📄 গুনাহ হিসেবে দুনিয়ার মোহেই যথেষ্ট
২৩১. কাসিম ইবনু ফাইদ থেকে বর্ণিত, হাসান বলেছেন: "দুনিয়ার মোহ ছাড়া অন্য কোনো গুনাহ করার আশঙ্কা যদি না-ও থাকত, তবুও আল্লাহর এই আয়াতের কারণেই আমরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়তাম:
تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللهُ يُرِيدُ الآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
'তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা করো, অথচ আল্লাহ চান আখিরাত। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ। সুতরাং, আল্লাহ তাআলা যা চান, আমাদের তা-ই কামনা করা উচিত.”
টিকাঃ
[১৮৬] সূরা আনফাল, ৮: ৬৭。
[১৮৭] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয-যুহদ, ২৮৩。
📄 দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা আল্লাহর ক্রোধের কারণ
২৩২. আবদুর রহমান ইবনু আবী হাউশাব আন নাযরি বলেন, "আমি বেলাল ইবনু সাদকে নসীহত করে বলতে শুনেছি: 'হে রহমানের বান্দাগণ! যদি তোমরা গুনাহ থেকে বিরত থাক, আল্লাহ তাআলার কোনো অবাধ্যতা না করো, তাঁর আনুগত্যের কিছু পরিত্যাগ না করো, শুধু দুনিয়ার ভালোবাসাটা ছাড়তে না পারো, তাহলে জেনে রাখ, দুনিয়ার এ ভালোবাসাই তোমাদের অমঙ্গলে পরিবেষ্টন করে নেবে। তবে যদি আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেন (সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা).”
২৩৩. হুসাইন ইবনু আবদির রহমান থেকে বর্ণিত আছে, ইবনুস সিমাক বলেছেন: "দুনিয়ার মোহ যাকে আপন স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে, জেনে রাখ, পরকাল থেকে বিমুখ থাকায় পরকাল তাকে আপন তিক্ততা গিলিয়ে ছাড়বে.”
২৩৪. ইবরাহীম ইবনু বাশশার আস সুফি বলেন, “এক সুফি এসে ইবরাহীম ইবনু আদহামকে বলে, 'আবূ ইসহাক! বলুন তো, মানুষের অন্তর কেন আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না?' তিনি উত্তরে বলেন, 'কেননা সে এমন বিষয়কে ভালোবাসে, যে কারণে আল্লাহ তাআলা রাগান্বিত হয়ে যান। সে দুনিয়াকে ভালোবাসে, ধোঁকা ও খেল-তামাশার জগতের প্রতি আকৃষ্ট থাকে আর চিরস্থায়ী জীবনের জন্য আমল করা ছেড়ে দেয়। অথচ সে জীবনের নিয়ামাত কখনো নিঃশেষ হওয়ার নয়। তা তো চিরস্থায়ী। সেখানকার রাজত্ব হবে অনন্তকালের, যার কোনো শেষ নেই.”
২৩৫. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “আমি ইবরাহীম ইবনু আদহাম -কে বলতে শুনেছি: ‘যে কাজ তোমার বন্ধুকে রাগান্বিত করে তোলে, তা পছন্দ করাটা ভালোবাসার নিদর্শন হতে পারে না। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিন্দা করেন অথচ আমরা করি তার প্রশংসা। তিনি তা অপছন্দ করেন, কিন্তু আমরা তা পছন্দ করি। তিনি এর বিরাগী কিন্তু আমরা একে প্রাধান্য দিয়ে বসে আছি এবং তা অর্জনে আগ্রহী হয়ে আছি।
তিনি এ দুনিয়া ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবুও আপনারা একে নিজেদের দুর্ভেদ্য দুর্গ বানিয়ে নিয়েছেন। তিনি আপনাদের দুনিয়ার পেছনে ছুটতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু তবুও আপনারা তার পেছনেই ছুটছেন। সম্পদ পুঞ্জিভূত করার ব্যাপারে তিনি আপনাদের সতর্ক করে দিয়েছেন, কিন্তু তবুও আপনারা তা পুঞ্জিভূত করেই যাচ্ছেন।
প্রবৃত্তির কিছু বিষয় আপনাদের এ বোকামির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আর আপনারা তার ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তার মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন। সে আপনাদেরকে স্বপ্ন দেখিয়েছে আর আপনারা তার স্বপ্নে বিভোর হয়ে গেছেন। তার চাকচিক্যে ডুবে পড়েছেন। তার স্বাদ উপভোগ করা শুরু করে দিয়েছেন।
তার ইচ্ছা ও চাহিদার মধ্যেই গড়াগড়ি খাচ্ছেন। তার ময়লা-আবর্জনা দিয়ে নিজেদের নোংরা করে তুলছেন। লোভাতুর থাবা মেরে তার ধন-ভাণ্ডার থেকে সম্পদ আহরণ করছেন। লোভের কুঠার দিয়ে তার খনিগুলো খুঁড়ছেন। উদাসীনতার প্রাসাদ গড়ে তুলছেন তাতে। তার বাসস্থানকে আপনারা মূর্খতার প্রাচীরে বেষ্টন করে তুলেছেন.'”
টিকাঃ
[১৮৮] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১২-১৩。
[১৮৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/২৪。
📄 আমল ও তাওবা-ই চিরস্থায়ী সম্পদ
২৩৬. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “আমি ইবরাহীম ইবনু আদহাম -কে বলতে শুনেছি: 'আমাদের অবস্থা হচ্ছে, আমল বাদ দিয়ে আমরা কিছু শব্দ ও অর্থের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে পড়ে আছি। তাওবা করতে শৈথিল্য করছি। চিরস্থায়ী জীবন ছেড়ে ক্ষণস্থায়ী জীবন নিয়ে পড়ে আছি.”
📄 মালিককে বাদ দিয়ে দাসকে ভালোবাসা
২৩৭. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “আমি ইবরাহীম ইবনু আদহাম -কে বলতে শুনেছি: 'কী হলো আমাদের? আমরা আমাদের মতোই কিছু মানুষের কাছে নিজেদের প্রয়োজনের অভিযোগ করি। কিন্তু আমাদের প্রতিপালকের কাছে সে প্রয়োজনটা পূরণের আবেদন জানাই না। গোল্লায় যাক সে! দুনিয়ার স্বার্থে এক দাস আরেক দাসকে ভালোবাসে। অথচ আপন মনিবের ধন-ভাণ্ডারে যে অঢেল সম্পদ রয়েছে, তার কথা ভুলে যায়!'”
টিকাঃ
[১৯০] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩২。