📄 দুনিয়াকে বিবেচ্য বিষয় না বানানো
২৬৪. আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুনাযিল বলেন, "সালিহ হামদুনের কাছে আমি আর্জি জানাই, 'আমাকে কিছু ওসীয়ত করুন.' তিনি বলেন, 'যদি পার্থিব কোনো কারণে রাগান্বিত না হয়ে থাকতে পারো, তাহলে তা-ই করো.”
টিকাঃ
[২০۳] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/২৩১。
📄 দুনিয়াকে পাওয়ার সঠিক উপায়
২৬৫. মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল মালিক ইবনু হাসান থেকে বর্ণিত আছে, যুননুনকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করে, “দুনিয়া কার জন্য?” তিনি বলেন, “যে তাকে পরিত্যাগ করে দিয়েছে, তার জন্য.” এরপর সে জিজ্ঞেস করে, “তাহলে আখিরাত?” তিনি বলেন, “যে তা সন্ধান করে, তার জন্য.”
টিকাঃ
[২০৪] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৮/২৫১-২৫২。
📄 আল্লাহ-প্রেমিকের লক্ষণ
২৬৬. আবুল হাসান আলি ইবনু লাইস আস সুফি আল ফারগানি বলেন, “শিবলিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আল্লাহ-প্রেমিকের আলামত কী?' তিনি উত্তরে বলেন, 'সে অর্থ সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখবে না.”
📄 ভালো কাজের জন্য প্রসিদ্ধি লাভও বিপদের সম্ভাব্য কারণ
২৬৭. আবুল হাসান আস সায়িগ বলেন, "যারা আল্লাহকে পেতে চায়, তাদের দুই বার দুনিয়া পরিত্যাগ করা উচিত। প্রথমবার দুনিয়ার চাকচিক্য, ভোগবিলাস, রং-বেরঙের খাবার ও পানীয়, মোটকথা ভোগবিলাসের সকল উপকরণ পরিত্যাগ করতে হবে। এর ফলে দেখবেন মানুষের কাছে প্রসিদ্ধ হয়ে যাবে সে। লোকজন তাকে সম্মান করা শুরু করবে। তখন তার উচিত নিজেকে আড়াল করে ফেলা। অন্যথায় মানুষজন তার প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকবে। তাই দুনিয়া পরিত্যাগ করাটা যেন দুনিয়ার লোভের চেয়েও বড় কোনো গুনাহ ও ফিতনার কারণ না হয়ে উঠে, সে জন্যই আড়ালে চলে যেতে হবে তাকে। (আর এটা হলো দ্বিতীয় বারের মতো দুনিয়া পরিত্যাগ.)”
২৬৮. আবূ উমামা বলেন, "নবি একদিন আমাদের যুহরের সালাত পড়িয়ে বাকি' নামক স্থানে যাওয়ার জন্য বের হন। মাসজিদের সকলেই তার পিছু পিছু চলতে থাকে। তিনি চলছিলেন সবার সামনে। বাকি'তে প্রবেশ করেন তিনি। এসময় তার হাতে ছিল খেজুর গাছের একটি কাঁচা ডাল। পেছনের লোকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, 'সামনে যাও, সামনে যাও.' সকলে তা-ই করে। একজন জিজ্ঞেস করে, 'আমরা আপনার পেছনে ছিলাম। সামনে যেতে বললেন যে?' তিনি বলেন, 'পেছনে তোমাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পেয়ে আশঙ্কা হলো, এতে আমার মনে অহংকার চলে আসতে পারে.'”
২৬৯. আবূ উমামা বলেন, “এক প্রচণ্ড গরমের দিন বাকিউল গারকাদ অভিমুখে চলতে থাকেন নবি। সাহাবায়ে কেরامও তাঁর পিছু পিছু চলছিলেন। তাঁদের জুতার আওয়াজ তার কাঁনে আসে। জিনিসটা ভীষণ কষ্টকর মনে হয় তাঁর কাছে। তিনি তখনই বসে যান। তাদের সামনে অগ্রসর করে দেন। অন্তরে যেন কোনো ধরনের অহংকার তৈরি না হয়, সেজন্যই এমন করেছিলেন তিনি.”
টিকাঃ
[২০۵] আবূ আবদির রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৩১৪。
[২০۶] মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ৩/৮৩০; ইমাম দাইলামি এর সনদকে যঈফ বলেছেন。
[২০۷] ইবনু মাজাহ, আস সুনান。