📄 সকল চিন্তার মূল
২২১. সুফিয়ান ইবনু সাঈদ থেকে বর্ণিত, ঈসা বলতেন: "দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা সকল গুনাহের মূল। আর দুনিয়ার অর্থ-সম্পদের মধ্যে রয়েছে বহু রোগব্যাধি.” তার সঙ্গীগণ তখন জিজ্ঞেস করেন, “সম্পদের রোগব্যাধি কী?” তিনি বলেন, “সম্পদশালী গর্ব এবং অহংকার থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না.” তারা বলেন, “যদি সে নিরাপদ থাকতে পারে, তাহলে?” তিনি বলেন, “তখন সেই অর্থ-সম্পদ সঠিকভাবে ব্যয় করতে গিয়েই সে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে যাবে.”
টিকাঃ
[১৭৫] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/৩৮৮。
📄 দুনিয়ার চিন্তা এবং পরকালের চিন্তা ব্যস্তানুপাতিক
২২২. জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দিনারকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়ার জন্য যত চিন্তা করবে, অন্তর থেকে পরকালের চিন্তা ততো কমে যাবে। আর পরকালের জন্য যে পরিমাণ চিন্তা করবে, অন্তর থেকে দুনিয়ার চিন্তাই সে পরিমাণ দূর হয়ে যাবে.”
২২৩. সাঈদ ইবনু আবদিল আযীয আল হালাবি বলেন, “আমি আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি কামনা ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে দুনিয়ার প্রতি তাকায়, আল্লাহ তাআলা তার অন্তর থেকে ইয়াকীনের নূর এবং দুনিয়া-বিমুখতা বের করে দেন.”
২২৪. জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দিনার-কে বলতে শুনেছি : 'শরীর অসুস্থ হয়ে পড়লে খাবার-পানীয়, ঘুম, শান্তি কোনো কিছুই কাজে আসে না। তেমনিভাবে অন্তরে দুনিয়ার ভালোবাসা স্থান লাভ করলে উপদেশ, নসীহত আর অন্তরে প্রভাব ফেলতে পারে না.”
২২৫. জাফর থেকে বর্ণিত আছে, মালিক ইবনু দিনার বলেছেন: “কোনো এক আহলে ইলম বলেছেন, 'আমি সকল গুনাহের মূলের প্রতি লক্ষ করেছি। যতবারই বিষয়টা পরীক্ষা করেছি, ততোবারই দেখেছি সম্পদের ভালোবাসাই হলো সকল গুনাহের মূল। তাই যে ব্যক্তি অন্তর থেকে সম্পদের ভালোবাসা দূর করে ফেলতে পারে, সে-ই শান্তি লাভ করতে পারে.”
২২৬. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “আমি আবূ সুলাইমানকে বলতে শুনেছি : যদি কারও অন্তরে দুনিয়া স্থান লাভ করে, তাহলে সেখান থেকে আখিরাত বিদায় হয়ে যায়.”
২২৭. মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল বলেন, "আমি ফুযাইল ইবনু ইয়াযকে বলতে শুনেছি: 'পার্থিব হতাশা অন্তর থেকে পরকালের চিন্তা দূর করে দেয়, আর পার্থিব আনন্দ ইবাদাতের মিষ্টতা নিঃশেষ করে দেয়.”
টিকাঃ
[১৭৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয-যুহদ, ৩১৯。
[১৭৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/৬。
[১৭৮] ইবনু আসাকির, তারিখু দিমাশক, ৩/১৪৬。
[১৭৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/৩৮১。
[১৮০] আবূ আব্দুর রহমান আস সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ৭৭。
[১৮۱] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১০০。
📄 পরকালের প্রস্তুতিতে দেরি না করা
২২৮. ইয়াকুব ইবনু আবদির রহমান বলেন, "আমি আবূ হাযিমকে বলতে শুনেছি: 'পরকালের বহু বিষয় থেকে বিমুখ করে দিয়েই দুনিয়া আপন পথ চলে থাকে.' তিনি আরও বলেন, 'এমন বহু মানুষের দেখা পাবে, যারা অন্যের জন্য এতটাই চিন্তা করে যে, সে লোকটা নিজের জন্যও ততোটা চিন্তা করে না.”
তিনি আরও বলেন, "পরকালে যে আমলটা সাথে নিতে পছন্দ করো, আজই তা করে ফেল। আর যেই কাজকে পরকালে নিজের সাথে রাখতে চাও না, আজই তা পরিত্যাগ করো.”
তিনি আরও বলেন, “যে কাজ করে মৃত্যুবরণ করাটা তোমার নিকট অপছন্দনীয় মনে হয়, এখনই সেটা ছেড়ে দাও। এরপর যখনই মৃত্যু চলে আসুক, তাতে কোনো সমস্যা হবে না."
টিকাঃ
[১৮۲] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/২৩০。
[১৮۳] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/২৩৮。
[১৮৪] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/২৩৯。
📄 দুনিয়ানুরাগ মানেই গুনাহগার
২২৯. আনাস থেকে বর্ণিত আছে, নবি বলেন : “এমন কেউ কি আছে, যে পানিতে হাঁটবে কিন্তু তার পা ভিজবে না?” সাহাবায়ে কেরام বলেন, “জ্বি না.” নবি বলেন, “তেমনিভাবে দুনিয়াদারও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারে না."
টিকাঃ
[১৮৫] সুয়ুতি, আল জামে, ২/১৮২, সনদ যঈফ。