📄 দুনিয়া-ত্যাগের প্রকারভেদ
২৮০. হাসান ইবনু আমর বলেন, “আমি বিশর ইবনু হারিসকে বলতে শুনেছি : ‘আমি এ জনপদে এমন কাউকে চিনি না, যে নিঃস্বার্থভাবে অন্যকে পার্থিব কিছু দিয়ে থাকে। বরং হয়তো তার থেকে নেওয়ার জন্য কিংবা যা দিয়েছে তারচেয়ে অধিক অর্জনের জন্যই দেয়.”
২৮১. আবুল হুসাইন যানজানি থেকে বর্ণিত আছে, হারিস আল মুহাসিবি বলেছেন: “দুনিয়াকে চেনা সত্ত্বেও তাকে পরিত্যাগ করাটা যাহিদ তথা দুনিয়া-বিরাগীদের বৈশিষ্ট্য। আর দুনিয়াকে ভুলে গিয়ে তা পরিত্যাগ করাটা আরিফদের (আল্লাহকে প্রকৃতভাবে যারা চিনেছেন তাদের) বৈশিষ্ট্য.”
📄 দুনিয়াকে প্রাপ্য মর্যাদার চেয়ে বেশি দিয়ে ফেলা
২৮২. মুহাম্মাদ ইবনু মুয়াবিয়া আল আযরাক থেকে বর্ণিত আছে, উমার ইবনু আবদিল আযীয চিঠি লিখে হাসান বাসরিকে বলেন, “আমাকে সংক্ষেপে কিছু নসীহত করুন.” হাসান বাসরি উত্তরে লিখেন : “দুনিয়া-বিমুখিতা আপনাকে এবং আপনার অধীনে থাকা সকলকেই সংশোধিত করে তুলতে পারে। দুনিয়া-বিমুখিতা অর্জিত হয় ইয়াকীনের মাধ্যমে, ইয়াকীন অর্জিত হয় গভীর চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে, আর গভীর চিন্তা-ভাবনা অর্জিত হয় শিক্ষা।
গ্রহণের মাধ্যমে। দুনিয়ার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করলেই দেখতে পাবেন, দুনিয়া আসলে এমন কোনো বস্তু নয়, যে জন্য নিজেকে বিক্রি করে দিতে হবে। এ লাঞ্ছনাকর দুনিয়াকে সম্মানের পাত্র বানাবেন না। দুনিয়া তো বিপদ- আপদের বাড়ি আর (হায়াত শেষ হয়ে গেলে) বিদায় করে দেওয়ার ঘর.”
২৮৩. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায আর-রাযিকে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়া এমন কিছু নয়, যার জন্য মুহূর্ত পরিমাণ সময় দুশ্চিন্তা করা যায়। তাহলে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের জন্য মানুষ কেন আজীবন দুশ্চিন্তা করে যায়? আপন ভাইবোন এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে?”
টিকাঃ
[২১۶] ইবনুল জাওযী, সীরাতু উমার ইবনু আবদিল আযীয, পৃ. ১৪৬。
📄 গোপন লালসা
২৮৪. কুরআন কারীমে এসেছে: ذَلِكَ لِيَعْلَمَ أَنِّي لَمْ أَخُنْهُ بِالْغَيْبِ "এজন্য, যাতে তিনি (আযীয) জানতে পারেন যে, আমি গোপনে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি.”
আনাস থেকে বর্ণিত আছে, নবি বলেছেন, "জিবরীল তখন ইউসূফ-কে বলেন, 'আপনি (জুলাইখাকে নিয়ে আপনার) চিন্তার কথা স্মরণ করুন.” তখন তিনি বলেন, وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ 'আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দ-কর্মপ্রবণ.'
২৮৫. আব্বাদ ইবনু তামিম তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "আমি নবি -কে বলতে শুনেছি, তিনি তিনবার বলেছেন:
يا نعايا العرب يا نعايا العرب ثلاثا إنَّ أخوف ما أخاف عليكم الرياء وَالشَّهْوَةُ الْخَفِيَّةُ
'হে আরবের ক্ষতিগ্রস্থ লোকেরা! হে আরবের ক্ষতিগ্রস্থ লোকেরা! (কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন) আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি লোক-দেখানোর এবং গোপন প্রবৃত্তির লালসার.”
টিকাঃ
[২১۷] সূরা ইউসূফ, ১২: ৫২。
[২১۸] সূরা ইউসূফ, ১২: ৫৩。
[২১৯] সুয়ুতি, আদ দুররুল মানসূর, ৪/৫৪৯; এই বর্ণনায় মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাইল রয়েছে, যার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন。
[২২۰] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৬/২৫৬。
📄 দুনিয়ার সংজ্ঞা
১৮৬. জাফর ইবনু মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত আছে, জুনাইদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, দুনিয়া আসলে কী। তিনি উত্তরে বলেন, “দুনিয়া বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন ধরনের। আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী এই উন্মুক্ত স্থানটাই কারও কাছে দুনিয়া। আরেক দলের মতে, পার্থিব ভোগবিলাস এবং গান-বাদ্যই হলো দুনিয়া। যেসব বিষয় প্রবৃত্তির নিকটবর্তী, আমার কাছে তা-ই দুনিয়া.”