভের উপায়

📄 মারিফাত লাভের উপায়


২৮৯. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, "ইবরাহীম ইবনু আদহামকে বলতে শুনেছি: 'সবচেয়ে কঠিন জিহাদ হলো, মনের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। যে ব্যক্তি মনের চাহিদা পূরণ করে না, সে দুনিয়ার বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পায়। কষ্ট- যাতনা থেকে নিরাপদ থাকে.”
২৯০. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, "আমি ইবরাহীম ইবনু আদহামকে বলতে শুনেছি : 'প্রবৃত্তি মানুষকে ধ্বংস করে, আর আল্লাহর ভয় মানুষকে মুক্তি দেয়। জেনে রাখো, যখন তোমার মধ্যে ঐ সত্তার ভয় হ্রাস পাবে যিনি তোমাকে দেখছেন, তোমার প্রবৃত্তির চাহিদা তখন আর দূর হবে না.”
২৯১. আবু মুহাম্মাদ জারিরি থেকে বর্ণিত আছে, সাহাল ইবনু আবদিল্লাহকে মারিফাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "চরম কষ্ট সহ্য করা ছাড়া কেউ এই স্তরে উপনীত হতে পারে না। তখন প্রবৃত্তির অনুসরণের পরিবর্তে তার বিরোধিতা করেই বেশি মজা পায় মানুষ। এ অবস্থায় চলে এলে সে মারিফাত (আল্লাহর প্রকৃত পরিচয়) অর্জন করতে পারে.”
২৯২. তিনি আরও বলেন, "আমি সাহালকে বলতে শুনেছি: 'যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর আনুগত্য না করে, ততক্ষণ তার রূহ আল্লাহর মারিফাত (প্রকৃত পরিচয়) লাভ করতে পারে না.”

টিকাঃ
[২২৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৮。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00